লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্রেতা সংকটে বন্ধ হয়ে গেল রাজধানীর কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি

রাজধানীর কাকরাইলে অবস্থিত কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি শপিং কমপ্লেক্সটি দীর্ঘ সময় ধরে ক্রেতা সংকটের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত বন্ধ হয়ে গেছে। গত ১ অক্টোবর থেকে বিপণিবিতানটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সোমবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, শপিং কমপ্লেক্সটির মূল ফটকের শাটার নামানো এবং তার ওপর ‘১ অক্টোবর হতে শপিং কমপ্লেক্স বন্ধ থাকিবে’ লেখা একটি পিভিসি ব্যানার ঝুলছে। যদিও মূল ফটক বন্ধ, তবে বাইরের দিকে থাকা ছয়-সাতটি দোকান ও একটি এটিএম বুথ এখনো চালু রয়েছে। এর মধ্যে দুটি ফুড কোর্টে অল্প সংখ্যক ক্রেতা দেখা গেছে।

১৯৯৮ সালে চালু হওয়া ২০ তলা এই ভবনের বেজমেন্ট ও ৪ তলা জুড়ে ছিল শপিং কমপ্লেক্সটি, আর বাকি তলাগুলো অ্যাপার্টমেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হতো। কর্ণফুলী গ্রুপের নির্মিত এই বিপণিবিতানে ১৯৮টি দোকানের মালিকানা ছিল ১২৫ জন ব্যবসায়ীর। বর্তমানে ক্রেতা না থাকায় দোকানমালিকেরা সর্বসম্মতিক্রমে মার্কেটটি বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি পুরো মালিকানা বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি শপিং কমপ্লেক্স দোকান মালিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাকীবিল্লাহ ওসমানী জানান, গত ১০ বছরের বেশি সময় ধরে ব্যবসা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। তিনি জানান, মগবাজার-মালিবাগ উড়ালসড়ক নির্মাণের সময় তীব্র যানজটের কারণে ক্রেতাসমাগম ব্যাপকভাবে কমে যায়। সেই সময় অনেক দোকানমালিক তাদের ব্যবসা পার্শ্ববর্তী মার্কেটে সরিয়ে নেন এবং উড়ালসড়কের কাজ শেষ হওয়ার পরও তারা আর ফিরে আসেননি। এরপর করোনাভাইরাস মহামারির ধাক্কায় শতাধিক দোকান বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া প্রসাধনীর দোকানে মানহীন পণ্য বিক্রির অভিযোগও মার্কেটের সুনাম ক্ষুণ্ণ করেছে।

বন্ধ হওয়ার আগে পর্যন্ত ১৯৮টি দোকানের মধ্যে মাত্র ২৫টি দোকান চালু ছিল। রেমন্ড বিক্রয়কেন্দ্রের কর্মকর্তা মো. মামুন জানিয়েছেন, তাদের মালিক এখনো দোকান ছাড়ার নোটিশ দেননি। তবে জ্ঞান বিচিত্রা নামের একটি কফিশপের মালিক জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, ব্যবসার মন্দার কারণে তারা আগামী মাসেই দোকান ছেড়ে দেবেন। সুমি’স হটকেক বিক্রয়কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মিজানুর রহমানও একই ধরনের অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছেন।

দোকান মালিক সমিতির নেতা বাকীবিল্লাহ ওসমানী আরও জানান, বিপণিবিতানের জায়গাটি হাসপাতাল, ব্যাংক বা করপোরেট প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং শিগগিরই বিষয়টি চূড়ান্ত হবে। উল্লেখ্য, কর্ণফুলী গ্রুপ এই বিপণিবিতানটি নির্মাণ করেছিল এবং এই গ্রুপের মালিকানায় আছেন সাবেক পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ আরও শক্তিশালী হয়ে উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে

ক্রেতা সংকটে বন্ধ হয়ে গেল রাজধানীর কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:০৩:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর কাকরাইলে অবস্থিত কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি শপিং কমপ্লেক্সটি দীর্ঘ সময় ধরে ক্রেতা সংকটের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত বন্ধ হয়ে গেছে। গত ১ অক্টোবর থেকে বিপণিবিতানটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সোমবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, শপিং কমপ্লেক্সটির মূল ফটকের শাটার নামানো এবং তার ওপর ‘১ অক্টোবর হতে শপিং কমপ্লেক্স বন্ধ থাকিবে’ লেখা একটি পিভিসি ব্যানার ঝুলছে। যদিও মূল ফটক বন্ধ, তবে বাইরের দিকে থাকা ছয়-সাতটি দোকান ও একটি এটিএম বুথ এখনো চালু রয়েছে। এর মধ্যে দুটি ফুড কোর্টে অল্প সংখ্যক ক্রেতা দেখা গেছে।

১৯৯৮ সালে চালু হওয়া ২০ তলা এই ভবনের বেজমেন্ট ও ৪ তলা জুড়ে ছিল শপিং কমপ্লেক্সটি, আর বাকি তলাগুলো অ্যাপার্টমেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হতো। কর্ণফুলী গ্রুপের নির্মিত এই বিপণিবিতানে ১৯৮টি দোকানের মালিকানা ছিল ১২৫ জন ব্যবসায়ীর। বর্তমানে ক্রেতা না থাকায় দোকানমালিকেরা সর্বসম্মতিক্রমে মার্কেটটি বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি পুরো মালিকানা বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি শপিং কমপ্লেক্স দোকান মালিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাকীবিল্লাহ ওসমানী জানান, গত ১০ বছরের বেশি সময় ধরে ব্যবসা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। তিনি জানান, মগবাজার-মালিবাগ উড়ালসড়ক নির্মাণের সময় তীব্র যানজটের কারণে ক্রেতাসমাগম ব্যাপকভাবে কমে যায়। সেই সময় অনেক দোকানমালিক তাদের ব্যবসা পার্শ্ববর্তী মার্কেটে সরিয়ে নেন এবং উড়ালসড়কের কাজ শেষ হওয়ার পরও তারা আর ফিরে আসেননি। এরপর করোনাভাইরাস মহামারির ধাক্কায় শতাধিক দোকান বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া প্রসাধনীর দোকানে মানহীন পণ্য বিক্রির অভিযোগও মার্কেটের সুনাম ক্ষুণ্ণ করেছে।

বন্ধ হওয়ার আগে পর্যন্ত ১৯৮টি দোকানের মধ্যে মাত্র ২৫টি দোকান চালু ছিল। রেমন্ড বিক্রয়কেন্দ্রের কর্মকর্তা মো. মামুন জানিয়েছেন, তাদের মালিক এখনো দোকান ছাড়ার নোটিশ দেননি। তবে জ্ঞান বিচিত্রা নামের একটি কফিশপের মালিক জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, ব্যবসার মন্দার কারণে তারা আগামী মাসেই দোকান ছেড়ে দেবেন। সুমি’স হটকেক বিক্রয়কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মিজানুর রহমানও একই ধরনের অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছেন।

দোকান মালিক সমিতির নেতা বাকীবিল্লাহ ওসমানী আরও জানান, বিপণিবিতানের জায়গাটি হাসপাতাল, ব্যাংক বা করপোরেট প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং শিগগিরই বিষয়টি চূড়ান্ত হবে। উল্লেখ্য, কর্ণফুলী গ্রুপ এই বিপণিবিতানটি নির্মাণ করেছিল এবং এই গ্রুপের মালিকানায় আছেন সাবেক পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী।