লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাদ পড়া ৩৪ লাখ শিশুর বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান শুরু আজ

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার দীর্ঘ সাত মাস পরও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে না আসায় বাদ পড়া শিশুদের সুরক্ষায় আবারও বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আজ শনিবার থেকে দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬। এই ক্যাম্পেইনের আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৩৪ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হবে। আজ রাজধানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে এই বিশেষ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিতও উপস্থিত থাকবেন। আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত এই টিকাদান কার্যক্রম চলবে।

এর আগে গত ৫ এপ্রিল থেকে ২০ মে পর্যন্ত দেশজুড়ে হাম-রুবেলার মূল টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়েছিল। তবে স্বাস্থ্য বিভাগের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে ভুলের কারণে সে সময় বিপুলসংখ্যক শিশু টিকা থেকে বাদ পড়ে যায়। মূলত ওই ক্যাম্পেইনে বাদ পড়া ৩৪ লাখ শিশুকে এবার টিকার আওতায় আনা হচ্ছে। আগের ক্যাম্পেইনে শুরুতে ১ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬০৪ জন শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করা হলেও পরে হিসাব করে দেখা যায়, এই বয়সী শিশুর সংখ্যা আসলে আরও ৪৪ লাখ বেশি ছিল। ত্রুটিপূর্ণ প্রস্তুতির কারণে সৃষ্ট এই ঘাটতি মেটাতেই নতুন করে বিশেষ ক্যাম্পেইন শুরু করতে হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত মোট ১ কোটি ৯৮ লাখ ৬১ হাজার ৫৩০ জন শিশুকে টিকা দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ফোয়ারা তাসমীম এই ভুলের কথা স্বীকার করে জানিয়েছেন, শিশুর সংখ্যা নির্ধারণে কিছু ভুলভ্রান্তি এবং মাঠপর্যায়ে কাজের ক্ষেত্রে কিছু ত্রুটি ছিল। তবে এবারের কার্যক্রমে প্রতিটি উপজেলা থেকে সুনির্দিষ্ট হিসাব নেওয়া হয়েছে এবং পূর্বের ভুলগুলো আর হবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে দেশে হামের পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। গত মার্চ মাসের শুরুতে প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর থেকে সাত মাসে মোট ১ হাজার ৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামের কারণে ১০১ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৮৩ জন মারা গেছে। এই সময়ে সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৮৩৩ জন এবং নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ২১ হাজার ১৫ জনের। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায়ও হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ২০১ জন হাসপাতালে এসেছে এবং মারা গেছে তিনজন। বর্তমানে সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে পাঁচ হাজারের বেশি রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। অথচ প্রাদুর্ভাবের আগের বছর দেশে হামে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ছিল না এবং আক্রান্তের সংখ্যা ছিল মাত্র ১৩২।

জনস্বাস্থ্যবিদেরা বলছেন, শুধু টিকা দেওয়াই যথেষ্ট নয়, সংক্রমণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বা ‘হটস্পট’গুলো দ্রুত শনাক্ত করতে হবে। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও জনস্বাস্থ্যবিদ মুশতাক হোসেন জানান, এপ্রিলের ক্যাম্পেইনের পর সংক্রমণ কিছুটা কমলেও পরে তা আবার বেড়েছে। তাঁর মতে, এখন হটস্পটগুলো চিহ্নিত করে সেখানকার প্রতিটি শিশুকে টিকার আওতায় আনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি ৬ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী সব শিশুকে টিকার আওতায় আনার এবং সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।

গবেষণায় দেখা গেছে, আক্রান্ত শিশুদের ৬৫ শতাংশই অপুষ্টির শিকার। এছাড়া টিকা নেওয়ার বয়স হয়নি এমন শিশু (৬ মাসের কম বয়সী) এবং টিকার বয়স পেরিয়ে যাওয়া (৫৯ মাসের বেশি বয়সী) মানুষও হামে আক্রান্ত হচ্ছে ও সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। বিজ্ঞানীদের মতে, ৬ মাসের কম বয়সীদের টিকা দেওয়া কার্যকর নয়, আর ৫৯ মাসের বেশি বয়সীদের টিকা দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানিয়েছেন, হাম মোকাবিলায় টিকাই প্রধান হাতিয়ার। নিয়মিত ইপিআই কর্মসূচির পাশাপাশি এই বিশেষ ক্যাম্পেইনও চলবে। দরিদ্র ও ঘিঞ্জি পরিবারগুলোতে আক্রান্তদের আইসোলেশনে রাখা কঠিন হলেও সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের টিকার আওতায় আনতে পারলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ওই সময় টিকাদানের হিসাবে দেখা যায়, কোনো কোনো এলাকায় ১০০ শতাংশের বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

শৃঙ্খলা না মানলে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার হুঁশিয়ারি

বাদ পড়া ৩৪ লাখ শিশুর বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান শুরু আজ

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৩৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার দীর্ঘ সাত মাস পরও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে না আসায় বাদ পড়া শিশুদের সুরক্ষায় আবারও বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আজ শনিবার থেকে দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬। এই ক্যাম্পেইনের আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৩৪ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হবে। আজ রাজধানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে এই বিশেষ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিতও উপস্থিত থাকবেন। আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত এই টিকাদান কার্যক্রম চলবে।

এর আগে গত ৫ এপ্রিল থেকে ২০ মে পর্যন্ত দেশজুড়ে হাম-রুবেলার মূল টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়েছিল। তবে স্বাস্থ্য বিভাগের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে ভুলের কারণে সে সময় বিপুলসংখ্যক শিশু টিকা থেকে বাদ পড়ে যায়। মূলত ওই ক্যাম্পেইনে বাদ পড়া ৩৪ লাখ শিশুকে এবার টিকার আওতায় আনা হচ্ছে। আগের ক্যাম্পেইনে শুরুতে ১ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬০৪ জন শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করা হলেও পরে হিসাব করে দেখা যায়, এই বয়সী শিশুর সংখ্যা আসলে আরও ৪৪ লাখ বেশি ছিল। ত্রুটিপূর্ণ প্রস্তুতির কারণে সৃষ্ট এই ঘাটতি মেটাতেই নতুন করে বিশেষ ক্যাম্পেইন শুরু করতে হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত মোট ১ কোটি ৯৮ লাখ ৬১ হাজার ৫৩০ জন শিশুকে টিকা দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ফোয়ারা তাসমীম এই ভুলের কথা স্বীকার করে জানিয়েছেন, শিশুর সংখ্যা নির্ধারণে কিছু ভুলভ্রান্তি এবং মাঠপর্যায়ে কাজের ক্ষেত্রে কিছু ত্রুটি ছিল। তবে এবারের কার্যক্রমে প্রতিটি উপজেলা থেকে সুনির্দিষ্ট হিসাব নেওয়া হয়েছে এবং পূর্বের ভুলগুলো আর হবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে দেশে হামের পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। গত মার্চ মাসের শুরুতে প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর থেকে সাত মাসে মোট ১ হাজার ৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামের কারণে ১০১ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৮৩ জন মারা গেছে। এই সময়ে সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৮৩৩ জন এবং নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ২১ হাজার ১৫ জনের। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায়ও হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ২০১ জন হাসপাতালে এসেছে এবং মারা গেছে তিনজন। বর্তমানে সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে পাঁচ হাজারের বেশি রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। অথচ প্রাদুর্ভাবের আগের বছর দেশে হামে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ছিল না এবং আক্রান্তের সংখ্যা ছিল মাত্র ১৩২।

জনস্বাস্থ্যবিদেরা বলছেন, শুধু টিকা দেওয়াই যথেষ্ট নয়, সংক্রমণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বা ‘হটস্পট’গুলো দ্রুত শনাক্ত করতে হবে। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও জনস্বাস্থ্যবিদ মুশতাক হোসেন জানান, এপ্রিলের ক্যাম্পেইনের পর সংক্রমণ কিছুটা কমলেও পরে তা আবার বেড়েছে। তাঁর মতে, এখন হটস্পটগুলো চিহ্নিত করে সেখানকার প্রতিটি শিশুকে টিকার আওতায় আনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি ৬ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী সব শিশুকে টিকার আওতায় আনার এবং সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।

গবেষণায় দেখা গেছে, আক্রান্ত শিশুদের ৬৫ শতাংশই অপুষ্টির শিকার। এছাড়া টিকা নেওয়ার বয়স হয়নি এমন শিশু (৬ মাসের কম বয়সী) এবং টিকার বয়স পেরিয়ে যাওয়া (৫৯ মাসের বেশি বয়সী) মানুষও হামে আক্রান্ত হচ্ছে ও সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। বিজ্ঞানীদের মতে, ৬ মাসের কম বয়সীদের টিকা দেওয়া কার্যকর নয়, আর ৫৯ মাসের বেশি বয়সীদের টিকা দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানিয়েছেন, হাম মোকাবিলায় টিকাই প্রধান হাতিয়ার। নিয়মিত ইপিআই কর্মসূচির পাশাপাশি এই বিশেষ ক্যাম্পেইনও চলবে। দরিদ্র ও ঘিঞ্জি পরিবারগুলোতে আক্রান্তদের আইসোলেশনে রাখা কঠিন হলেও সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের টিকার আওতায় আনতে পারলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ওই সময় টিকাদানের হিসাবে দেখা যায়, কোনো কোনো এলাকায় ১০০ শতাংশের বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে।