লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধানমন্ডিতে সাংস্কৃতিক কর্মীদের মানববন্ধনে পুলিশের বাধা, আটক ১

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বাউল গানের আসর ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাধা, শিল্পীদের ওপর হামলা এবং সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা হরণের প্রতিবাদে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আয়োজিত একটি মানববন্ধনে পুলিশের বাধার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেল চারটায় ধানমন্ডি ২৭ নম্বরের মীনা বাজারের সামনে ‘প্রতিবাদী শিল্পী জনতা’র ব্যানারে এই কর্মসূচি পালনের কথা ছিল।

কর্মসূচি শুরুর আগেই বেলা সাড়ে তিনটা থেকে ঘটনাস্থলে শতাধিক পুলিশ সদস্য অবস্থান নেন। বিকেল চারটার দিকে সাংস্কৃতিক কর্মীরা জড়ো হতে শুরু করলে সেখানে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও অংশগ্রহণকারী অভিনেত্রী সুমনা জানান, বাউলদের ওপর হামলা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে বাধার প্রতিবাদ জানাতে তারা সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন। এ সময় পুলিশ সদস্যরা তাদের ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে নিষেধ করেন। এর প্রতিবাদ জানালে পুলিশ তাদের টেনেহিঁচড়ে গাড়ির দিকে নিয়ে যায় এবং একপর্যায়ে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি দীপক শীলকে আটক করে।

অভিনেত্রী সুমনা সোমা আরও জানান, দীপক শীলকে পুলিশের গাড়িতে তোলার সময় তিনি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি দীপকের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অভিনয়শিল্পী ও নির্দেশক শামীমা শওকত লাভলী জানান, পুলিশের বাধার কারণে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি পালন করা সম্ভব হয়নি। অনেক বাউল ও সংস্কৃতিকর্মী সংহতি জানাতে এসেও মানববন্ধনে যোগ দিতে পারেননি। এমনকি সাধারণ মানুষও পুলিশের উপস্থিতিতে ভয়ে ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। লাভলী বলেন, ‘আমরা কোনো রাজনৈতিক ব্যানার নিয়ে আসিনি। জয় বাংলা বলা যাবে না, এমন বাংলাদেশ তো আমরা চাইনি।’

এ ঘটনায় ‘প্রতিবাদী শিল্পী জনতা’র পক্ষে ফজলুল কবীর তুহিন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গান ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কোনো গোষ্ঠীর অনুগ্রহের বিষয় নয়, বরং এটি মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার। বাউল ও লোকসংগীতের ওপর যেকোনো আক্রমণ অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধের পরিপন্থী। আয়োজকেরা শিল্পীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার অধিকার রক্ষার দাবি জানিয়েছেন। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পুলিশি বাধা বা উগ্রবাদী অসহিষ্ণুতা দিয়ে সংস্কৃতির কণ্ঠরোধ করা সম্ভব নয়। তারা বাঙালির গান, ঐতিহ্য ও মুক্তচিন্তার পক্ষে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ আরও শক্তিশালী হয়ে উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে

ধানমন্ডিতে সাংস্কৃতিক কর্মীদের মানববন্ধনে পুলিশের বাধা, আটক ১

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৩৬:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বাউল গানের আসর ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাধা, শিল্পীদের ওপর হামলা এবং সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা হরণের প্রতিবাদে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আয়োজিত একটি মানববন্ধনে পুলিশের বাধার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেল চারটায় ধানমন্ডি ২৭ নম্বরের মীনা বাজারের সামনে ‘প্রতিবাদী শিল্পী জনতা’র ব্যানারে এই কর্মসূচি পালনের কথা ছিল।

কর্মসূচি শুরুর আগেই বেলা সাড়ে তিনটা থেকে ঘটনাস্থলে শতাধিক পুলিশ সদস্য অবস্থান নেন। বিকেল চারটার দিকে সাংস্কৃতিক কর্মীরা জড়ো হতে শুরু করলে সেখানে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও অংশগ্রহণকারী অভিনেত্রী সুমনা জানান, বাউলদের ওপর হামলা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে বাধার প্রতিবাদ জানাতে তারা সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন। এ সময় পুলিশ সদস্যরা তাদের ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে নিষেধ করেন। এর প্রতিবাদ জানালে পুলিশ তাদের টেনেহিঁচড়ে গাড়ির দিকে নিয়ে যায় এবং একপর্যায়ে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি দীপক শীলকে আটক করে।

অভিনেত্রী সুমনা সোমা আরও জানান, দীপক শীলকে পুলিশের গাড়িতে তোলার সময় তিনি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি দীপকের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অভিনয়শিল্পী ও নির্দেশক শামীমা শওকত লাভলী জানান, পুলিশের বাধার কারণে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি পালন করা সম্ভব হয়নি। অনেক বাউল ও সংস্কৃতিকর্মী সংহতি জানাতে এসেও মানববন্ধনে যোগ দিতে পারেননি। এমনকি সাধারণ মানুষও পুলিশের উপস্থিতিতে ভয়ে ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। লাভলী বলেন, ‘আমরা কোনো রাজনৈতিক ব্যানার নিয়ে আসিনি। জয় বাংলা বলা যাবে না, এমন বাংলাদেশ তো আমরা চাইনি।’

এ ঘটনায় ‘প্রতিবাদী শিল্পী জনতা’র পক্ষে ফজলুল কবীর তুহিন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গান ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কোনো গোষ্ঠীর অনুগ্রহের বিষয় নয়, বরং এটি মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার। বাউল ও লোকসংগীতের ওপর যেকোনো আক্রমণ অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধের পরিপন্থী। আয়োজকেরা শিল্পীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার অধিকার রক্ষার দাবি জানিয়েছেন। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পুলিশি বাধা বা উগ্রবাদী অসহিষ্ণুতা দিয়ে সংস্কৃতির কণ্ঠরোধ করা সম্ভব নয়। তারা বাঙালির গান, ঐতিহ্য ও মুক্তচিন্তার পক্ষে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।