লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অর্থনীতি পুনরুত্থানে চীনের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার: জহির উদ্দিন স্বপন

দেশের অর্থনীতির পুনরুত্থান ও বিকাশে চীনের সঙ্গে কৌশলগত এবং অর্থনৈতিক বন্ধুত্ব জোরদার করাকে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা (মন্ত্রীমর্যাদা) জহির উদ্দিন স্বপন। গতকাল রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ-চীন ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। চীনের সফররত উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সম্মানে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) ইউনান প্রাদেশিক কমিটির স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য চাও চুনমিন।

অনুষ্ঠানে জহির উদ্দিন স্বপন আগামী ৩ অক্টোবর দায়িত্ব পালনের মেয়াদ শেষে বিদায় নিতে যাওয়া চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের কূটনৈতিক অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ১৯৭৬ সালে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বাংলাদেশ ও চীনের যে কূটনৈতিক সম্পর্কের যাত্রা শুরু হয়েছিল, পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে তা আরও সুদৃঢ় হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, চীনের প্রযুক্তি ও উৎপাদন সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের তরুণ কর্মক্ষম জনশক্তিকে ব্যবহার করা গেলে দেশের অর্থনৈতিক পুনরুত্থান ত্বরান্বিত করা সম্ভব।

বাণিজ্য ঘাটতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ প্রতি বছর চীন থেকে ২২ বিলিয়ন ডলারের বেশি পণ্য আমদানি করলেও বিপরীতে রপ্তানি করে এক বিলিয়ন ডলারের কম। এই ঘাটতি নিরসনে চীনা সরকার বাংলাদেশি পণ্যে প্রায় শতভাগ শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি ইউনান প্রদেশের কুনমিং শহরে একটি প্রদর্শন কেন্দ্র এবং দুই হাজার বর্গকিলোমিটার স্টোরেজ বরাদ্দ দিয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কুনমিং থেকে মিয়ানমার হয়ে চট্টগ্রাম পর্যন্ত নতুন অর্থনৈতিক করিডোর চালু হলে উভয় দেশের বাণিজ্যে নতুন মাত্রা যোগ হবে।

ঢাকায় নিযুক্ত চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন অনুষ্ঠানে বলেন, বাংলাদেশ ও চীন ঐতিহাসিক বন্ধনে আবদ্ধ। বিশেষ করে ইউনান প্রদেশের সঙ্গে পরিবহন, কৃষি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা ও পর্যটন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, চীনা দূতাবাস দুই দেশের পারস্পরিক উন্নয়ন ও যোগাযোগের সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ অব্যাহত রাখবে এবং যৌথ সমৃদ্ধি অর্জনে চীন বাংলাদেশের পাশে থাকবে।

বাংলাদেশ-চীন ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট নাজমুল হক নান্নুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য বরকত উল্লাহ বুলু, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও চীনা প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

তেহরানে হামলায় আহত মোজতবা খামেনি, গোপন স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে

অর্থনীতি পুনরুত্থানে চীনের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার: জহির উদ্দিন স্বপন

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:০৮:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের অর্থনীতির পুনরুত্থান ও বিকাশে চীনের সঙ্গে কৌশলগত এবং অর্থনৈতিক বন্ধুত্ব জোরদার করাকে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা (মন্ত্রীমর্যাদা) জহির উদ্দিন স্বপন। গতকাল রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ-চীন ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। চীনের সফররত উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সম্মানে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) ইউনান প্রাদেশিক কমিটির স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য চাও চুনমিন।

অনুষ্ঠানে জহির উদ্দিন স্বপন আগামী ৩ অক্টোবর দায়িত্ব পালনের মেয়াদ শেষে বিদায় নিতে যাওয়া চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের কূটনৈতিক অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ১৯৭৬ সালে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বাংলাদেশ ও চীনের যে কূটনৈতিক সম্পর্কের যাত্রা শুরু হয়েছিল, পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে তা আরও সুদৃঢ় হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, চীনের প্রযুক্তি ও উৎপাদন সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের তরুণ কর্মক্ষম জনশক্তিকে ব্যবহার করা গেলে দেশের অর্থনৈতিক পুনরুত্থান ত্বরান্বিত করা সম্ভব।

বাণিজ্য ঘাটতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ প্রতি বছর চীন থেকে ২২ বিলিয়ন ডলারের বেশি পণ্য আমদানি করলেও বিপরীতে রপ্তানি করে এক বিলিয়ন ডলারের কম। এই ঘাটতি নিরসনে চীনা সরকার বাংলাদেশি পণ্যে প্রায় শতভাগ শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি ইউনান প্রদেশের কুনমিং শহরে একটি প্রদর্শন কেন্দ্র এবং দুই হাজার বর্গকিলোমিটার স্টোরেজ বরাদ্দ দিয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কুনমিং থেকে মিয়ানমার হয়ে চট্টগ্রাম পর্যন্ত নতুন অর্থনৈতিক করিডোর চালু হলে উভয় দেশের বাণিজ্যে নতুন মাত্রা যোগ হবে।

ঢাকায় নিযুক্ত চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন অনুষ্ঠানে বলেন, বাংলাদেশ ও চীন ঐতিহাসিক বন্ধনে আবদ্ধ। বিশেষ করে ইউনান প্রদেশের সঙ্গে পরিবহন, কৃষি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা ও পর্যটন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, চীনা দূতাবাস দুই দেশের পারস্পরিক উন্নয়ন ও যোগাযোগের সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ অব্যাহত রাখবে এবং যৌথ সমৃদ্ধি অর্জনে চীন বাংলাদেশের পাশে থাকবে।

বাংলাদেশ-চীন ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট নাজমুল হক নান্নুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য বরকত উল্লাহ বুলু, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও চীনা প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।