লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নোবেল শান্তি পুরস্কার আমারই পাওয়া উচিত: ডোনাল্ড ট্রাম্প

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণার আগে আবারও নিজের শান্তিতে নোবেল পাওয়ার জোরালো দাবি তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে শেষ পর্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কারটি তিনি পাবেন কি না, তা নিয়ে নিজের মনেই সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, আগামী শুক্রবার নরওয়ের নোবেল কমিটি এবারের শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করবে। এর আগে গত বুধবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, নোবেল কমিটি কী সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে তা তিনি জানেন না। তাদের বেশ সুনাম রয়েছে এবং হয়তো তার মতো একজন মানুষকে তারা এই পুরস্কার নাও দিতে পারে।

গত বছর দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকেই ট্রাম্প অনবরত দাবি করে আসছেন যে এই বিশ্বখ্যাত পুরস্কারটি তার প্রাপ্য। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এখন সেই সময় এসেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, গতবার পরোক্ষভাবে এই সম্মান পেয়ে তিনি অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করেছিলেন। তার দাবি, সেবার যিনি পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি নিজেই বলেছিলেন যে ইতিহাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চেয়ে বেশি যোগ্য আর কেউ নেই। মূলত, ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে নিজের রাজনৈতিক তৎপরতা জোরদার করার সময় তার পদকটি ট্রাম্পকে উৎসর্গ করে তার হাতে তুলে দিয়েছিলেন। ট্রাম্প সম্ভবত এই ঘটনাটিকেই পরোক্ষভাবে পুরস্কার পাওয়া হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর আটটি দ্বন্দ্বে মধ্যস্থতা বা হস্তক্ষেপ করার দাবি তুলে ট্রাম্প নিজেকে নোবেল পাওয়ার যোগ্য বলে মনে করেন। তিনি জানিয়েছেন, কম্বোডিয়া, ইসরাইল ও পাকিস্তানের নেতারা তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছেন। অবশ্য এই মনোনয়নের সত্যতা যাচাই করার কোনো স্বাধীন উপায় নেই। তাছাড়া ট্রাম্প যেসব সংঘাতের সমাধান করেছেন বলে দাবি করেন, সেগুলোর সঙ্গে জড়িত কিছু পক্ষ তার কূটনৈতিক ভূমিকা নিয়ে আপত্তি তুলেছে। এমনকি ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো এবং কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড সীমান্তের মতো কিছু অঞ্চলে পুনরায় লড়াই শুরু হয়েছে。

হোয়াইট হাউসে ফেরার প্রথম দিনেই ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে এই যুদ্ধের অবসান ঘটানো ট্রাম্পের নাগালের বাইরেই রয়ে গেছে। অন্যদিকে, ইরান ও ইসরাইলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত এবং গত সাত মাস ধরে চলা তীব্র উত্তেজনা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে, যার ফলে গ্যাসের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। নভেম্বরের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এর পাশাপাশি ট্রাম্পের অন্যান্য বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও পরিকল্পনার কথাও আলোচনায় রয়েছে। তিনি ইরানের সঙ্গে এখনও যুদ্ধাবস্থায় আছেন, কানাডা দখল করে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম রাজ্য বানানোর পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন এবং লেক অব টরন্টোকে নিজের মতো করে 'লেক অব আমেরিকা' নামকরণ করেছেন। এছাড়া গ্রিনল্যান্ড দখল করার হুমকি এবং গাজা দখল করে সেখানে 'রিভেরা' বানানোর পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছেন তিনি।

শুধু তাই নয়, ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তার দেশের রাজধানী থেকে তুলে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসা, ভেনিজুয়েলার তেল কার্যত নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া, কিউবার ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে উচ্চহারে শুল্ক আরোপের মতো পদক্ষেপ নিয়েছেন ট্রাম্প। এ ধরনের আগ্রাসী নীতি ও অমীমাংসিত যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও ট্রাম্পের নোবেল পাওয়ার এই প্রত্যাশা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। উল্লেখ্য, এবারের নোবেল শান্তি পুরস্কারের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় পোপ লিও, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ারের নামও রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলায় মামলা, ছাত্রদল নেতার স্বীকারোক্তিতে তোলপাড়

নোবেল শান্তি পুরস্কার আমারই পাওয়া উচিত: ডোনাল্ড ট্রাম্প

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৩২:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণার আগে আবারও নিজের শান্তিতে নোবেল পাওয়ার জোরালো দাবি তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে শেষ পর্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কারটি তিনি পাবেন কি না, তা নিয়ে নিজের মনেই সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, আগামী শুক্রবার নরওয়ের নোবেল কমিটি এবারের শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করবে। এর আগে গত বুধবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, নোবেল কমিটি কী সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে তা তিনি জানেন না। তাদের বেশ সুনাম রয়েছে এবং হয়তো তার মতো একজন মানুষকে তারা এই পুরস্কার নাও দিতে পারে।

গত বছর দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকেই ট্রাম্প অনবরত দাবি করে আসছেন যে এই বিশ্বখ্যাত পুরস্কারটি তার প্রাপ্য। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এখন সেই সময় এসেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, গতবার পরোক্ষভাবে এই সম্মান পেয়ে তিনি অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করেছিলেন। তার দাবি, সেবার যিনি পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি নিজেই বলেছিলেন যে ইতিহাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চেয়ে বেশি যোগ্য আর কেউ নেই। মূলত, ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে নিজের রাজনৈতিক তৎপরতা জোরদার করার সময় তার পদকটি ট্রাম্পকে উৎসর্গ করে তার হাতে তুলে দিয়েছিলেন। ট্রাম্প সম্ভবত এই ঘটনাটিকেই পরোক্ষভাবে পুরস্কার পাওয়া হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর আটটি দ্বন্দ্বে মধ্যস্থতা বা হস্তক্ষেপ করার দাবি তুলে ট্রাম্প নিজেকে নোবেল পাওয়ার যোগ্য বলে মনে করেন। তিনি জানিয়েছেন, কম্বোডিয়া, ইসরাইল ও পাকিস্তানের নেতারা তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছেন। অবশ্য এই মনোনয়নের সত্যতা যাচাই করার কোনো স্বাধীন উপায় নেই। তাছাড়া ট্রাম্প যেসব সংঘাতের সমাধান করেছেন বলে দাবি করেন, সেগুলোর সঙ্গে জড়িত কিছু পক্ষ তার কূটনৈতিক ভূমিকা নিয়ে আপত্তি তুলেছে। এমনকি ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো এবং কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড সীমান্তের মতো কিছু অঞ্চলে পুনরায় লড়াই শুরু হয়েছে。

হোয়াইট হাউসে ফেরার প্রথম দিনেই ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে এই যুদ্ধের অবসান ঘটানো ট্রাম্পের নাগালের বাইরেই রয়ে গেছে। অন্যদিকে, ইরান ও ইসরাইলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত এবং গত সাত মাস ধরে চলা তীব্র উত্তেজনা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে, যার ফলে গ্যাসের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। নভেম্বরের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এর পাশাপাশি ট্রাম্পের অন্যান্য বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও পরিকল্পনার কথাও আলোচনায় রয়েছে। তিনি ইরানের সঙ্গে এখনও যুদ্ধাবস্থায় আছেন, কানাডা দখল করে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম রাজ্য বানানোর পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন এবং লেক অব টরন্টোকে নিজের মতো করে 'লেক অব আমেরিকা' নামকরণ করেছেন। এছাড়া গ্রিনল্যান্ড দখল করার হুমকি এবং গাজা দখল করে সেখানে 'রিভেরা' বানানোর পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছেন তিনি।

শুধু তাই নয়, ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তার দেশের রাজধানী থেকে তুলে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসা, ভেনিজুয়েলার তেল কার্যত নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া, কিউবার ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে উচ্চহারে শুল্ক আরোপের মতো পদক্ষেপ নিয়েছেন ট্রাম্প। এ ধরনের আগ্রাসী নীতি ও অমীমাংসিত যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও ট্রাম্পের নোবেল পাওয়ার এই প্রত্যাশা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। উল্লেখ্য, এবারের নোবেল শান্তি পুরস্কারের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় পোপ লিও, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ারের নামও রয়েছে।