লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে, অক্টোবরে পরিস্থিতি আরও অবনতির শঙ্কা

সারা দেশে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। প্রায় প্রতিটি ঘরেই মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন, এমনকি অনেক পরিবারে একইসঙ্গে একাধিক সদস্য আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। আক্রান্তদের মধ্যে অনেকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি করতে হচ্ছে। হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগীকে ফ্লোরে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে স্বাস্থ্যকর্মীরা রোগীদের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১লা জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩৯ জনে। এর মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই মারা গেছেন ১৪২ জন। এছাড়া আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইতে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং ফেব্রুয়ারি ও জানুয়ারি মাসে দুইজন করে ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছেন। সরকারি হিসাবে এ পর্যন্ত ৭৭ হাজার ৬৭২ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন, তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।

বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চলতি বছর ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনসহ) সবচেয়ে বেশি ১১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া খুলনা বিভাগে ৪৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৩ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২০ জন, বরিশাল বিভাগে ১৮ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৪ জন, রংপুর বিভাগে ৫ জন এবং সিলেট বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৪২ জন রোগী। এদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩৭৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩০১ জন, খুলনা বিভাগে ২৬৪ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২২৯ জন, বরিশাল বিভাগে ২১৩ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৭৯ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৭৮ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১২০ জন, রংপুর বিভাগে ৫৬ জন এবং সিলেট বিভাগে ৬ জন ভর্তি হয়েছেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও ডেঙ্গু বিশেষজ্ঞ ড. কবিরুল বাশার পূর্বাভাসভিত্তিক মডেলের বরাত দিয়ে জানিয়েছেন, আগামী অক্টোবরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। তিনি জানান, এডিস মশা শুধু দিনের বেলা নয়, রাতেও কামড়াতে পারে। তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তিকে কামড়ানোর পর মশার মাধ্যমে অন্য মানুষের দেহে ভাইরাস ছড়াতে অন্তত দুইদিন সময় লাগে। তাই পরিবারের কোনো সদস্য আক্রান্ত হলে ঘরের ভেতর মশা নিধনের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বেনজির আহমেদ ব্যক্তিগত সচেতনতা ও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, ফুলের টব, ডাবের খোসা বা পলিথিনে জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননস্থল হিসেবে কাজ করে। এই সময়ে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকা, মশারি ব্যবহার করা এবং শরীর ঢেকে রাখে এমন পোশাক পরার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সাধারণ ভাইরাস জ্বরের সঙ্গে ডেঙ্গুর উপসর্গের মিল থাকায় অনেকেই বিভ্রান্ত হচ্ছেন, যা জটিলতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি বেশি, কারো কারো নিউমোনিয়ার মতো জটিলতাও দেখা দিচ্ছে।

অসদাচরণ ও পলায়নের দায়ে পুলিশের দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বরখাস্ত

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে, অক্টোবরে পরিস্থিতি আরও অবনতির শঙ্কা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:১১:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সারা দেশে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। প্রায় প্রতিটি ঘরেই মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন, এমনকি অনেক পরিবারে একইসঙ্গে একাধিক সদস্য আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। আক্রান্তদের মধ্যে অনেকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি করতে হচ্ছে। হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগীকে ফ্লোরে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে স্বাস্থ্যকর্মীরা রোগীদের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১লা জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩৯ জনে। এর মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই মারা গেছেন ১৪২ জন। এছাড়া আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইতে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং ফেব্রুয়ারি ও জানুয়ারি মাসে দুইজন করে ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছেন। সরকারি হিসাবে এ পর্যন্ত ৭৭ হাজার ৬৭২ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন, তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।

বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চলতি বছর ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনসহ) সবচেয়ে বেশি ১১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া খুলনা বিভাগে ৪৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৩ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২০ জন, বরিশাল বিভাগে ১৮ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৪ জন, রংপুর বিভাগে ৫ জন এবং সিলেট বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৪২ জন রোগী। এদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩৭৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩০১ জন, খুলনা বিভাগে ২৬৪ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২২৯ জন, বরিশাল বিভাগে ২১৩ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৭৯ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৭৮ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১২০ জন, রংপুর বিভাগে ৫৬ জন এবং সিলেট বিভাগে ৬ জন ভর্তি হয়েছেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও ডেঙ্গু বিশেষজ্ঞ ড. কবিরুল বাশার পূর্বাভাসভিত্তিক মডেলের বরাত দিয়ে জানিয়েছেন, আগামী অক্টোবরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। তিনি জানান, এডিস মশা শুধু দিনের বেলা নয়, রাতেও কামড়াতে পারে। তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তিকে কামড়ানোর পর মশার মাধ্যমে অন্য মানুষের দেহে ভাইরাস ছড়াতে অন্তত দুইদিন সময় লাগে। তাই পরিবারের কোনো সদস্য আক্রান্ত হলে ঘরের ভেতর মশা নিধনের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বেনজির আহমেদ ব্যক্তিগত সচেতনতা ও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, ফুলের টব, ডাবের খোসা বা পলিথিনে জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননস্থল হিসেবে কাজ করে। এই সময়ে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকা, মশারি ব্যবহার করা এবং শরীর ঢেকে রাখে এমন পোশাক পরার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সাধারণ ভাইরাস জ্বরের সঙ্গে ডেঙ্গুর উপসর্গের মিল থাকায় অনেকেই বিভ্রান্ত হচ্ছেন, যা জটিলতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি বেশি, কারো কারো নিউমোনিয়ার মতো জটিলতাও দেখা দিচ্ছে।