লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেন্দুয়ায় ৪৪ মণ্ডপে দুর্গাপূজার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, জোরদার নিরাপত্তা

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। উপজেলার ৪৪টি পূজামণ্ডপে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের সাজসজ্জা ও রঙ-তুলির কাজ। গত বছরের চেয়ে এবার মণ্ডপের সংখ্যা দুটি বেড়েছে। উৎসবকে ঘিরে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে বিরাজ করছে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা।

আজ সকালে উপজেলার বেশ কয়েকটি পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে প্রতিমা শিল্পীদের দিন-রাত ব্যস্ততার চিত্র। কেন্দুয়া পৌরসভার শ্রী শ্রী হরিসভা দুর্গামন্দির, পূর্বরায় সার্বজনীন দুর্গামন্দির, কান্দিউড়া সাহাপাড়া দুর্গামন্দির, মোজাফফরপুর বর্মন পাড়া দুর্গামন্দির, সাহিতপুর ত্রিনেত্রশ্বরী দুর্গামন্দির, বাট্টা সার্বজনীন দুর্গামন্দির এবং আশুজিয়া সরকার বাড়ি দুর্গামন্দিরসহ বিভিন্ন মণ্ডপে কারিগররা প্রতিমার চোখ-মুখ, পোশাক ও সূক্ষ্ম অলংকরণের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ তুলিতে রঙ করছেন, কেউ আবার ব্যস্ত সূক্ষ্ম কারুকাজে।

শৈশব থেকে প্রতিমা তৈরি করে আসা কারিগর দিলীপ পাল জানান, মাটির কাজ শেষ হওয়ার পর রঙ ও তুলির আঁচড়ই প্রতিমাকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেয়। বিশেষ করে চোখ-মুখের অভিব্যক্তি ও অলংকারের কাজে বাড়তি যত্ন নিতে হয় বলে পূজার এই শেষ মুহূর্তে তাদের ব্যস্ততা অনেক বেড়ে গেছে।

কেন্দুয়া উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক সজল কুমার সরকার জানান, প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ হলেও মণ্ডপগুলোর সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জার অন্যান্য প্রস্তুতি এখন পুরোদমে চলছে। তিনি জানান, এবার উপজেলায় মোট ৪৪টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে, যার মধ্যে ৩৮টি স্থায়ী এবং ৬টি অস্থায়ী।

এদিকে পূজাকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, উপজেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপে পুলিশের পাশাপাশি আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তারা তৎপর থাকবেন।

কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ সানজিদা চৌধুরী জানান, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এই উৎসব যাতে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হতে পারে, সেজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ জনের মৃত্যু

কেন্দুয়ায় ৪৪ মণ্ডপে দুর্গাপূজার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, জোরদার নিরাপত্তা

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:০৪:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। উপজেলার ৪৪টি পূজামণ্ডপে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের সাজসজ্জা ও রঙ-তুলির কাজ। গত বছরের চেয়ে এবার মণ্ডপের সংখ্যা দুটি বেড়েছে। উৎসবকে ঘিরে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে বিরাজ করছে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা।

আজ সকালে উপজেলার বেশ কয়েকটি পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে প্রতিমা শিল্পীদের দিন-রাত ব্যস্ততার চিত্র। কেন্দুয়া পৌরসভার শ্রী শ্রী হরিসভা দুর্গামন্দির, পূর্বরায় সার্বজনীন দুর্গামন্দির, কান্দিউড়া সাহাপাড়া দুর্গামন্দির, মোজাফফরপুর বর্মন পাড়া দুর্গামন্দির, সাহিতপুর ত্রিনেত্রশ্বরী দুর্গামন্দির, বাট্টা সার্বজনীন দুর্গামন্দির এবং আশুজিয়া সরকার বাড়ি দুর্গামন্দিরসহ বিভিন্ন মণ্ডপে কারিগররা প্রতিমার চোখ-মুখ, পোশাক ও সূক্ষ্ম অলংকরণের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ তুলিতে রঙ করছেন, কেউ আবার ব্যস্ত সূক্ষ্ম কারুকাজে।

শৈশব থেকে প্রতিমা তৈরি করে আসা কারিগর দিলীপ পাল জানান, মাটির কাজ শেষ হওয়ার পর রঙ ও তুলির আঁচড়ই প্রতিমাকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেয়। বিশেষ করে চোখ-মুখের অভিব্যক্তি ও অলংকারের কাজে বাড়তি যত্ন নিতে হয় বলে পূজার এই শেষ মুহূর্তে তাদের ব্যস্ততা অনেক বেড়ে গেছে।

কেন্দুয়া উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক সজল কুমার সরকার জানান, প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ হলেও মণ্ডপগুলোর সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জার অন্যান্য প্রস্তুতি এখন পুরোদমে চলছে। তিনি জানান, এবার উপজেলায় মোট ৪৪টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে, যার মধ্যে ৩৮টি স্থায়ী এবং ৬টি অস্থায়ী।

এদিকে পূজাকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, উপজেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপে পুলিশের পাশাপাশি আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তারা তৎপর থাকবেন।

কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ সানজিদা চৌধুরী জানান, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এই উৎসব যাতে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হতে পারে, সেজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।