লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেধা তালিকায় দ্বিতীয় হয়েও শিক্ষক হতে পারলেন না লালমোহনের ফয়জুল

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় মেধা তালিকায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেও শেষ পর্যন্ত নিয়োগপত্র পাননি ভোলার লালমোহন উপজেলার মো. ফয়জুল আলম। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্ত সুপারিশ পেলেও পুলিশ ভেরিফিকেশনে বাদ পড়ায় চূড়ান্ত গেজেটে তার নাম আসেনি। এতে চরম হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে গেজেটে নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে এখন বিভিন্ন dপ্তরে ঘুরছেন তিনি।

নিয়োগবঞ্চিত ফয়জুল আলম লালমোহন উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চরটিটিয়া এলাকার কাজী মো. নূরুল ইসলামের ছেলে। তিনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাজস্ব খাতভুক্ত সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৫ এ অংশগ্রহণ করেছিলেন।

জানা গেছে, ভোলা জেলায় এই নিয়োগ পরীক্ষায় মোট ২৫৬ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হন। এর মধ্যে লালমোহন উপজেলার ৪৩ জন প্রার্থীর মধ্যে ফয়জুল আলম ছাড়া বাকি ৪২ জনই নিয়োগপত্র পেয়ে চাকরিতে যোগদান করেছেন। মেধা তালিকায় দ্বিতীয় হয়েও একমাত্র ফয়জুলই নিয়োগবঞ্চিত রয়ে গেছেন।

নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে ফয়জুল আলম বলেন, আমার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অপরাধ বা ফৌজদারি মামলার রেকর্ড নেই। আমার সব কাগজপত্রও সম্পূর্ণ সঠিক রয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি হবে—এমন দৃঢ় বিশ্বাস থেকে আমি পূর্বের একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চাকরিও ছেড়ে দিয়েছি। বর্তমানে স্ত্রী, সন্তান, বৃদ্ধ বাবা-মা ও ভাই-বোন নিয়ে গঠিত আমার পরিবারটি মারাত্মক সংকটে পড়েছে।

তিনি আরও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এর আগেও আমি তিনবার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা পর্যন্ত গিয়েছিলাম, কিন্তু চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হতে পারিনি। এবার মেধা তালিকায় দ্বিতীয় হয়ে চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পরও ভেরিফিকেশনে কোনো এক ‘অদৃশ্য কারণে’ আমার চাকরিটি আটকে দেওয়া হলো। সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা পার হয়ে যাওয়ায় আমার আর নতুন করে আবেদন করার সুযোগও নেই। মেধার সঠিক মূল্যায়ন না করে এমন অস্বচ্ছ ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি করা হলে আমাদের মতো সাধারণ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও চাকরির প্রস্তুতির কী মূল্য থাকবে? তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ, বিষয়টি যেন পুনর্বিবেচনা করে গেজেটে আমার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

এ বিষয়ে ভোলা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, ভোলা জেলায় লালমোহনের ফয়জুলসহ মোট চারজন শিক্ষকের নিয়োগ আটকে গেছে। এই চারজন প্রার্থীর প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। অধিদপ্তর থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে, সেই অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সৌদিতে হুতিদের হামলার ঘটনায় বাংলাদেশের তীব্র নিন্দা

মেধা তালিকায় দ্বিতীয় হয়েও শিক্ষক হতে পারলেন না লালমোহনের ফয়জুল

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:৪৪:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় মেধা তালিকায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেও শেষ পর্যন্ত নিয়োগপত্র পাননি ভোলার লালমোহন উপজেলার মো. ফয়জুল আলম। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্ত সুপারিশ পেলেও পুলিশ ভেরিফিকেশনে বাদ পড়ায় চূড়ান্ত গেজেটে তার নাম আসেনি। এতে চরম হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে গেজেটে নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে এখন বিভিন্ন dপ্তরে ঘুরছেন তিনি।

নিয়োগবঞ্চিত ফয়জুল আলম লালমোহন উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চরটিটিয়া এলাকার কাজী মো. নূরুল ইসলামের ছেলে। তিনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাজস্ব খাতভুক্ত সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৫ এ অংশগ্রহণ করেছিলেন।

জানা গেছে, ভোলা জেলায় এই নিয়োগ পরীক্ষায় মোট ২৫৬ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হন। এর মধ্যে লালমোহন উপজেলার ৪৩ জন প্রার্থীর মধ্যে ফয়জুল আলম ছাড়া বাকি ৪২ জনই নিয়োগপত্র পেয়ে চাকরিতে যোগদান করেছেন। মেধা তালিকায় দ্বিতীয় হয়েও একমাত্র ফয়জুলই নিয়োগবঞ্চিত রয়ে গেছেন।

নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে ফয়জুল আলম বলেন, আমার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অপরাধ বা ফৌজদারি মামলার রেকর্ড নেই। আমার সব কাগজপত্রও সম্পূর্ণ সঠিক রয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি হবে—এমন দৃঢ় বিশ্বাস থেকে আমি পূর্বের একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চাকরিও ছেড়ে দিয়েছি। বর্তমানে স্ত্রী, সন্তান, বৃদ্ধ বাবা-মা ও ভাই-বোন নিয়ে গঠিত আমার পরিবারটি মারাত্মক সংকটে পড়েছে।

তিনি আরও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এর আগেও আমি তিনবার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা পর্যন্ত গিয়েছিলাম, কিন্তু চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হতে পারিনি। এবার মেধা তালিকায় দ্বিতীয় হয়ে চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পরও ভেরিফিকেশনে কোনো এক ‘অদৃশ্য কারণে’ আমার চাকরিটি আটকে দেওয়া হলো। সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা পার হয়ে যাওয়ায় আমার আর নতুন করে আবেদন করার সুযোগও নেই। মেধার সঠিক মূল্যায়ন না করে এমন অস্বচ্ছ ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি করা হলে আমাদের মতো সাধারণ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও চাকরির প্রস্তুতির কী মূল্য থাকবে? তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ, বিষয়টি যেন পুনর্বিবেচনা করে গেজেটে আমার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

এ বিষয়ে ভোলা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, ভোলা জেলায় লালমোহনের ফয়জুলসহ মোট চারজন শিক্ষকের নিয়োগ আটকে গেছে। এই চারজন প্রার্থীর প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। অধিদপ্তর থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে, সেই অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।