লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আট দফা দাবিতে আজ রংপুর অভিমুখে ১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চ

আট দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের রংপুর অভিমুখী লংমার্চ আজ শনিবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চের পর এটি এই জোটের দ্বিতীয় বড় কর্মসূচি। এবারের লংমার্চে জোটটি উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়নের বিষয়টি যুক্ত করেছে।

জোটের নেতাদের প্রত্যাশা, চট্টগ্রামমুখী লংমার্চের চেয়ে রংপুরমুখী কর্মসূচিতে মানুষের সাড়া বেশি পাওয়া যাবে। রংপুর জিলা স্কুল মাঠে আয়োজিত সমাপনী সমাবেশে তিন থেকে পাঁচ লাখ মানুষের সমাগম হবে বলে তাঁরা আশা করছেন। ঢাকা থেকে শুরু হওয়া এই গাড়িবহর পথে বিভিন্ন জেলা থেকে আরও গাড়ি যুক্ত হয়ে সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন জোটের নেতারা। এছাড়া লংমার্চের কারণে সাধারণ মানুষের সম্ভাব্য দুর্ভোগের জন্য জোটের পক্ষ থেকে আগাম দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।

১১-দলীয় ঐক্যের সূত্র অনুযায়ী, রংপুর বিভাগে তাদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অবস্থান বেশ শক্তিশালী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনের মধ্যে জামায়াত ১৭টি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ২টি আসনে জয়ী হয়েছিল। জোটগতভাবে ১৯টি আসনে জয়লাভ করায় এই অঞ্চলকে তারা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। লংমার্চে তারা দুর্নীতি, দখলবাজি ও চাঁদাবাজি বন্ধের পাশাপাশি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিকে সামনে নিয়ে এসেছে। এর আগে চট্টগ্রামমুখী লংমার্চে ছয় দফা দাবি ছিল—গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং দলীয়করণ বন্ধ।

আজ সকাল সাতটায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হবে। সকাল আটটায় গাড়িবহর রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করবে। পথিমধ্যে গাজীপুরের ভোগরা বাইপাস, টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ বাইপাস, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড়, বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড় ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ী চৌমাথায় পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। সন্ধ্যা সাতটায় রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশের সময় নির্ধারিত থাকলেও সময়ের কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

লংমার্চের প্রস্তুতি নিয়ে মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, কর্মসূচিতে যেন কোনো বাধা সৃষ্টি করা না হয়। তিনি নেতা-কর্মীদের উসকানির মুখে ধৈর্য ও সংযম দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন। ১১-দলীয় ঐক্যের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৩১ অক্টোবর খুলনা এবং ২১ নভেম্বর সিলেট অভিমুখে লংমার্চের কর্মসূচি রয়েছে। এই ধারাবাহিক কর্মসূচির মূল লক্ষ্য জাতীয় দাবিগুলো জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং জুলাই সনদ মেনে সংবিধান সংস্কারে সরকারকে চাপে রাখা।

সকাল ৯টায় গাজীপুরের ভোগরা বাইপাস রোডে, সকাল সাড়ে ১০টায় টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ বাইপাস রোড, দুপুর ১২টায় সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড়, বিকেল ৪টায় বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড় ও বিকেল সাড়ে ৫টায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ী চৌমাথায় পথসভার সময় নির্ধারিত আছে।সবশেষে সন্ধ্যা ৭টায় রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশ হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চেলসির হয়ে অভিষেক চার ম্যাচে ১০ গোল হজম, ক্ষমা চাইলেন মার্তিনেজ

আট দফা দাবিতে আজ রংপুর অভিমুখে ১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চ

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:৩৩:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আট দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের রংপুর অভিমুখী লংমার্চ আজ শনিবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চের পর এটি এই জোটের দ্বিতীয় বড় কর্মসূচি। এবারের লংমার্চে জোটটি উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়নের বিষয়টি যুক্ত করেছে।

জোটের নেতাদের প্রত্যাশা, চট্টগ্রামমুখী লংমার্চের চেয়ে রংপুরমুখী কর্মসূচিতে মানুষের সাড়া বেশি পাওয়া যাবে। রংপুর জিলা স্কুল মাঠে আয়োজিত সমাপনী সমাবেশে তিন থেকে পাঁচ লাখ মানুষের সমাগম হবে বলে তাঁরা আশা করছেন। ঢাকা থেকে শুরু হওয়া এই গাড়িবহর পথে বিভিন্ন জেলা থেকে আরও গাড়ি যুক্ত হয়ে সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন জোটের নেতারা। এছাড়া লংমার্চের কারণে সাধারণ মানুষের সম্ভাব্য দুর্ভোগের জন্য জোটের পক্ষ থেকে আগাম দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।

১১-দলীয় ঐক্যের সূত্র অনুযায়ী, রংপুর বিভাগে তাদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অবস্থান বেশ শক্তিশালী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনের মধ্যে জামায়াত ১৭টি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ২টি আসনে জয়ী হয়েছিল। জোটগতভাবে ১৯টি আসনে জয়লাভ করায় এই অঞ্চলকে তারা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। লংমার্চে তারা দুর্নীতি, দখলবাজি ও চাঁদাবাজি বন্ধের পাশাপাশি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিকে সামনে নিয়ে এসেছে। এর আগে চট্টগ্রামমুখী লংমার্চে ছয় দফা দাবি ছিল—গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং দলীয়করণ বন্ধ।

আজ সকাল সাতটায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হবে। সকাল আটটায় গাড়িবহর রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করবে। পথিমধ্যে গাজীপুরের ভোগরা বাইপাস, টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ বাইপাস, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড়, বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড় ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ী চৌমাথায় পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। সন্ধ্যা সাতটায় রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশের সময় নির্ধারিত থাকলেও সময়ের কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

লংমার্চের প্রস্তুতি নিয়ে মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, কর্মসূচিতে যেন কোনো বাধা সৃষ্টি করা না হয়। তিনি নেতা-কর্মীদের উসকানির মুখে ধৈর্য ও সংযম দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন। ১১-দলীয় ঐক্যের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৩১ অক্টোবর খুলনা এবং ২১ নভেম্বর সিলেট অভিমুখে লংমার্চের কর্মসূচি রয়েছে। এই ধারাবাহিক কর্মসূচির মূল লক্ষ্য জাতীয় দাবিগুলো জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং জুলাই সনদ মেনে সংবিধান সংস্কারে সরকারকে চাপে রাখা।

সকাল ৯টায় গাজীপুরের ভোগরা বাইপাস রোডে, সকাল সাড়ে ১০টায় টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ বাইপাস রোড, দুপুর ১২টায় সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড়, বিকেল ৪টায় বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড় ও বিকেল সাড়ে ৫টায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ী চৌমাথায় পথসভার সময় নির্ধারিত আছে।সবশেষে সন্ধ্যা ৭টায় রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশ হবে।