লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইন্দোনেশিয়ার দাবানল নেভাতে সামরিক বিমান পাঠাল অস্ট্রেলিয়া

ইন্দোনেশিয়ার বোর্নিও দ্বীপে কয়েক মাস ধরে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে সহায়তার জন্য সামরিক পরিবহন বিমান পাঠিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। দীর্ঘস্থায়ী এসব দাবানলের ধোঁয়া ও বিষাক্ত কুয়াশা প্রতিবেশী দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ছে, যা জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে এবং দেশগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি করেছে।

ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাজধানী জাকার্তা থেকে সি-১৩০ হারকিউলিস মডেলের একটি সামরিক পরিবহন বিমান পূর্ব কালিমান্তান প্রদেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। সংস্থাটির প্রধান ক্রিস্টোমেই সিয়ান্তুরি বৃহস্পতিবার রাতে এক বিবৃতিতে জানান, অস্ট্রেলিয়ার কারিগরি দলের সঙ্গে পর্যালোচনা ও পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে দেখা গেছে যে, পূর্ব কালিমান্তান অঞ্চলের অনেক এলাকায় এখনো আগুন জ্বলছে। এই বিমানটি স্থানীয়ভাবে পানি ছিটিয়ে আগুন নেভানোর অভিযানে অংশ নেবে।

ইন্দোনেশিয়ায় অবস্থিত অস্ট্রেলীয় দূতাবাসের তথ্যমতে, সি-১৩০ বিমানটি প্রতিবার উড্ডয়নে ১৫ হাজার লিটার পানি ছিটাতে সক্ষম। দিনে একাধিকবার অভিযান চালিয়ে এটি এক লাখ লিটারেরও বেশি পানি ফেলতে পারবে। এই অভিযানে সহায়তার জন্য অস্ট্রেলিয়া একটি সেসনা সাইটেশন উড়োজাহাজও পাঠাচ্ছে, যা মূল বিমানকে পথ দেখানোর কাজ করবে। এছাড়া পাইলট ও প্যারামেডিকসহ ২০ সদস্যের একটি বিশেষ দলও পাঠানো হয়েছে। এই বিমান অভিযান আগামী ৬ থেকে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত সাত দিন ধরে চলার কথা রয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ায় নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রদূত রড ব্রেজিয়ার জানান, দুই দেশ দীর্ঘদিনের বন্ধু। তিনি ২০২০ সালে অস্ট্রেলিয়ার ভয়াবহ দাবানল মোকাবিলায় ইন্দোনেশিয়ার সহায়তার কথা স্মরণ করেন। নুসান্তারা অ্যাটলাসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে দাবানলে ১৯ লাখ হেক্টরের বেশি জমি পুড়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জমি পরিষ্কারের জন্য গাছপালা কেটে আগুন দেওয়ার প্রচলিত পদ্ধতি এবং কাঠ, পাম অয়েল ও খনি ব্যবসার সম্প্রসারণ এর অন্যতম কারণ।

ইন্দোনেশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বুধবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে সৃষ্ট শ্বাসকষ্ট ও অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় চার লাখের বেশি মানুষ চিকিৎসা নিয়েছেন। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে জাপানও পশ্চিম কালিমান্তান অঞ্চলে দাবানল নিয়ন্ত্রণে সহায়তার জন্য ৩৫০ জন সেলফ-ডিফেন্স ফোর্সের সদস্য ও তিনটি হেলিকপ্টার পাঠিয়েছিল।

জনপ্রিয় সংবাদ

চবির হীরক জয়ন্তী সর্বজনীন করতে ছাত্রশিবিরের ১২ দফা দাবি

ইন্দোনেশিয়ার দাবানল নেভাতে সামরিক বিমান পাঠাল অস্ট্রেলিয়া

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:০৩:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

ইন্দোনেশিয়ার বোর্নিও দ্বীপে কয়েক মাস ধরে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে সহায়তার জন্য সামরিক পরিবহন বিমান পাঠিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। দীর্ঘস্থায়ী এসব দাবানলের ধোঁয়া ও বিষাক্ত কুয়াশা প্রতিবেশী দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ছে, যা জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে এবং দেশগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি করেছে।

ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাজধানী জাকার্তা থেকে সি-১৩০ হারকিউলিস মডেলের একটি সামরিক পরিবহন বিমান পূর্ব কালিমান্তান প্রদেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। সংস্থাটির প্রধান ক্রিস্টোমেই সিয়ান্তুরি বৃহস্পতিবার রাতে এক বিবৃতিতে জানান, অস্ট্রেলিয়ার কারিগরি দলের সঙ্গে পর্যালোচনা ও পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে দেখা গেছে যে, পূর্ব কালিমান্তান অঞ্চলের অনেক এলাকায় এখনো আগুন জ্বলছে। এই বিমানটি স্থানীয়ভাবে পানি ছিটিয়ে আগুন নেভানোর অভিযানে অংশ নেবে।

ইন্দোনেশিয়ায় অবস্থিত অস্ট্রেলীয় দূতাবাসের তথ্যমতে, সি-১৩০ বিমানটি প্রতিবার উড্ডয়নে ১৫ হাজার লিটার পানি ছিটাতে সক্ষম। দিনে একাধিকবার অভিযান চালিয়ে এটি এক লাখ লিটারেরও বেশি পানি ফেলতে পারবে। এই অভিযানে সহায়তার জন্য অস্ট্রেলিয়া একটি সেসনা সাইটেশন উড়োজাহাজও পাঠাচ্ছে, যা মূল বিমানকে পথ দেখানোর কাজ করবে। এছাড়া পাইলট ও প্যারামেডিকসহ ২০ সদস্যের একটি বিশেষ দলও পাঠানো হয়েছে। এই বিমান অভিযান আগামী ৬ থেকে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত সাত দিন ধরে চলার কথা রয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ায় নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রদূত রড ব্রেজিয়ার জানান, দুই দেশ দীর্ঘদিনের বন্ধু। তিনি ২০২০ সালে অস্ট্রেলিয়ার ভয়াবহ দাবানল মোকাবিলায় ইন্দোনেশিয়ার সহায়তার কথা স্মরণ করেন। নুসান্তারা অ্যাটলাসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে দাবানলে ১৯ লাখ হেক্টরের বেশি জমি পুড়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জমি পরিষ্কারের জন্য গাছপালা কেটে আগুন দেওয়ার প্রচলিত পদ্ধতি এবং কাঠ, পাম অয়েল ও খনি ব্যবসার সম্প্রসারণ এর অন্যতম কারণ।

ইন্দোনেশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বুধবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে সৃষ্ট শ্বাসকষ্ট ও অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় চার লাখের বেশি মানুষ চিকিৎসা নিয়েছেন। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে জাপানও পশ্চিম কালিমান্তান অঞ্চলে দাবানল নিয়ন্ত্রণে সহায়তার জন্য ৩৫০ জন সেলফ-ডিফেন্স ফোর্সের সদস্য ও তিনটি হেলিকপ্টার পাঠিয়েছিল।