লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ৭ দিনের রোডম্যাপ

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫১ পিএম। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাত প্রায় সাত মাস পেরিয়ে গেছে। যুদ্ধক্ষেত্রের ক্রমবর্ধমান উত্তাপ প্রশমনের লক্ষ্যে তেহরান এবার মার্কিন প্রশাসনের কাছে শান্তির একটি নতুন কৌশল বা সাত দিনের একটি রোডম্যাপ প্রস্তাব করেছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি প্রকাশ্যে এই পরিকল্পনার কথা জানান। মধ্যস্থতাকারী কোনো দেশের মাধ্যমে এই শান্তি প্রস্তাবটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

তেহরানের এই প্রস্তাবটি অত্যন্ত স্পষ্ট এবং সুনির্দিষ্ট। তাদের মূল দাবি হলো, আগামী সাত দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে গাজা ও লেবাননসহ সব যুদ্ধক্ষেত্রে সামরিক অভিযান ও রক্তক্ষয়ী হামলা পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করতে হবে। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রে আটকে থাকা ইরানের প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ অবিলম্বে ফেরত দিতে হবে এবং ইরানের তেল বাণিজ্যের ওপর আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। সেই সঙ্গে পারস্য উপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর শক্ত অবরোধ সরিয়ে নেওয়ার দাবিও এই রোডম্যাপে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওয়াশিংটন যদি এই শর্তগুলো নিখুঁতভাবে মেনে নেয়, তবে সাত দিনের মাথায় ইরানও ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এর অংশ হিসেবে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ 'হরমুজ প্রণালি' সব ধরনের জাহাজ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি, যে পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যুদ্ধের দামামা বেজেছিল, তা নিয়ে বিলম্ব না করে দুই দেশের প্রতিনিধিরা সরাসরি আলোচনার টেবিলে বসবেন।

যদিও প্রস্তাবটি ঘিরে দুই পক্ষ থেকেই ইতিবাচক ইঙ্গিতের আভাস পাওয়া যাচ্ছে, তবুও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা খুব দ্রুত কোনো অলৌকিক সমাধানের আশা দেখছেন না। তাদের মতে, আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনীতি যখন তুঙ্গে, তখন এত কম সময়ে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তা সত্ত্বেও, তপ্ত মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার এই ৭ দিনের প্রস্তাব আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে বেশ সাড়া ফেলেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইমরানের মুক্তির দাবিতে রাজধানীমুখী মিছিল

যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ৭ দিনের রোডম্যাপ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৩০:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫১ পিএম। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাত প্রায় সাত মাস পেরিয়ে গেছে। যুদ্ধক্ষেত্রের ক্রমবর্ধমান উত্তাপ প্রশমনের লক্ষ্যে তেহরান এবার মার্কিন প্রশাসনের কাছে শান্তির একটি নতুন কৌশল বা সাত দিনের একটি রোডম্যাপ প্রস্তাব করেছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি প্রকাশ্যে এই পরিকল্পনার কথা জানান। মধ্যস্থতাকারী কোনো দেশের মাধ্যমে এই শান্তি প্রস্তাবটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

তেহরানের এই প্রস্তাবটি অত্যন্ত স্পষ্ট এবং সুনির্দিষ্ট। তাদের মূল দাবি হলো, আগামী সাত দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে গাজা ও লেবাননসহ সব যুদ্ধক্ষেত্রে সামরিক অভিযান ও রক্তক্ষয়ী হামলা পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করতে হবে। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রে আটকে থাকা ইরানের প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ অবিলম্বে ফেরত দিতে হবে এবং ইরানের তেল বাণিজ্যের ওপর আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। সেই সঙ্গে পারস্য উপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর শক্ত অবরোধ সরিয়ে নেওয়ার দাবিও এই রোডম্যাপে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওয়াশিংটন যদি এই শর্তগুলো নিখুঁতভাবে মেনে নেয়, তবে সাত দিনের মাথায় ইরানও ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এর অংশ হিসেবে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ 'হরমুজ প্রণালি' সব ধরনের জাহাজ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি, যে পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যুদ্ধের দামামা বেজেছিল, তা নিয়ে বিলম্ব না করে দুই দেশের প্রতিনিধিরা সরাসরি আলোচনার টেবিলে বসবেন।

যদিও প্রস্তাবটি ঘিরে দুই পক্ষ থেকেই ইতিবাচক ইঙ্গিতের আভাস পাওয়া যাচ্ছে, তবুও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা খুব দ্রুত কোনো অলৌকিক সমাধানের আশা দেখছেন না। তাদের মতে, আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনীতি যখন তুঙ্গে, তখন এত কম সময়ে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তা সত্ত্বেও, তপ্ত মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার এই ৭ দিনের প্রস্তাব আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে বেশ সাড়া ফেলেছে।