লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জ্বালানি সংকটে কোনো পোশাক কারখানা বন্ধ হয়নি: বিজিএমইএ

সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের তৈরি পোশাক খাতে এখন পর্যন্ত কোনো কারখানা বন্ধ হয়নি বলে জানিয়েছে পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)। তবে এই সংকটের প্রকৃত প্রভাব ও অভিঘাত বুঝতে আরও অন্তত তিন থেকে চার মাস সময় লাগবে। একই সঙ্গে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির আগের চেয়ে উন্নতি হয়েছে বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। ‘বাটেক্সপো ২০২৬’, হংকং রোডশো এবং পোশাক খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, গত কয়েক দিনের তুলনায় এখন গ্যাসের সরবরাহ ও চাপ বেড়েছে। বিদ্যুৎ বা জ্বালানি সংকটের কারণে কোনো কারখানা বন্ধ হওয়ার তথ্য তাদের কাছে নেই। তিনি ব্যাখ্যা করেন, পোশাকশিল্পে যেকোনো সংকটের প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে দেখা যায় না। একটি কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত একদিনে নেওয়া সম্ভব নয়। পাইপলাইনে থাকা ক্রয়াদেশ শেষ করা, শ্রমিকদের আইনগত ক্ষতিপূরণ এবং ব্যাংকের দায়-দেনা পরিশোধসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে একটি কারখানা বন্ধ করতে প্রায় ছয় মাসের পরিকল্পনার প্রয়োজন হয়। তাই ছয় মাস বা এক বছর আগের কোনো সমস্যার কারণে এখন কোনো কারখানা বন্ধ হলে, সেটিকে বর্তমান জ্বালানি সংকটের কারণ হিসেবে গণ্য করা ঠিক হবে না।

জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে মাহমুদ হাসান খান বলেন, গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় ডাইং, ওয়াশিংসহ ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ খাতগুলো মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। সম্প্রতি ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পর শিল্পে গ্যাস সরবরাহ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার ঘোষণা কার্যকর করা হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে পোশাক কারখানাগুলো সাধারণত ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা চলে। কিন্তু গ্যাস সংকটের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানকে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে হয়েছে এবং অতিরিক্ত প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সময় ব্যয় করতে হয়েছে। এতে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বাড়লেও উদ্যোক্তারা সময়মতো পণ্য পাঠাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন।

গ্যাস সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি একটি পরিকল্পনা জমা দিয়েছে বিজিএমইএ। এটি বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী দুই বছরের মধ্যে জ্বালানি সমস্যার বড় সমাধান সম্ভব বলে মনে করেন সংগঠনটির নেতারা। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিএমইএ অতিরিক্ত দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপনের দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য স্থলভিত্তিক (ল্যান্ড-বেইজড) স্টোরেজ টার্মিনাল নির্মাণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। চীনের সঙ্গে জি-টু-জি ভিত্তিতে একটি এফএসআরইউ আনার চুক্তি হলেও বিজিএমইএ মনে করে, বিতরণব্যবস্থা ঠিক না করে কেবল এফএসআরইউ বাড়ালে সুফল মিলবে না। তাই গ্যাস বিতরণ লাইনের উন্নয়নও সমান্তরালভাবে করতে হবে।

এছাড়া ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) কারখানায় গ্যাস সংযোগ ও রেশনিংয়ে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, ১০০ থেকে ৫০০ পিএসআই বয়লারসম্পন্ন কারখানায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সংযোগ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে কম সুদের ‘গ্রিন লোন’ এবং উপকূলীয় এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধান দ্রুত জোরদার করার দাবি জানিয়েছে বিজিএমইএ। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের বিষয়ে মাহমুদ হাসান খান জানান, ২০১৯ সাল থেকে তার নিজস্ব প্রতিষ্ঠানে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে, যার ক্ষমতা প্রায় ১৪ মেগাওয়াট। সদস্য কারখানাগুলোতে বড় পরিসরে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি রিটার্ন ও সুদের হার বড় চ্যালেঞ্জ। এ জন্য কম সুদের গ্রিন ফাইন্যান্সের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন বা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের বিষয়ে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, জাতিসংঘে বাংলাদেশের উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর পেছানোর সরকারি উদ্যোগ ব্যবসায়ীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চলতি মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এটি পাস হবে বলে তারা আশাবাদী। অতিরিক্ত তিন বছর সময় পাওয়া গেলে এলডিসি-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতি সহজ হবে। এ লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) নেতৃত্বাধীন কমিটিতে বেসরকারি খাতকে যুক্ত করা হয়েছে। এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে জিএসপি প্লাস নয়, বরং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে আলোচনা অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছে। পাশাপাশি ব্যবসা সহজ করতে কোম্পানি ও কাস্টমস আইন আধুনিকায়ন, দ্রুত এফটিএ/ইপিএ চুক্তি এবং রপ্তানি খাতে অন্তত পাঁচ বছরের জন্য বিশেষ নীতিগত সহায়তা ও শুল্ক-কর কাঠামোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখার দাবি জানিয়েছে বিজিএমইএ।

রপ্তানি বাজার বহুমুখীকরণের বিষয়ে বিজিএমইএ জানায়, বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানির মধ্যে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার আসে প্রথাগত বাজার (যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ ও কানাডা) ছাড়া অন্যান্য নতুন বাজার থেকে। জাপানের বাজারে রপ্তানি বাড়াতে বিজিএমইএ একটি ‘জাপান ডেস্ক’ চালু করতে যাচ্ছে, যেখানে জাপানি ভাষায় দক্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে জাপানে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়, যা আগামী দিনে ২ থেকে ২.৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। এছাড়া বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পকে কম দামের পণ্য উৎপাদনকারী হিসেবে নয়, বরং আধুনিক ও উদ্ভাবননির্ভর শিল্প হিসেবে তুলে ধরতে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের সঙ্গে একটি কৌশলগত চুক্তি সই করেছে বিজিএমইএ।

জনপ্রিয় সংবাদ

টিসিবির ডিজিটাল রূপান্তর উদ্বোধন করলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির

জ্বালানি সংকটে কোনো পোশাক কারখানা বন্ধ হয়নি: বিজিএমইএ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:৫৯:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের তৈরি পোশাক খাতে এখন পর্যন্ত কোনো কারখানা বন্ধ হয়নি বলে জানিয়েছে পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)। তবে এই সংকটের প্রকৃত প্রভাব ও অভিঘাত বুঝতে আরও অন্তত তিন থেকে চার মাস সময় লাগবে। একই সঙ্গে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির আগের চেয়ে উন্নতি হয়েছে বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। ‘বাটেক্সপো ২০২৬’, হংকং রোডশো এবং পোশাক খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, গত কয়েক দিনের তুলনায় এখন গ্যাসের সরবরাহ ও চাপ বেড়েছে। বিদ্যুৎ বা জ্বালানি সংকটের কারণে কোনো কারখানা বন্ধ হওয়ার তথ্য তাদের কাছে নেই। তিনি ব্যাখ্যা করেন, পোশাকশিল্পে যেকোনো সংকটের প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে দেখা যায় না। একটি কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত একদিনে নেওয়া সম্ভব নয়। পাইপলাইনে থাকা ক্রয়াদেশ শেষ করা, শ্রমিকদের আইনগত ক্ষতিপূরণ এবং ব্যাংকের দায়-দেনা পরিশোধসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে একটি কারখানা বন্ধ করতে প্রায় ছয় মাসের পরিকল্পনার প্রয়োজন হয়। তাই ছয় মাস বা এক বছর আগের কোনো সমস্যার কারণে এখন কোনো কারখানা বন্ধ হলে, সেটিকে বর্তমান জ্বালানি সংকটের কারণ হিসেবে গণ্য করা ঠিক হবে না।

জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে মাহমুদ হাসান খান বলেন, গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় ডাইং, ওয়াশিংসহ ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ খাতগুলো মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। সম্প্রতি ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পর শিল্পে গ্যাস সরবরাহ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার ঘোষণা কার্যকর করা হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে পোশাক কারখানাগুলো সাধারণত ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা চলে। কিন্তু গ্যাস সংকটের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানকে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে হয়েছে এবং অতিরিক্ত প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সময় ব্যয় করতে হয়েছে। এতে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বাড়লেও উদ্যোক্তারা সময়মতো পণ্য পাঠাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন।

গ্যাস সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি একটি পরিকল্পনা জমা দিয়েছে বিজিএমইএ। এটি বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী দুই বছরের মধ্যে জ্বালানি সমস্যার বড় সমাধান সম্ভব বলে মনে করেন সংগঠনটির নেতারা। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিএমইএ অতিরিক্ত দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপনের দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য স্থলভিত্তিক (ল্যান্ড-বেইজড) স্টোরেজ টার্মিনাল নির্মাণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। চীনের সঙ্গে জি-টু-জি ভিত্তিতে একটি এফএসআরইউ আনার চুক্তি হলেও বিজিএমইএ মনে করে, বিতরণব্যবস্থা ঠিক না করে কেবল এফএসআরইউ বাড়ালে সুফল মিলবে না। তাই গ্যাস বিতরণ লাইনের উন্নয়নও সমান্তরালভাবে করতে হবে।

এছাড়া ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) কারখানায় গ্যাস সংযোগ ও রেশনিংয়ে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, ১০০ থেকে ৫০০ পিএসআই বয়লারসম্পন্ন কারখানায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সংযোগ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে কম সুদের ‘গ্রিন লোন’ এবং উপকূলীয় এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধান দ্রুত জোরদার করার দাবি জানিয়েছে বিজিএমইএ। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের বিষয়ে মাহমুদ হাসান খান জানান, ২০১৯ সাল থেকে তার নিজস্ব প্রতিষ্ঠানে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে, যার ক্ষমতা প্রায় ১৪ মেগাওয়াট। সদস্য কারখানাগুলোতে বড় পরিসরে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি রিটার্ন ও সুদের হার বড় চ্যালেঞ্জ। এ জন্য কম সুদের গ্রিন ফাইন্যান্সের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন বা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের বিষয়ে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, জাতিসংঘে বাংলাদেশের উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর পেছানোর সরকারি উদ্যোগ ব্যবসায়ীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চলতি মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এটি পাস হবে বলে তারা আশাবাদী। অতিরিক্ত তিন বছর সময় পাওয়া গেলে এলডিসি-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতি সহজ হবে। এ লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) নেতৃত্বাধীন কমিটিতে বেসরকারি খাতকে যুক্ত করা হয়েছে। এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে জিএসপি প্লাস নয়, বরং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে আলোচনা অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছে। পাশাপাশি ব্যবসা সহজ করতে কোম্পানি ও কাস্টমস আইন আধুনিকায়ন, দ্রুত এফটিএ/ইপিএ চুক্তি এবং রপ্তানি খাতে অন্তত পাঁচ বছরের জন্য বিশেষ নীতিগত সহায়তা ও শুল্ক-কর কাঠামোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখার দাবি জানিয়েছে বিজিএমইএ।

রপ্তানি বাজার বহুমুখীকরণের বিষয়ে বিজিএমইএ জানায়, বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানির মধ্যে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার আসে প্রথাগত বাজার (যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ ও কানাডা) ছাড়া অন্যান্য নতুন বাজার থেকে। জাপানের বাজারে রপ্তানি বাড়াতে বিজিএমইএ একটি ‘জাপান ডেস্ক’ চালু করতে যাচ্ছে, যেখানে জাপানি ভাষায় দক্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে জাপানে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়, যা আগামী দিনে ২ থেকে ২.৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। এছাড়া বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পকে কম দামের পণ্য উৎপাদনকারী হিসেবে নয়, বরং আধুনিক ও উদ্ভাবননির্ভর শিল্প হিসেবে তুলে ধরতে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের সঙ্গে একটি কৌশলগত চুক্তি সই করেছে বিজিএমইএ।