লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সবার জন্য নিরাপদ ও টেকসই আবাসন নিশ্চিতে সরকার বদ্ধপরিকর: প্রধানমন্ত্রী

নাগরিকদের জন্য নিরাপদ, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ বাসস্থান নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এই অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু একটি ঘর নয়, বরং নাগরিকের জন্য একটি নিরাপদ ও টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করাই এখন সময়ের বড় দাবি।

তিনি আরও বলেন, একটি টেকসই আবাসনের সঙ্গে নিরাপদ পানি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন, গণপরিবহণ ও সড়ক ব্যবস্থার পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সরাসরি জড়িত। বাংলাদেশের মতো জনবহুল রাষ্ট্রে সবার জন্য এমন আবাসন নিশ্চিত করা চ্যালেঞ্জিং হলেও, প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে সরকার প্রতিটি বাধা মোকাবিলায় কাজ করে যাচ্ছে।

ঢাকা ও দেশের অন্যান্য বড় শহরগুলোতে জনসংখ্যার অত্যধিক চাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহরগুলোতে সাশ্রয়ী ও মানসম্মত আবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও সুপরিকল্পিত নগর গড়ে তোলা জরুরি। তার মতে, সর্বজনীন আবাসন নাগরিকদের মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার। এই অধিকার রক্ষায় বর্তমান সরকার গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নিরলসভাবে কাজ করছে।

সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিকল্পিত নগরায়ণের জন্য প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে। এর ফলে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজির ১১ নম্বর অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে।

শহরাঞ্চলে জনগণের চাপ কমাতে সরকার কার্যকর বিকল্পের ওপর জোর দিচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজধানী ঢাকাসহ শহরগুলোর সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত ও সাশ্রয়ী করার পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে নাগরিক সুবিধা বাড়িয়ে শহরাঞ্চলে মানুষের চাপ কমানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। সরকার কেন্দ্রীভূত নগরায়ণের পরিবর্তে বিকেন্দ্রীভূত ও ভারসাম্যপূর্ণ আঞ্চলিক উন্নয়নে বিশ্বাসী।

তিনি আরও বলেন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে সারাদেশের জন্য স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং ঢাকার আশপাশে সেকেন্ডারি টাউনশিপ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এছাড়া প্রকৃতি ও পরিবেশকে গুরুত্ব দিয়ে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা শহরে পরিকল্পিত আবাসন গড়ে তোলা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আবাসন সংকট মোকাবিলায় বেসরকারি উদ্যোক্তাসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন। নাগরিকদের মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নে ব্লকভিত্তিক আবাসন উৎসাহিত করার পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক পার্ক, খেলার মাঠ স্থাপন এবং নির্ধারিত জোনে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে। সরকারি পরিকল্পনাগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হলে সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান একটি বাস্তবতায় পরিণত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

আফগানিস্তানের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল

সবার জন্য নিরাপদ ও টেকসই আবাসন নিশ্চিতে সরকার বদ্ধপরিকর: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:৩০:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

নাগরিকদের জন্য নিরাপদ, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ বাসস্থান নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এই অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু একটি ঘর নয়, বরং নাগরিকের জন্য একটি নিরাপদ ও টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করাই এখন সময়ের বড় দাবি।

তিনি আরও বলেন, একটি টেকসই আবাসনের সঙ্গে নিরাপদ পানি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন, গণপরিবহণ ও সড়ক ব্যবস্থার পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সরাসরি জড়িত। বাংলাদেশের মতো জনবহুল রাষ্ট্রে সবার জন্য এমন আবাসন নিশ্চিত করা চ্যালেঞ্জিং হলেও, প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে সরকার প্রতিটি বাধা মোকাবিলায় কাজ করে যাচ্ছে।

ঢাকা ও দেশের অন্যান্য বড় শহরগুলোতে জনসংখ্যার অত্যধিক চাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহরগুলোতে সাশ্রয়ী ও মানসম্মত আবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও সুপরিকল্পিত নগর গড়ে তোলা জরুরি। তার মতে, সর্বজনীন আবাসন নাগরিকদের মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার। এই অধিকার রক্ষায় বর্তমান সরকার গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নিরলসভাবে কাজ করছে।

সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিকল্পিত নগরায়ণের জন্য প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে। এর ফলে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজির ১১ নম্বর অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে।

শহরাঞ্চলে জনগণের চাপ কমাতে সরকার কার্যকর বিকল্পের ওপর জোর দিচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজধানী ঢাকাসহ শহরগুলোর সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত ও সাশ্রয়ী করার পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে নাগরিক সুবিধা বাড়িয়ে শহরাঞ্চলে মানুষের চাপ কমানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। সরকার কেন্দ্রীভূত নগরায়ণের পরিবর্তে বিকেন্দ্রীভূত ও ভারসাম্যপূর্ণ আঞ্চলিক উন্নয়নে বিশ্বাসী।

তিনি আরও বলেন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে সারাদেশের জন্য স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং ঢাকার আশপাশে সেকেন্ডারি টাউনশিপ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এছাড়া প্রকৃতি ও পরিবেশকে গুরুত্ব দিয়ে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা শহরে পরিকল্পিত আবাসন গড়ে তোলা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আবাসন সংকট মোকাবিলায় বেসরকারি উদ্যোক্তাসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন। নাগরিকদের মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নে ব্লকভিত্তিক আবাসন উৎসাহিত করার পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক পার্ক, খেলার মাঠ স্থাপন এবং নির্ধারিত জোনে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে। সরকারি পরিকল্পনাগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হলে সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান একটি বাস্তবতায় পরিণত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।