লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৪:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রামেবি ভিসিকে হেনস্তা ও পদত্যাগে বাধ্য করায় মামলা, গ্রেপ্তার ১

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোহা. জাওয়াদুল হককে মব সৃষ্টি করে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে সই করানোর অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) ও সেকশন অফিসার (অর্থ) মো. নাজমুল হোসাইন বাদী হয়ে এই মামলাটি করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

বুধবার দুপুরে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. গাজিউর রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় আব্দুস সালাম নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি রাজশাহী মহানগরের রাজপাড়া থানা বিএনপির স্থগিত কমিটির সহ-সভাপতি ছিলেন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঘটনাস্থলের ভিডিও ও ছবি বিশ্লেষণ করে জড়িত অন্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মামলার বাদী মো. নাজমুল হোসাইন বলেন, মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে এবং বুধবার সকালে তিনি একজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য পেয়েছেন। তিনি জানান, ঘটনার দিন তারা সবাই আতঙ্কিত ছিলেন।

এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ‘আপামর ছাত্র-জনতা’ পরিচয়ে একদল ব্যক্তি মিছিল নিয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ে প্রবেশ করে। হামলাকারীরা উপাচার্যকে আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ অ্যাখ্যা দেয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ ঢাকার ঠিকাদারদের দেওয়ার অভিযোগ তোলে। এ সময় উপাচার্য ও সেকশন অফিসারকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং আগে থেকে লিখে আনা পদত্যাগপত্রে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

উপাচার্য ডা. মোহা. জাওয়াদুল হক জানান, ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল পিয়নদের ধাক্কা দিয়ে দপ্তরে ঢুকে তাকে চেয়ার থেকে উঠে আসতে বাধ্য করে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি এমন ছিল যে স্বাক্ষর না করলে অন্যদের মতো তার সঙ্গেও খারাপ আচরণের আশঙ্কা ছিল। স্বাক্ষর নেওয়ার পর হামলাকারীরা কক্ষ থেকে বের করে দিয়ে প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এ সময় উপাচার্যের কক্ষের কম্পিউটারের সিপিইউ এবং সিসিটিভি ফুটেজের যন্ত্রপাতি খুলে নেওয়া হয় এবং পুরো ক্যাম্পাসের বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। ঘটনার দিন বিকালে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় রেস্ট হাউজে সংবাদ সম্মেলন করে উপাচার্য জানান, হামলাকারীরা তার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে তাকে গালিগালাজ করে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদক নির্মূলে তরুণদের সামাজিক আন্দোলনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

রামেবি ভিসিকে হেনস্তা ও পদত্যাগে বাধ্য করায় মামলা, গ্রেপ্তার ১

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:১৫:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোহা. জাওয়াদুল হককে মব সৃষ্টি করে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে সই করানোর অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) ও সেকশন অফিসার (অর্থ) মো. নাজমুল হোসাইন বাদী হয়ে এই মামলাটি করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

বুধবার দুপুরে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. গাজিউর রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় আব্দুস সালাম নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি রাজশাহী মহানগরের রাজপাড়া থানা বিএনপির স্থগিত কমিটির সহ-সভাপতি ছিলেন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঘটনাস্থলের ভিডিও ও ছবি বিশ্লেষণ করে জড়িত অন্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মামলার বাদী মো. নাজমুল হোসাইন বলেন, মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে এবং বুধবার সকালে তিনি একজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য পেয়েছেন। তিনি জানান, ঘটনার দিন তারা সবাই আতঙ্কিত ছিলেন।

এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ‘আপামর ছাত্র-জনতা’ পরিচয়ে একদল ব্যক্তি মিছিল নিয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ে প্রবেশ করে। হামলাকারীরা উপাচার্যকে আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ অ্যাখ্যা দেয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ ঢাকার ঠিকাদারদের দেওয়ার অভিযোগ তোলে। এ সময় উপাচার্য ও সেকশন অফিসারকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং আগে থেকে লিখে আনা পদত্যাগপত্রে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

উপাচার্য ডা. মোহা. জাওয়াদুল হক জানান, ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল পিয়নদের ধাক্কা দিয়ে দপ্তরে ঢুকে তাকে চেয়ার থেকে উঠে আসতে বাধ্য করে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি এমন ছিল যে স্বাক্ষর না করলে অন্যদের মতো তার সঙ্গেও খারাপ আচরণের আশঙ্কা ছিল। স্বাক্ষর নেওয়ার পর হামলাকারীরা কক্ষ থেকে বের করে দিয়ে প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এ সময় উপাচার্যের কক্ষের কম্পিউটারের সিপিইউ এবং সিসিটিভি ফুটেজের যন্ত্রপাতি খুলে নেওয়া হয় এবং পুরো ক্যাম্পাসের বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। ঘটনার দিন বিকালে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় রেস্ট হাউজে সংবাদ সম্মেলন করে উপাচার্য জানান, হামলাকারীরা তার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে তাকে গালিগালাজ করে।