লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ১০ ডিসেম্বর

মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল আদায়ে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবিরের আদালতে এই আদেশ দেওয়া হয়। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় আদালত নতুন এই তারিখ ধার্য করেছেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ সালে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেমস (সিএনএস) লিমিটেডকে একক উৎসভিত্তিক দরপত্রের মাধ্যমে মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, কোনো ধরনের প্রতিযোগিতামূলক আলোচনা ছাড়াই আগের বৈধ দরপত্র প্রক্রিয়া বাতিল করে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তি করা হয়। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, সিএনএসকে নির্দিষ্ট অর্থের পরিবর্তে আদায়কৃত মোট টোলের ১৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ সার্ভিস চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এর ফলে পাঁচ বছরে প্রতিষ্ঠানটি ৪৮৯ কোটি ৪৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকার বেশি বিল গ্রহণ করে।

দুদকের নথিপত্রে এই চুক্তির বিপরীতে আর্থিক ক্ষতির তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত একই সেতুর টোল ব্যবস্থাপনায় এমবিইএল-এটিটির ব্যয় ছিল প্রায় ১৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এছাড়া ২০২২ থেকে ২০২৫ মেয়াদে ইউডিসি কনস্ট্রাকশন লিমিটেড একই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য তিন বছরের চুক্তি পায় প্রায় ৬৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকায়, যা পাঁচ বছরের হিসাবে প্রায় ১১২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা দাঁড়ায়। এই হিসাবের ভিত্তিতে দুদকের অভিযোগ, একক উৎসভিত্তিক চুক্তির ফলে সরকারের প্রায় ৩০৯ কোটি ৪২ লাখ ৪৫ হাজার ৮৯০ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম এবং রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতির অভিযোগে এই মামলাটি দায়ের করে দুদক। মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ওবায়দুল কাদের ও আনিসুল হক এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নানকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া সাবেক সচিব এম এ এন ছিদ্দিক, অতিরিক্ত সচিব মো. ফারুক জলিল, উপসচিব মোহাম্মদ শফিকুল করিম, প্রকৌশলী মো. ফিরোজ ইকবাল, ইবনে আলম হাসান, মো. আফতাব হোসেন খান ও মো. আব্দুস সালাম এবং সিএনএস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুনীর উজ জামান চৌধুরী, পরিচালক সেলিনা চৌধুরী ও ইকরাম ইকবালকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতিসংঘ সফরে ইরানের প্রতিনিধিদলের জন্য কঠোর মার্কিন বিধিনিষেধ

শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ১০ ডিসেম্বর

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:০২:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল আদায়ে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবিরের আদালতে এই আদেশ দেওয়া হয়। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় আদালত নতুন এই তারিখ ধার্য করেছেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ সালে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেমস (সিএনএস) লিমিটেডকে একক উৎসভিত্তিক দরপত্রের মাধ্যমে মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, কোনো ধরনের প্রতিযোগিতামূলক আলোচনা ছাড়াই আগের বৈধ দরপত্র প্রক্রিয়া বাতিল করে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তি করা হয়। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, সিএনএসকে নির্দিষ্ট অর্থের পরিবর্তে আদায়কৃত মোট টোলের ১৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ সার্ভিস চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এর ফলে পাঁচ বছরে প্রতিষ্ঠানটি ৪৮৯ কোটি ৪৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকার বেশি বিল গ্রহণ করে।

দুদকের নথিপত্রে এই চুক্তির বিপরীতে আর্থিক ক্ষতির তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত একই সেতুর টোল ব্যবস্থাপনায় এমবিইএল-এটিটির ব্যয় ছিল প্রায় ১৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এছাড়া ২০২২ থেকে ২০২৫ মেয়াদে ইউডিসি কনস্ট্রাকশন লিমিটেড একই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য তিন বছরের চুক্তি পায় প্রায় ৬৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকায়, যা পাঁচ বছরের হিসাবে প্রায় ১১২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা দাঁড়ায়। এই হিসাবের ভিত্তিতে দুদকের অভিযোগ, একক উৎসভিত্তিক চুক্তির ফলে সরকারের প্রায় ৩০৯ কোটি ৪২ লাখ ৪৫ হাজার ৮৯০ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম এবং রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতির অভিযোগে এই মামলাটি দায়ের করে দুদক। মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ওবায়দুল কাদের ও আনিসুল হক এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নানকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া সাবেক সচিব এম এ এন ছিদ্দিক, অতিরিক্ত সচিব মো. ফারুক জলিল, উপসচিব মোহাম্মদ শফিকুল করিম, প্রকৌশলী মো. ফিরোজ ইকবাল, ইবনে আলম হাসান, মো. আফতাব হোসেন খান ও মো. আব্দুস সালাম এবং সিএনএস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুনীর উজ জামান চৌধুরী, পরিচালক সেলিনা চৌধুরী ও ইকরাম ইকবালকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে।