লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিউগিনি আবাসন প্রকল্পে হামলা: খাবারের দোকানে ছক কষে লোক জোগায় দুই বাহিনী

রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগিনি আবাসন প্রকল্পে গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতের সশস্ত্র হামলার নেপথ্য কাহিনী উন্মোচন করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তদন্তকারী সূত্র জানিয়েছে, জমি ও চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে একটি খাবারের দোকানে বসে এই হামলার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করা হয়। এরপর মিরপুরের দুটি কুখ্যাত সন্ত্রাসী বাহিনী থেকে ভাড়াটে লোক জোগাড় করে রাতের অন্ধকারে চালানো হয় এই তাণ্ডব।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হামলার দিন দুপুরে ইসিবি চত্বরের একটি খাবারের দোকানে বৈঠক হয়। সিসিটিভি ফুটেজে সেখানে ১৩ জনকে দেখা গেছে, যাদের মধ্যে গ্রেপ্তার শাহরিয়ার মাহমুদ ও ঠিকাদার বিকাশ চন্দ্র শাহকে শনাক্ত করা হয়েছে। বৈঠক থেকে হামলার সিদ্ধান্ত হওয়ার পর লোক জোগাড়ের দায়িত্ব পান বিকাশ। তিনি মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ আলম অনিকের মাধ্যমে মিরপুরের মো. ইব্রাহিম ও পল্লবীর মফিজুর রহমান মামুনের বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বিকেল চারটার দিকে ভাষানটেকের দেওয়ানপাড়া দোতলা মসজিদের সামনের মাঠে এবং মানিকদী এলাকায় হামলাকারীরা জড়ো হয়। এরপর প্রায় ২০০ হামলাকারী লাঠিসোঁটা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে পাঁচটি পিকআপে করে এবং হেঁটে নিউগিনি আবাসন প্রকল্পে যায়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে মূল ফটকে গুলি ছুড়ে তারা হামলা শুরু করে।

হামলায় অংশ নেওয়া ইব্রাহিম ভাষানটেক থানা বিএনপির আহ্বায়ক, পুলিশের তালিকায় যিনি ‘কিলার ইব্রাহিম’ নামে পরিচিত। দেওয়ানপাড়া দোতলা মসজিদের সামনে ইব্রাহিমের একটি কার্যালয় রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইব্রাহিমের বাহিনীর মাসুম ওরফে ফরসা মাসুম ভাষানটেক বস্তি ও পল্লবী থেকে লোক জড়ো করে প্রকল্পে নিয়ে যান। হামলাকারীদের বড় অংশই ছিল ভাষানটেক বস্তির বাসিন্দা। ইব্রাহিমের অনুসারী যুবরাজ, শাহেদ, শাকিল, রূপচান, বাবলু ও বুকপোড়া সুমনও এই হামলায় জড়িত ছিলেন বলে পুলিশের দাবি। স্থানীয়রা জানান, এলাকায় ভবন নির্মাণ করতে গেলে ইব্রাহিমের অনুসারীরা মাটি ভরাট ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী কিনতে বাধ্য করে। রাজি না হলে গুলি চালানোর ঘটনাও ঘটে। অন্যদিকে, পল্লবীর মফিজুর রহমান মামুন ছিলেন ৯১ নম্বর ওয়ান্ট বিএনপির সভাপতি। খুন, জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে গত মঙ্গলবার তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তাঁর বাহিনী মিরপুর এলাকায় ভাড়াটে হিসেবে জমি দখল ও বিভিন্ন অপরাধে জড়িত।

হামলার সময় আবাসন প্রকল্পের ভেতরে থাকা কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। ঘটনার রাতেই সালমান একটি ভিডিও প্রকাশ করলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। সম্প্রতি একটি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাবের তথ্য ও লেনদেনের বিবরণ চেয়েছে। হামলার সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ৫টি গুলি ছুড়লেও হামলাকারীরা প্রায় ৫০টি গুলি ছুড়েছিল। এমনকি ঘটনাস্থলে যাওয়া ছয়জন পুলিশ সদস্যকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়, যাদের এখনো শনাক্ত করা যায়নি। মামলাটি বর্তমানে ডিবি গালশান বিভাগে হস্তান্তরিত হয়েছে। ডিবির উপকমিশনার আ ফ ম আনোয়ার হোসেন জানান, এ পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী, মিজানুর রহমান, শাহরিয়ার মাহমুদ, শাহ আলম, মামুন, আসলাম ও মুন্না। তাঁরা সবাই রিমান্ডে আছেন। তবে গ্রেপ্তার হওয়া মামুন ও বাহিনীপ্রধান মফিজুর রহমান মামুন আলাদা ব্যক্তি।

তদন্তে জানা গেছে, প্রকল্পসংলগ্ন ৩৫ কাঠা জমি ও রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে এই হামলা হয়েছে। নিউগিনি আবাসন প্রকল্পের মালিক নাজিম উদ্দিন ভুঁইয়া ২০১১ সাল থেকে ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন ইসিবি চত্বর এলাকায় জমি কিনে আবাসন ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে তাঁর প্রকল্পের আয়তন ১০ থেকে ১২ বিঘা। নাজিম উদ্দিনের দাবি, ৩৫ কাঠা জমির মধ্যে ১৫ কাঠা জমি গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী তাঁর কাছে বিক্রি করেছিলেন। সেখানে মাটি ভরাট করে সীমানাপ্রাচীর দেওয়া হলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর হামলা চালিয়ে তা ভেঙে দেওয়া হয়। গোলাম মহিউদ্দিন জমি বুঝিয়ে না দিয়ে সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণের ঘোষণা দেন এবং নিউগিনি প্রকল্পের ভেতর দিয়ে রাস্তা দাবি করেন। রাস্তা দিতে রাজি না হওয়ায় ঠিকাদার বিকাশকে দিয়ে এই হামলা চালানো হয়। বিকাশ বর্তমানে আত্মগোপনে আছেন।

অন্যদিকে, নিউগিনির মালিক নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধেও জমি জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। জোয়ার সাহারা এলাকায় সাড়ে আট কাঠা জমির পুরো দাম পরিশোধ না করে অন্যের কাছে বিক্রি করার অভিযোগে গত জুলাইয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেন মিজানুর রহমান। এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালে জমিটি কেনার জন্য ৫ কোটি ৪০ লাখ টাকায় বায়নাপত্র হয়। নাজিম ১ কোটি টাকা পরিশোধ করলেও বাকি ৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা ৫ মাসের মধ্যে পরিশোধ না করে জমিটি অন্যের কাছে বিক্রি করে দেন। রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগের বিষয়ে নাজিম উদ্দিন বলেন, ব্যবসায়িক প্রতিপক্ষরা তাঁকে বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে হয়রানি করেছে। ২০২২ সালে বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইনে ঢাকার বিভিন্ন থানায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং তিনি কারাগারে ছিলেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময়ও তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তাঁকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে মামলা দেওয়া হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

এলপিজির দাম সমন্বয়ে সরকার বাধ্য হয়েছে: জাহেদ উর রহমান

নিউগিনি আবাসন প্রকল্পে হামলা: খাবারের দোকানে ছক কষে লোক জোগায় দুই বাহিনী

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৩১:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগিনি আবাসন প্রকল্পে গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতের সশস্ত্র হামলার নেপথ্য কাহিনী উন্মোচন করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তদন্তকারী সূত্র জানিয়েছে, জমি ও চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে একটি খাবারের দোকানে বসে এই হামলার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করা হয়। এরপর মিরপুরের দুটি কুখ্যাত সন্ত্রাসী বাহিনী থেকে ভাড়াটে লোক জোগাড় করে রাতের অন্ধকারে চালানো হয় এই তাণ্ডব।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হামলার দিন দুপুরে ইসিবি চত্বরের একটি খাবারের দোকানে বৈঠক হয়। সিসিটিভি ফুটেজে সেখানে ১৩ জনকে দেখা গেছে, যাদের মধ্যে গ্রেপ্তার শাহরিয়ার মাহমুদ ও ঠিকাদার বিকাশ চন্দ্র শাহকে শনাক্ত করা হয়েছে। বৈঠক থেকে হামলার সিদ্ধান্ত হওয়ার পর লোক জোগাড়ের দায়িত্ব পান বিকাশ। তিনি মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ আলম অনিকের মাধ্যমে মিরপুরের মো. ইব্রাহিম ও পল্লবীর মফিজুর রহমান মামুনের বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বিকেল চারটার দিকে ভাষানটেকের দেওয়ানপাড়া দোতলা মসজিদের সামনের মাঠে এবং মানিকদী এলাকায় হামলাকারীরা জড়ো হয়। এরপর প্রায় ২০০ হামলাকারী লাঠিসোঁটা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে পাঁচটি পিকআপে করে এবং হেঁটে নিউগিনি আবাসন প্রকল্পে যায়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে মূল ফটকে গুলি ছুড়ে তারা হামলা শুরু করে।

হামলায় অংশ নেওয়া ইব্রাহিম ভাষানটেক থানা বিএনপির আহ্বায়ক, পুলিশের তালিকায় যিনি ‘কিলার ইব্রাহিম’ নামে পরিচিত। দেওয়ানপাড়া দোতলা মসজিদের সামনে ইব্রাহিমের একটি কার্যালয় রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইব্রাহিমের বাহিনীর মাসুম ওরফে ফরসা মাসুম ভাষানটেক বস্তি ও পল্লবী থেকে লোক জড়ো করে প্রকল্পে নিয়ে যান। হামলাকারীদের বড় অংশই ছিল ভাষানটেক বস্তির বাসিন্দা। ইব্রাহিমের অনুসারী যুবরাজ, শাহেদ, শাকিল, রূপচান, বাবলু ও বুকপোড়া সুমনও এই হামলায় জড়িত ছিলেন বলে পুলিশের দাবি। স্থানীয়রা জানান, এলাকায় ভবন নির্মাণ করতে গেলে ইব্রাহিমের অনুসারীরা মাটি ভরাট ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী কিনতে বাধ্য করে। রাজি না হলে গুলি চালানোর ঘটনাও ঘটে। অন্যদিকে, পল্লবীর মফিজুর রহমান মামুন ছিলেন ৯১ নম্বর ওয়ান্ট বিএনপির সভাপতি। খুন, জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে গত মঙ্গলবার তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তাঁর বাহিনী মিরপুর এলাকায় ভাড়াটে হিসেবে জমি দখল ও বিভিন্ন অপরাধে জড়িত।

হামলার সময় আবাসন প্রকল্পের ভেতরে থাকা কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। ঘটনার রাতেই সালমান একটি ভিডিও প্রকাশ করলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। সম্প্রতি একটি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাবের তথ্য ও লেনদেনের বিবরণ চেয়েছে। হামলার সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ৫টি গুলি ছুড়লেও হামলাকারীরা প্রায় ৫০টি গুলি ছুড়েছিল। এমনকি ঘটনাস্থলে যাওয়া ছয়জন পুলিশ সদস্যকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়, যাদের এখনো শনাক্ত করা যায়নি। মামলাটি বর্তমানে ডিবি গালশান বিভাগে হস্তান্তরিত হয়েছে। ডিবির উপকমিশনার আ ফ ম আনোয়ার হোসেন জানান, এ পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী, মিজানুর রহমান, শাহরিয়ার মাহমুদ, শাহ আলম, মামুন, আসলাম ও মুন্না। তাঁরা সবাই রিমান্ডে আছেন। তবে গ্রেপ্তার হওয়া মামুন ও বাহিনীপ্রধান মফিজুর রহমান মামুন আলাদা ব্যক্তি।

তদন্তে জানা গেছে, প্রকল্পসংলগ্ন ৩৫ কাঠা জমি ও রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে এই হামলা হয়েছে। নিউগিনি আবাসন প্রকল্পের মালিক নাজিম উদ্দিন ভুঁইয়া ২০১১ সাল থেকে ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন ইসিবি চত্বর এলাকায় জমি কিনে আবাসন ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে তাঁর প্রকল্পের আয়তন ১০ থেকে ১২ বিঘা। নাজিম উদ্দিনের দাবি, ৩৫ কাঠা জমির মধ্যে ১৫ কাঠা জমি গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী তাঁর কাছে বিক্রি করেছিলেন। সেখানে মাটি ভরাট করে সীমানাপ্রাচীর দেওয়া হলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর হামলা চালিয়ে তা ভেঙে দেওয়া হয়। গোলাম মহিউদ্দিন জমি বুঝিয়ে না দিয়ে সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণের ঘোষণা দেন এবং নিউগিনি প্রকল্পের ভেতর দিয়ে রাস্তা দাবি করেন। রাস্তা দিতে রাজি না হওয়ায় ঠিকাদার বিকাশকে দিয়ে এই হামলা চালানো হয়। বিকাশ বর্তমানে আত্মগোপনে আছেন।

অন্যদিকে, নিউগিনির মালিক নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধেও জমি জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। জোয়ার সাহারা এলাকায় সাড়ে আট কাঠা জমির পুরো দাম পরিশোধ না করে অন্যের কাছে বিক্রি করার অভিযোগে গত জুলাইয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেন মিজানুর রহমান। এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালে জমিটি কেনার জন্য ৫ কোটি ৪০ লাখ টাকায় বায়নাপত্র হয়। নাজিম ১ কোটি টাকা পরিশোধ করলেও বাকি ৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা ৫ মাসের মধ্যে পরিশোধ না করে জমিটি অন্যের কাছে বিক্রি করে দেন। রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগের বিষয়ে নাজিম উদ্দিন বলেন, ব্যবসায়িক প্রতিপক্ষরা তাঁকে বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে হয়রানি করেছে। ২০২২ সালে বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইনে ঢাকার বিভিন্ন থানায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং তিনি কারাগারে ছিলেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময়ও তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তাঁকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে মামলা দেওয়া হচ্ছে।