লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৬:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আগস্টে মূল্যস্ফীতি কমে ৮.২৬ শতাংশ, ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন

দেশের বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ কমার ধারা অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, টানা তিন মাস কমে গত আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে, যা বিগত ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, এর আগের মাস জুলাইয়ে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতি কমেছে শূন্য দশমিক ০৬ শতাংশীয় পয়েন্ট। তার আগে গত জুনে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ এবং মে মাসে ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ। মে মাসের সেই সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ থেকে পরবর্তী তিন মাসে মূল্যস্ফীতি কমেছে ১ দশমিক ১৬ শতাংশীয় পয়েন্ট।

বিগত মাসগুলোর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালের নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। এরপর ডিসেম্বরে তা বেড়ে ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশে দাঁড়ায়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ এবং ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯ দশমিক ১৩ শতাংশে। মার্চে কিছুটা কমে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ হলেও এপ্রিলে তা আবার বেড়ে ৯ দশমিক ০৪ শতাংশে পৌঁছায়। মে মাসে সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে ওঠার পর থেকে এটি ধারাবাহিকভাবে কমছে।

আগস্টে মূল্যস্ফীতি কমার পেছনে প্রধান চালিকাশক্তি ছিল খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার গতি কমে আসা। এ মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে ৭ দশমিক ০২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা জুলাইয়ে ছিল ৭ দশমিক ১৬ শতাংশ। গত বছরের আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ৬০ শতাংশ। ফলে খাদ্য মূল্যস্ফীতিও টানা দ্বিতীয় মাসের মতো হ্রাস পেল এবং তা গত বছরের একই সময়ের চেয়েও নিচে রয়েছে।

অঞ্চলভেদে গ্রাম ও শহর উভয় এলাকাতেই আগস্টে মূল্যস্ফীতি কমেছে। গ্রামাঞ্চলে জুলাইয়ের ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে কমে আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩১ শতাংশে। একই সময়ে শহরাঞ্চলে তা ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ৮ দশমিক ২০ শতাংশ।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাজারে পণ্যের সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির পাশাপাশি সরকারের নেওয়া বিভিন্ন নীতিগত পদক্ষেপ মূল্যচাপ কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর উৎসে কর কমানো হয়েছে। এছাড়া নিম্নআয়ের মানুষের সহায়তায় ওএমএস কার্যক্রম ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি তুলনামূলক কম দামে আমদানি করা কিছু পণ্য ভর্তুকি ছাড়াই বাজারে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। আগস্টের ৮ দশমিক ২৬ শতাংশের এই ধারা সেই লক্ষ্য অর্জনের দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, মূল্যস্ফীতি কমার অর্থ এই নয় যে বাজারে পণ্যের দাম কমে গেছে; বরং এর অর্থ হলো আগের চেয়ে পণ্যের দাম বাড়ার গতি কিছুটা ধীর হয়েছে। ফলে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত উভয় খাতেই মূল্যচাপ আরও কমিয়ে আনার চ্যালেঞ্জটি এখনো রয়ে গেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারি চাকরিতে উচ্চতর গ্রেডে যাওয়ার নতুন নিয়ম চালু

আগস্টে মূল্যস্ফীতি কমে ৮.২৬ শতাংশ, ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন

প্রকাশিত হয়েছে: ১১:০৪:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ কমার ধারা অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, টানা তিন মাস কমে গত আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে, যা বিগত ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, এর আগের মাস জুলাইয়ে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতি কমেছে শূন্য দশমিক ০৬ শতাংশীয় পয়েন্ট। তার আগে গত জুনে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ এবং মে মাসে ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ। মে মাসের সেই সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ থেকে পরবর্তী তিন মাসে মূল্যস্ফীতি কমেছে ১ দশমিক ১৬ শতাংশীয় পয়েন্ট।

বিগত মাসগুলোর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালের নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। এরপর ডিসেম্বরে তা বেড়ে ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশে দাঁড়ায়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ এবং ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯ দশমিক ১৩ শতাংশে। মার্চে কিছুটা কমে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ হলেও এপ্রিলে তা আবার বেড়ে ৯ দশমিক ০৪ শতাংশে পৌঁছায়। মে মাসে সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে ওঠার পর থেকে এটি ধারাবাহিকভাবে কমছে।

আগস্টে মূল্যস্ফীতি কমার পেছনে প্রধান চালিকাশক্তি ছিল খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার গতি কমে আসা। এ মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে ৭ দশমিক ০২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা জুলাইয়ে ছিল ৭ দশমিক ১৬ শতাংশ। গত বছরের আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ৬০ শতাংশ। ফলে খাদ্য মূল্যস্ফীতিও টানা দ্বিতীয় মাসের মতো হ্রাস পেল এবং তা গত বছরের একই সময়ের চেয়েও নিচে রয়েছে।

অঞ্চলভেদে গ্রাম ও শহর উভয় এলাকাতেই আগস্টে মূল্যস্ফীতি কমেছে। গ্রামাঞ্চলে জুলাইয়ের ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে কমে আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩১ শতাংশে। একই সময়ে শহরাঞ্চলে তা ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ৮ দশমিক ২০ শতাংশ।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাজারে পণ্যের সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির পাশাপাশি সরকারের নেওয়া বিভিন্ন নীতিগত পদক্ষেপ মূল্যচাপ কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর উৎসে কর কমানো হয়েছে। এছাড়া নিম্নআয়ের মানুষের সহায়তায় ওএমএস কার্যক্রম ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি তুলনামূলক কম দামে আমদানি করা কিছু পণ্য ভর্তুকি ছাড়াই বাজারে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। আগস্টের ৮ দশমিক ২৬ শতাংশের এই ধারা সেই লক্ষ্য অর্জনের দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, মূল্যস্ফীতি কমার অর্থ এই নয় যে বাজারে পণ্যের দাম কমে গেছে; বরং এর অর্থ হলো আগের চেয়ে পণ্যের দাম বাড়ার গতি কিছুটা ধীর হয়েছে। ফলে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত উভয় খাতেই মূল্যচাপ আরও কমিয়ে আনার চ্যালেঞ্জটি এখনো রয়ে গেছে।