লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক দশক পর খুলছে ওসমানী উদ্যান, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

দীর্ঘ এক দশক বন্ধ থাকার পর আজ সকাল ১০টায় আনুষ্ঠানিকভাবে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে রাজধানীর ওসমানী উদ্যান। প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে উদ্যানটি আধুনিকায়নের পাশাপাশি সেখানে নির্মাণ করা হয়েছে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিস্তম্ভ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও সংস্কার করা উদ্যান আধুনিকায়নের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনী পর্বের পর উদ্যানটি সর্বসাধারণের ব্যবহারের জন্য খুলে দেওয়া হবে।

সম্প্রতি সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উদ্যানটি নতুন করে সাজানো ও জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনের বিষয়টি জানান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, উদ্বোধনী দিনে সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে এবং তা শেষে উদ্যান সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, উদ্যানটি এমনভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে যাতে নগরবাসী সেখানে সহজেই হাঁটাচলা, অবসর যাপন এবং পরিবার-পরিজন নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটাতে পারেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বাস্তবায়নে উন্নয়ন প্রকল্পের সব কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। রোববার সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, উদ্যান প্রাঙ্গণের পরিচর্যা করা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যাতায়াতের পথ পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে এবং চারপাশের ফুটপাতের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে। নগরভবন, পুলিশ হেডকোয়ার্টার, বঙ্গবাজার, গুলিস্তান ও বাংলাদেশ সচিবালয়সংলগ্ন এই গুরুত্বপূর্ণ সবুজ পরিসরটি চালু হলে নগরবাসীর বিনোদন ও অবসর কাটানোর সুযোগ বহুগুণ বাড়বে।

উদ্যানের মূল নকশা অনুযায়ী, প্রধান প্রবেশদ্বার করা হয়েছে পুলিশ হেডকোয়ার্টারের ঠিক বিপরীত পাশে। ওই ফটক দিয়ে প্রবেশ করলেই বামপাশে নতুনে রূপ পাওয়া লেক, মাঝখানে দৃষ্টিনন্দন ফোয়ারা এবং ভেতরে আধুনিক লাইব্রেরি, জিমনেশিয়াম ও ক্যাফেটেরিয়া রাখা হয়েছে। লাইব্রেরিতে প্রবেশের আগে বামপাশের সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামলে তৈরি করা হয়েছে আন্ডারগ্রাউন্ড জাদুঘরের নির্দিষ্ট স্থান।

উদ্যানের মাঝামাঝি এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের স্মারক জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ। চারদিক পাকা করে মাঝখানে স্টিলের পাতের ওপর খোদাই করে রাখা হয়েছে জুলাই শহীদদের নাম। স্মৃতিস্তম্ভের রেলিংয়ের ভেতরের অংশে আন্দোলন-সংগ্রামের নানা আলোকচিত্র স্থায়ীভাবে স্থাপন করা হয়েছে এবং স্তম্ভের ঠিক সামনে তৈরি করা হয়েছে একাধিক প্রতীকী কবর। পাশে রয়েছে দীর্ঘ ওয়াকওয়ে বা হাঁটার পথ। নতুন প্রজন্মের কাছে গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস ও তাৎপর্য তুলে ধরতে এই স্মৃতিস্তম্ভ কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে উদ্যানকে সুজলা-সুফলা করতে পুরোনো লেক সংস্কারের পাশাপাশি রোপণ করা হয়েছে নতুন ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ।

জনপ্রিয় সংবাদ

মাঝআকাশে দরজা খোলায় ঢাকায় ভারতীয় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের জরুরি অবতরণ, রোগীর মৃত্যু

এক দশক পর খুলছে ওসমানী উদ্যান, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:০২:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

দীর্ঘ এক দশক বন্ধ থাকার পর আজ সকাল ১০টায় আনুষ্ঠানিকভাবে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে রাজধানীর ওসমানী উদ্যান। প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে উদ্যানটি আধুনিকায়নের পাশাপাশি সেখানে নির্মাণ করা হয়েছে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিস্তম্ভ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও সংস্কার করা উদ্যান আধুনিকায়নের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনী পর্বের পর উদ্যানটি সর্বসাধারণের ব্যবহারের জন্য খুলে দেওয়া হবে।

সম্প্রতি সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উদ্যানটি নতুন করে সাজানো ও জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনের বিষয়টি জানান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, উদ্বোধনী দিনে সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে এবং তা শেষে উদ্যান সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, উদ্যানটি এমনভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে যাতে নগরবাসী সেখানে সহজেই হাঁটাচলা, অবসর যাপন এবং পরিবার-পরিজন নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটাতে পারেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বাস্তবায়নে উন্নয়ন প্রকল্পের সব কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। রোববার সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, উদ্যান প্রাঙ্গণের পরিচর্যা করা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যাতায়াতের পথ পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে এবং চারপাশের ফুটপাতের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে। নগরভবন, পুলিশ হেডকোয়ার্টার, বঙ্গবাজার, গুলিস্তান ও বাংলাদেশ সচিবালয়সংলগ্ন এই গুরুত্বপূর্ণ সবুজ পরিসরটি চালু হলে নগরবাসীর বিনোদন ও অবসর কাটানোর সুযোগ বহুগুণ বাড়বে।

উদ্যানের মূল নকশা অনুযায়ী, প্রধান প্রবেশদ্বার করা হয়েছে পুলিশ হেডকোয়ার্টারের ঠিক বিপরীত পাশে। ওই ফটক দিয়ে প্রবেশ করলেই বামপাশে নতুনে রূপ পাওয়া লেক, মাঝখানে দৃষ্টিনন্দন ফোয়ারা এবং ভেতরে আধুনিক লাইব্রেরি, জিমনেশিয়াম ও ক্যাফেটেরিয়া রাখা হয়েছে। লাইব্রেরিতে প্রবেশের আগে বামপাশের সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামলে তৈরি করা হয়েছে আন্ডারগ্রাউন্ড জাদুঘরের নির্দিষ্ট স্থান।

উদ্যানের মাঝামাঝি এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের স্মারক জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ। চারদিক পাকা করে মাঝখানে স্টিলের পাতের ওপর খোদাই করে রাখা হয়েছে জুলাই শহীদদের নাম। স্মৃতিস্তম্ভের রেলিংয়ের ভেতরের অংশে আন্দোলন-সংগ্রামের নানা আলোকচিত্র স্থায়ীভাবে স্থাপন করা হয়েছে এবং স্তম্ভের ঠিক সামনে তৈরি করা হয়েছে একাধিক প্রতীকী কবর। পাশে রয়েছে দীর্ঘ ওয়াকওয়ে বা হাঁটার পথ। নতুন প্রজন্মের কাছে গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস ও তাৎপর্য তুলে ধরতে এই স্মৃতিস্তম্ভ কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে উদ্যানকে সুজলা-সুফলা করতে পুরোনো লেক সংস্কারের পাশাপাশি রোপণ করা হয়েছে নতুন ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ।