লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশে সার উৎপাদন বাড়াতে নতুন তিনটি কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা

দেশে সার উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে এবং আমদানি নির্ভরতা কমাতে নতুন তিনটি সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) এই উদ্যোগের আওতায় ভোলায় দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতার একটি ইউরিয়া কারখানা, চট্টগ্রামে বছরে ৪ লাখ মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতার একটি টিএসপি কারখানা এবং নরসিংদীর পলাশে বছরে ২৪ হাজার মেট্রিক টন ক্ষমতার ইউরিয়া ফরমালডিহাইড-৮৫ (ইউএফ-৮৫) কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে কৃষি খাতে সারের সরবরাহ জোরদার হবে এবং শিল্প খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে সার উৎপাদন ২৭ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বিসিআইসি। বর্তমানে বিসিআইসির অধীনে পাঁচটি ইউরিয়া ও দুটি নন-ইউরিয়া সার কারখানা রয়েছে, যা দেশের চাহিদার তুলনায় অপর্যাপ্ত। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ইউরিয়া সারের চাহিদা ২৬ লাখ মেট্রিক টন হলেও সংস্থাটি উৎপাদন করেছে ১১ লাখ ৭৩২ দশমিক ৫০ মেট্রিক টন, যা চাহিদার ৪২ দশমিক ৩৪ শতাংশ। একই অর্থবছরে দেশে টিএসপি ও ডিএপি সারের চাহিদা ছিল যথাক্রমে সাত লাখ ৫০ হাজার এবং ১৪ লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন। বিপরীতে বিসিআইসির কারখানাগুলোতে উৎপাদন হয়েছে যথাক্রমে ৬৮ হাজার ২৫৯ ও ৮২ হাজার ১৪২ মেট্রিক টন সার, যা মোট চাহিদার ৯.১০ শতাংশ ও ৫.৫৩ শতাংশ। অর্থাৎ চাহিদার অধিকাংশই পূরণ করা হচ্ছে আমদানির মাধ্যমে।

সরকার প্রতি মেট্রিক টন ইউরিয়া সারে ২৩ হাজার টাকা, টিএসপি সারে ৪৯ হাজার ১৭০ টাকা এবং ডিএপি সারে ৯৮ হাজার ৮৪০ টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। এই ভর্তুকির চাপ কমাতে এবং বিদ্যমান কারখানাগুলোর আধুনিকায়নের পাশাপাশি নতুন স্থাপনাগুলোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা জানান, ভোলায় কারখানাটি চালু রাখতে দৈনিক ৪৫ থেকে ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হবে, তাই পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। এছাড়া চট্টগ্রামের টিএসপি কমপ্লেক্সের অব্যবহৃত জায়গায় নতুন কারখানাটি স্থাপনের মাধ্যমে উৎপাদন সংকট কাটানোর লক্ষ্য রয়েছে। পলাশে ইউএফ-৮৫ কারখানাটি স্থাপনের ক্ষেত্রেও বিদ্যমান অবকাঠামো ও অব্যবহৃত জমি কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে প্রকৌশলী, প্রযুক্তিবিদ ও দক্ষ শ্রমিকসহ বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে প্রকল্পের চূড়ান্ত নকশা ও জনবল কাঠামো নির্ধারণের পরেই কর্মসংস্থানের সঠিক সংখ্যা জানা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বিসিআইসি চেয়ারম্যান।

জনপ্রিয় সংবাদ

সিলেট টেস্ট: ৩৫৬ রানে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ওপেনিংয়ে নাঈমের অভিষেক

দেশে সার উৎপাদন বাড়াতে নতুন তিনটি কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:৩০:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

দেশে সার উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে এবং আমদানি নির্ভরতা কমাতে নতুন তিনটি সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) এই উদ্যোগের আওতায় ভোলায় দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতার একটি ইউরিয়া কারখানা, চট্টগ্রামে বছরে ৪ লাখ মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতার একটি টিএসপি কারখানা এবং নরসিংদীর পলাশে বছরে ২৪ হাজার মেট্রিক টন ক্ষমতার ইউরিয়া ফরমালডিহাইড-৮৫ (ইউএফ-৮৫) কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে কৃষি খাতে সারের সরবরাহ জোরদার হবে এবং শিল্প খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে সার উৎপাদন ২৭ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বিসিআইসি। বর্তমানে বিসিআইসির অধীনে পাঁচটি ইউরিয়া ও দুটি নন-ইউরিয়া সার কারখানা রয়েছে, যা দেশের চাহিদার তুলনায় অপর্যাপ্ত। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ইউরিয়া সারের চাহিদা ২৬ লাখ মেট্রিক টন হলেও সংস্থাটি উৎপাদন করেছে ১১ লাখ ৭৩২ দশমিক ৫০ মেট্রিক টন, যা চাহিদার ৪২ দশমিক ৩৪ শতাংশ। একই অর্থবছরে দেশে টিএসপি ও ডিএপি সারের চাহিদা ছিল যথাক্রমে সাত লাখ ৫০ হাজার এবং ১৪ লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন। বিপরীতে বিসিআইসির কারখানাগুলোতে উৎপাদন হয়েছে যথাক্রমে ৬৮ হাজার ২৫৯ ও ৮২ হাজার ১৪২ মেট্রিক টন সার, যা মোট চাহিদার ৯.১০ শতাংশ ও ৫.৫৩ শতাংশ। অর্থাৎ চাহিদার অধিকাংশই পূরণ করা হচ্ছে আমদানির মাধ্যমে।

সরকার প্রতি মেট্রিক টন ইউরিয়া সারে ২৩ হাজার টাকা, টিএসপি সারে ৪৯ হাজার ১৭০ টাকা এবং ডিএপি সারে ৯৮ হাজার ৮৪০ টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। এই ভর্তুকির চাপ কমাতে এবং বিদ্যমান কারখানাগুলোর আধুনিকায়নের পাশাপাশি নতুন স্থাপনাগুলোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা জানান, ভোলায় কারখানাটি চালু রাখতে দৈনিক ৪৫ থেকে ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হবে, তাই পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। এছাড়া চট্টগ্রামের টিএসপি কমপ্লেক্সের অব্যবহৃত জায়গায় নতুন কারখানাটি স্থাপনের মাধ্যমে উৎপাদন সংকট কাটানোর লক্ষ্য রয়েছে। পলাশে ইউএফ-৮৫ কারখানাটি স্থাপনের ক্ষেত্রেও বিদ্যমান অবকাঠামো ও অব্যবহৃত জমি কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে প্রকৌশলী, প্রযুক্তিবিদ ও দক্ষ শ্রমিকসহ বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে প্রকল্পের চূড়ান্ত নকশা ও জনবল কাঠামো নির্ধারণের পরেই কর্মসংস্থানের সঠিক সংখ্যা জানা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বিসিআইসি চেয়ারম্যান।