লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে কাটা কৃষ্ণচূড়ার ডালে নতুন কুঁড়ি, ফিরছে হারানো সবুজ

দূর থেকে তাকালে মনে হয় সবুজের এক দীর্ঘ করিডর। রাজশাহীর দায়রাপাক মোড় থেকে নাদের হাজীর মোড় পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে সারি সারি কৃষ্ণচূড়াগাছ। ব্যস্ত শহরের মাঝে এই সড়কটি যেন এক টুকরো সবুজ প্রশান্তি। ২০১৯ সালে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের রোপণ করা এই গাছগুলো কয়েক বছরের মধ্যেই ডালপালা ছড়িয়ে ছায়াঘেরা পরিবেশ তৈরি করেছিল। কিন্তু কয়েক মাস আগেও এই সড়কের চেহারা ছিল অনেকটাই বিবর্ণ ও মলিন।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে রাজশাহী ওয়াসার পানি শোধনাগার প্রকল্পের পাইপলাইন বসানোর সময় সড়কের এক পাশের প্রায় ১০০টি কৃষ্ণচূড়াগাছের ডালপালা কেটে ফেলা হয়েছিল। ভারী পাইপ ওঠানো-নামানোর কাজে ব্যবহৃত ক্রেনের চলাচলে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় এসব ডাল কাটা হয়েছিল বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছিলেন। এই ঘটনায় গাছগুলো টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে পরিবেশকর্মী ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। ডাল কাটার পর একটি গাছ মারা যাওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। এর বাইরে বিদ্যুৎ বিভাগও মাঝেমধ্যে গাছের ডালপালা কেটে থাকে।

তবে গত সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, সেই বিবর্ণ দৃশ্যে পরিবর্তন এসেছে। কেটে ফেলা ডালগুলো থেকে নতুন শাখা বের হয়েছে এবং কচি পাতায় ভরে উঠছে গাছগুলো। বিশেষ করে সড়কের পশ্চিম দিক ও দক্ষিণ পাশের যেসব গাছের ডালপালা কাটা হয়েছিল, সেগুলোতে নতুন ডালপালা বেশ ঘন হয়ে উঠছে। গাছগুলো ধীরে ধীরে তাদের হারানো রূপ ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছে।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের পরিবেশ শাখার ব্যবস্থাপক মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, সিটি করপোরেশনের অনুমতি ছাড়া কেউ গাছের একটি ডালও কাটতে পারেন না। বিদ্যুৎ বিভাগ মাঝেমধ্যে ডাল কাটলে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করা প্রয়োজন। চিঠি দিয়ে জানালে সিটি করপোরেশনের লোকজন উপস্থিত থেকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ডাল কাটা রোধ করতে পারেন, কারণ অনেক সময় পুরো ডালপালা কেটে ফেলা হয়।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, সড়কের সৌন্দর্য ও ছায়াঘেরা পরিবেশের সঙ্গে তাঁদের ব্যবসার সম্পর্ক রয়েছে। গাছের ডাল কাটার পর মানুষের আনাগোনা কমে গিয়েছিল, তবে এখন গাছগুলো আবার বড় হওয়ায় তারা আশাবাদী। রাজশাহী বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি আতিকুর রহমান সিটি করপোরেশনকে এ বিষয়ে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। নগরবাসী ও পরিবেশকর্মীদের প্রত্যাশা, উন্নয়নকাজের পাশাপাশি গাছ সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়বে যাতে অপ্রয়োজনীয়ভাবে গাছ কাটা না হয়।

অসদাচরণ ও পলায়নের দায়ে পুলিশের দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বরখাস্ত

রাজশাহীতে কাটা কৃষ্ণচূড়ার ডালে নতুন কুঁড়ি, ফিরছে হারানো সবুজ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:২০:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দূর থেকে তাকালে মনে হয় সবুজের এক দীর্ঘ করিডর। রাজশাহীর দায়রাপাক মোড় থেকে নাদের হাজীর মোড় পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে সারি সারি কৃষ্ণচূড়াগাছ। ব্যস্ত শহরের মাঝে এই সড়কটি যেন এক টুকরো সবুজ প্রশান্তি। ২০১৯ সালে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের রোপণ করা এই গাছগুলো কয়েক বছরের মধ্যেই ডালপালা ছড়িয়ে ছায়াঘেরা পরিবেশ তৈরি করেছিল। কিন্তু কয়েক মাস আগেও এই সড়কের চেহারা ছিল অনেকটাই বিবর্ণ ও মলিন।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে রাজশাহী ওয়াসার পানি শোধনাগার প্রকল্পের পাইপলাইন বসানোর সময় সড়কের এক পাশের প্রায় ১০০টি কৃষ্ণচূড়াগাছের ডালপালা কেটে ফেলা হয়েছিল। ভারী পাইপ ওঠানো-নামানোর কাজে ব্যবহৃত ক্রেনের চলাচলে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় এসব ডাল কাটা হয়েছিল বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছিলেন। এই ঘটনায় গাছগুলো টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে পরিবেশকর্মী ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। ডাল কাটার পর একটি গাছ মারা যাওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। এর বাইরে বিদ্যুৎ বিভাগও মাঝেমধ্যে গাছের ডালপালা কেটে থাকে।

তবে গত সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, সেই বিবর্ণ দৃশ্যে পরিবর্তন এসেছে। কেটে ফেলা ডালগুলো থেকে নতুন শাখা বের হয়েছে এবং কচি পাতায় ভরে উঠছে গাছগুলো। বিশেষ করে সড়কের পশ্চিম দিক ও দক্ষিণ পাশের যেসব গাছের ডালপালা কাটা হয়েছিল, সেগুলোতে নতুন ডালপালা বেশ ঘন হয়ে উঠছে। গাছগুলো ধীরে ধীরে তাদের হারানো রূপ ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছে।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের পরিবেশ শাখার ব্যবস্থাপক মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, সিটি করপোরেশনের অনুমতি ছাড়া কেউ গাছের একটি ডালও কাটতে পারেন না। বিদ্যুৎ বিভাগ মাঝেমধ্যে ডাল কাটলে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করা প্রয়োজন। চিঠি দিয়ে জানালে সিটি করপোরেশনের লোকজন উপস্থিত থেকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ডাল কাটা রোধ করতে পারেন, কারণ অনেক সময় পুরো ডালপালা কেটে ফেলা হয়।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, সড়কের সৌন্দর্য ও ছায়াঘেরা পরিবেশের সঙ্গে তাঁদের ব্যবসার সম্পর্ক রয়েছে। গাছের ডাল কাটার পর মানুষের আনাগোনা কমে গিয়েছিল, তবে এখন গাছগুলো আবার বড় হওয়ায় তারা আশাবাদী। রাজশাহী বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি আতিকুর রহমান সিটি করপোরেশনকে এ বিষয়ে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। নগরবাসী ও পরিবেশকর্মীদের প্রত্যাশা, উন্নয়নকাজের পাশাপাশি গাছ সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়বে যাতে অপ্রয়োজনীয়ভাবে গাছ কাটা না হয়।