লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ও রাড্ডা ক্লিনিকে হামলা: নেপথ্যের মূল হোতারা এখনো অধরা

রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলা-ভাঙচুর ও মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় মোট ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর মধ্যে নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলার ঘটনায় দুই অস্ত্রধারীসহ ছয়জন এবং মিরপুরের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে দুটি ঘটনার কোনোটিতেই হামলার নেপথ্যে থাকা মূল পরিকল্পনাকারী বা নির্দেশদাতাদের এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

ইসিবি চত্বরের নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলার ঘটনার পেছনে জমি নিয়ে বিরোধের তথ্য পেয়েছে পুলিশ। এই হামলার পরিকল্পনাকারী হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীর নাম এসেছে। মামলার ৪ নম্বর আসামি গোলাম মহিউদ্দিনের নিউগিনি প্রপার্টিজের পাশে ৩৫ শতাংশ জমি রয়েছে। চারপাশের সব জমি নিউগিনি প্রপার্টিজের হওয়ায় ওই জমিতে যাতায়াতের জন্য তাদের রাস্তা ও ফটক ব্যবহার করতে হয়। এই চলাচল নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে সেখানে হামলা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। জমি সংক্রান্ত অন্য কোনো বিরোধ আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত হলে গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গত শনিবার দিবাগত রাতে নিউগিনি প্রকল্পের কার্যালয় ও আশপাশের স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। হামলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। নিউগিনি প্রকল্পের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা লিয়াকত আলী জানান, হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওর। এ ঘটনায় নিউগিনি প্রপার্টিজের পরিচালক সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া বাদী হয়ে মামলা করেন, যা তদন্ত করছে ক্যান্টনমেন্ট থানা-পুলিশ।

ক্যান্টনমেন্ট থানা-পুলিশ ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এ পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। ডিবি প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, ডিবির হাতে গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনের মধ্যে শাহ আলম অনিক নামের একজন রয়েছেন, যিনি মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক। গ্রেপ্তার অন্য আসামিরা হলেন মামুন, আসলাম, মুন্না, মিজানুর রহমান ও শাহরিয়ার মাহমুদ। এদের মধ্যে মামুন ও মুন্না অস্ত্র নিয়ে হামলায় অংশ নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। গ্রেপ্তার হওয়া মামুনের বাড়ি গফরগাঁওয়ে এবং তিনি ও মুন্না ভাষানটেক বস্তিতে থাকেন। আসলাম টাঙ্গাইলের বাসিন্দা এবং পেশায় অটোরিকশা চালক। সর্বশেষ গ্রেপ্তার মিজানুর এই মামলার এজাহারভুক্ত ৯ নম্বর আসামি। জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অন্যদিকে, মিরপুরের শাহ আলী থানা এলাকার রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামের সাইনবোর্ড ও ব্যানার টাঙিয়ে দেয় হামলাকারীরা। স্থানীয় সূত্র ও তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, এই সমিতির কার্যক্রমের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তারা এলাকায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদের (মিষ্টি) ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। অবশ্য ফেরদৌসী আহমেদ এই ঘটনায় নিজের জড়িত থাকার দাবি অস্বীকার করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে হামলার আগে জড়িত ব্যক্তিরা শাহ আলী থানা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ ওরফে লেলিন এবং মামলার এজাহারভুক্ত আসামি বিএনপি নেতা হানিফ মিয়ার কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। সিসিটিভি ফুটেজেও রাত ১২টা ৫ মিনিটের দিকে সেখানে লোক জড়ো হওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে। এ ছাড়া ঘটনার সময় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আশপাশে একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাস ঘুরতে দেখা যায়। অভিযোগ রয়েছে, হানিফ মিয়া, আবুল কালাম এবং ঢাকা মহানগর যুবদলের সাবেক সদস্যসচিব মোস্তফা জগলুল পাশা ওরফে পাপেলসহ কয়েকজন ওই মাইক্রোবাসে থেকে হামলার দিকনির্দেশনা দিচ্ছিলেন। এই মামলায় হানিফ মিয়ার নাম উল্লেখ রয়েছে।

রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরের মামলায় এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সর্বশেষ গত রোববার রাতে মো. মিন্টু ও মো. মিলন নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যারা ভাঙচুরে অংশ নিয়ে মালামাল লুট করেছিলেন। তাদের কাছ থেকে লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে শুক্রবার রাতে মো. সোহেল, মো. জুয়েল, জিহাদ হাসান ও মো. রাব্বি নামের চার তরুণকে গ্রেপ্তার করে শাহ আলী থানার পুলিশ। এদের মধ্যে জুয়েল শাহ আলী বাগের করলাপাড়ার বাসিন্দা এবং বাকি তিনজন শাহ আলী মাজার এলাকার ভাসমান তরুণ। তারা টাকার বিনিময়ে এই ভাঙচুরে অংশ নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এরপর শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকা ও শাহবাগ এলাকা থেকে ডিবি ও থানা-পুলিশের যৌথ অভিযানে আরও ছয়জন গ্রেপ্তার হন। তারা হলেন মো. শাহাদাত হোসেন, কাজী মকবুল হোসেন, মো. শাহ আলম, মো. আতিকুর রহমান, মো. কামরুল ইসলাম ও মো. শাকিল। গ্রেপ্তার হওয়া শাহ আলম সমমনা দোকানদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে কারা এক্সক্যাভেটর এনেছিলেন এবং হামলার নেতৃত্বে মূলত কারা ছিলেন, তা জানার চেষ্টা চলছে। জড়িতদের গ্রেপ্তার ও এক্সক্যাভেটরটি উদ্ধারে অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে গতকাল সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত হামলার নেপথ্য নায়কদের কাউকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।

সাম্প্রতিক এই হামলা, ভাঙচুর ও দখলের ঘটনাকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির লক্ষণ হিসেবে দেখছেন মানবাধিকারকর্মী নূর খান। তিনি বলেন, মিরপুরের রাড্ডা ক্লিনিক ও সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনায় শক্তিশালী মহলের জড়িত থাকার কথা শোনা যাচ্ছে, যার কারণে পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করেছে। মিরপুর, মোহাম্মদপুর ও আদাবরের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেখে মনে হচ্ছে দেশ মব সন্ত্রাসীদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। সরকার এমন কোনো শক্ত বার্তা দিতে পারেনি যাতে সন্ত্রাসীরা ভয় পায়।

মিলন (৪০) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রাব্বি (২০) নামের চার তরুণকে গ্রেপ্তার করে শাহ আলী থানার পুলিশ।

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্যাংক খাত সংস্কারে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ১,২৭৬ কোটি টাকার নতুন প্রকল্প

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ও রাড্ডা ক্লিনিকে হামলা: নেপথ্যের মূল হোতারা এখনো অধরা

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৩৮:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলা-ভাঙচুর ও মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় মোট ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর মধ্যে নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলার ঘটনায় দুই অস্ত্রধারীসহ ছয়জন এবং মিরপুরের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে দুটি ঘটনার কোনোটিতেই হামলার নেপথ্যে থাকা মূল পরিকল্পনাকারী বা নির্দেশদাতাদের এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

ইসিবি চত্বরের নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলার ঘটনার পেছনে জমি নিয়ে বিরোধের তথ্য পেয়েছে পুলিশ। এই হামলার পরিকল্পনাকারী হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীর নাম এসেছে। মামলার ৪ নম্বর আসামি গোলাম মহিউদ্দিনের নিউগিনি প্রপার্টিজের পাশে ৩৫ শতাংশ জমি রয়েছে। চারপাশের সব জমি নিউগিনি প্রপার্টিজের হওয়ায় ওই জমিতে যাতায়াতের জন্য তাদের রাস্তা ও ফটক ব্যবহার করতে হয়। এই চলাচল নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে সেখানে হামলা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। জমি সংক্রান্ত অন্য কোনো বিরোধ আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত হলে গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গত শনিবার দিবাগত রাতে নিউগিনি প্রকল্পের কার্যালয় ও আশপাশের স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। হামলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। নিউগিনি প্রকল্পের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা লিয়াকত আলী জানান, হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওর। এ ঘটনায় নিউগিনি প্রপার্টিজের পরিচালক সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া বাদী হয়ে মামলা করেন, যা তদন্ত করছে ক্যান্টনমেন্ট থানা-পুলিশ।

ক্যান্টনমেন্ট থানা-পুলিশ ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এ পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। ডিবি প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, ডিবির হাতে গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনের মধ্যে শাহ আলম অনিক নামের একজন রয়েছেন, যিনি মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক। গ্রেপ্তার অন্য আসামিরা হলেন মামুন, আসলাম, মুন্না, মিজানুর রহমান ও শাহরিয়ার মাহমুদ। এদের মধ্যে মামুন ও মুন্না অস্ত্র নিয়ে হামলায় অংশ নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। গ্রেপ্তার হওয়া মামুনের বাড়ি গফরগাঁওয়ে এবং তিনি ও মুন্না ভাষানটেক বস্তিতে থাকেন। আসলাম টাঙ্গাইলের বাসিন্দা এবং পেশায় অটোরিকশা চালক। সর্বশেষ গ্রেপ্তার মিজানুর এই মামলার এজাহারভুক্ত ৯ নম্বর আসামি। জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অন্যদিকে, মিরপুরের শাহ আলী থানা এলাকার রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামের সাইনবোর্ড ও ব্যানার টাঙিয়ে দেয় হামলাকারীরা। স্থানীয় সূত্র ও তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, এই সমিতির কার্যক্রমের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তারা এলাকায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদের (মিষ্টি) ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। অবশ্য ফেরদৌসী আহমেদ এই ঘটনায় নিজের জড়িত থাকার দাবি অস্বীকার করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে হামলার আগে জড়িত ব্যক্তিরা শাহ আলী থানা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ ওরফে লেলিন এবং মামলার এজাহারভুক্ত আসামি বিএনপি নেতা হানিফ মিয়ার কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। সিসিটিভি ফুটেজেও রাত ১২টা ৫ মিনিটের দিকে সেখানে লোক জড়ো হওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে। এ ছাড়া ঘটনার সময় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আশপাশে একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাস ঘুরতে দেখা যায়। অভিযোগ রয়েছে, হানিফ মিয়া, আবুল কালাম এবং ঢাকা মহানগর যুবদলের সাবেক সদস্যসচিব মোস্তফা জগলুল পাশা ওরফে পাপেলসহ কয়েকজন ওই মাইক্রোবাসে থেকে হামলার দিকনির্দেশনা দিচ্ছিলেন। এই মামলায় হানিফ মিয়ার নাম উল্লেখ রয়েছে।

রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরের মামলায় এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সর্বশেষ গত রোববার রাতে মো. মিন্টু ও মো. মিলন নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যারা ভাঙচুরে অংশ নিয়ে মালামাল লুট করেছিলেন। তাদের কাছ থেকে লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে শুক্রবার রাতে মো. সোহেল, মো. জুয়েল, জিহাদ হাসান ও মো. রাব্বি নামের চার তরুণকে গ্রেপ্তার করে শাহ আলী থানার পুলিশ। এদের মধ্যে জুয়েল শাহ আলী বাগের করলাপাড়ার বাসিন্দা এবং বাকি তিনজন শাহ আলী মাজার এলাকার ভাসমান তরুণ। তারা টাকার বিনিময়ে এই ভাঙচুরে অংশ নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এরপর শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকা ও শাহবাগ এলাকা থেকে ডিবি ও থানা-পুলিশের যৌথ অভিযানে আরও ছয়জন গ্রেপ্তার হন। তারা হলেন মো. শাহাদাত হোসেন, কাজী মকবুল হোসেন, মো. শাহ আলম, মো. আতিকুর রহমান, মো. কামরুল ইসলাম ও মো. শাকিল। গ্রেপ্তার হওয়া শাহ আলম সমমনা দোকানদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে কারা এক্সক্যাভেটর এনেছিলেন এবং হামলার নেতৃত্বে মূলত কারা ছিলেন, তা জানার চেষ্টা চলছে। জড়িতদের গ্রেপ্তার ও এক্সক্যাভেটরটি উদ্ধারে অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে গতকাল সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত হামলার নেপথ্য নায়কদের কাউকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।

সাম্প্রতিক এই হামলা, ভাঙচুর ও দখলের ঘটনাকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির লক্ষণ হিসেবে দেখছেন মানবাধিকারকর্মী নূর খান। তিনি বলেন, মিরপুরের রাড্ডা ক্লিনিক ও সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনায় শক্তিশালী মহলের জড়িত থাকার কথা শোনা যাচ্ছে, যার কারণে পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করেছে। মিরপুর, মোহাম্মদপুর ও আদাবরের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেখে মনে হচ্ছে দেশ মব সন্ত্রাসীদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। সরকার এমন কোনো শক্ত বার্তা দিতে পারেনি যাতে সন্ত্রাসীরা ভয় পায়।

মিলন (৪০) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রাব্বি (২০) নামের চার তরুণকে গ্রেপ্তার করে শাহ আলী থানার পুলিশ।