লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যায় অটোরিকশাচালক গ্রেপ্তার

কুমিল্লায় ১৫ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত অটোরিকশাচালক সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া এ তথ্য জানান। গ্রেপ্তারের পর সুমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহত কিশোরীর ব্যবহৃত আইফোনটিও উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত ৮ অক্টোবর রাত সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে আসা ওই কিশোরী কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে তিশা কাউন্টারে নামে। সেখান থেকে নগরের রেইসকোর্স এলাকার ভাড়া বাসায় ফেরার জন্য সে ৩০০ টাকায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে। পুলিশি তদন্তে উঠে আসে, অটোরিকশাচালক সুমনকে দিয়ে ওই কিশোরী কলা ও রুটিও কিনেছিল।

বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে সুমন তাকে নির্ধারিত পথে না নিয়ে চাঁদপুর সড়কের দিকে নিয়ে যান। লাকসামের বিজরা বাজার হয়ে লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকায় পৌঁছাতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় অতিবাহিত হয়। জগতপুর এলাকায় অটোরিকশা বন্ধ করে দিলে কিশোরী গন্তব্য সম্পর্কে জানতে চায়। রেইসকোর্স নয় বুঝতে পেরে সে ভয় পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে সুমন তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে সঙ্গে থাকা গামছা দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে ধরলে ধস্তাধস্তির সময় কিশোরী দুর্বল হয়ে পড়ে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া জানান, ধর্ষণের পর কিশোরীকে ধানক্ষেতে নিয়ে গিয়ে সুমন পা দিয়ে মাথা চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। ঘটনার পর কিশোরীর ব্যাগ থেকে আইফোনটি নিয়ে ব্যাগটি ধানক্ষেতেই ফেলে রেখে অটোরিকশাটি ঘটনাস্থলে রেখে যান সুমন। এরপর তিনি কাচিকাটা মসজিদের সামনে পুকুরে গোসল সেরে আরেকটি সিএনজিতে করে বাখরাবাদ এলাকায় যান। সেখানে এক পুকুরপাড়ের ঝোপে আইফোনটি লুকিয়ে রেখে তিনি চট্টগ্রামে পালিয়ে যান। গত ৮ অক্টোবর লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের ধানক্ষেত থেকে ওই ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।

জনপ্রিয় সংবাদ

দিল্লির ব্যারিকেড সরানোর নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের, ইন্টারনেট চালুর বার্তা

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যায় অটোরিকশাচালক গ্রেপ্তার

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:০৩:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

কুমিল্লায় ১৫ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত অটোরিকশাচালক সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া এ তথ্য জানান। গ্রেপ্তারের পর সুমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহত কিশোরীর ব্যবহৃত আইফোনটিও উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত ৮ অক্টোবর রাত সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে আসা ওই কিশোরী কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে তিশা কাউন্টারে নামে। সেখান থেকে নগরের রেইসকোর্স এলাকার ভাড়া বাসায় ফেরার জন্য সে ৩০০ টাকায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে। পুলিশি তদন্তে উঠে আসে, অটোরিকশাচালক সুমনকে দিয়ে ওই কিশোরী কলা ও রুটিও কিনেছিল।

বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে সুমন তাকে নির্ধারিত পথে না নিয়ে চাঁদপুর সড়কের দিকে নিয়ে যান। লাকসামের বিজরা বাজার হয়ে লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকায় পৌঁছাতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় অতিবাহিত হয়। জগতপুর এলাকায় অটোরিকশা বন্ধ করে দিলে কিশোরী গন্তব্য সম্পর্কে জানতে চায়। রেইসকোর্স নয় বুঝতে পেরে সে ভয় পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে সুমন তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে সঙ্গে থাকা গামছা দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে ধরলে ধস্তাধস্তির সময় কিশোরী দুর্বল হয়ে পড়ে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া জানান, ধর্ষণের পর কিশোরীকে ধানক্ষেতে নিয়ে গিয়ে সুমন পা দিয়ে মাথা চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। ঘটনার পর কিশোরীর ব্যাগ থেকে আইফোনটি নিয়ে ব্যাগটি ধানক্ষেতেই ফেলে রেখে অটোরিকশাটি ঘটনাস্থলে রেখে যান সুমন। এরপর তিনি কাচিকাটা মসজিদের সামনে পুকুরে গোসল সেরে আরেকটি সিএনজিতে করে বাখরাবাদ এলাকায় যান। সেখানে এক পুকুরপাড়ের ঝোপে আইফোনটি লুকিয়ে রেখে তিনি চট্টগ্রামে পালিয়ে যান। গত ৮ অক্টোবর লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের ধানক্ষেত থেকে ওই ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।