লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার জাপানের প্রধানমন্ত্রীর

কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদার এবং অভিন্ন সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। মঙ্গলবার নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে দেয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা জানান। এর আগে টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কানতেই’-এ বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর সানায়ে তাকাইচি তারেক রহমানকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য ব্যক্তিগতভাবে অভিনন্দন জানান।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মূল্যবোধে বিশ্বাসী বন্ধুপ্রতিম দেশ বাংলাদেশ। গণতান্ত্রিক সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা তারেক রহমানের সরকারের রাষ্ট্রগঠনের প্রচেষ্টায় জাপান জোরাল সমর্থন দেবে। এছাড়া একটি অবাধ ও উন্মুক্ত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল (এফওআইপি) প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের গুরুত্বের বিষয়টিও তাদের আলোচনায় স্থান পেয়েছে।

দুই দেশ দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার কাঠামো হিসেবে ‘বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয়’ বা ‘বিগ-বি’ উদ্যোগকে যৌথ সমৃদ্ধির জন্য একটি নতুন কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করতে সম্মত হয়েছে। বৈঠকে তারেক রহমান শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে জাপানের ভূমিকা এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরপরই দেশটিকে স্বীকৃতি প্রদানের বিষয়টি স্মরণ করেন। সানায়ে তাকাইচি মন্তব্য করেন যে, দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থিত এবং ১৭ কোটি মানুষের বৃহৎ বাজারের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতির গুরুত্ব জাপানের জন্য অপরিসীম।

বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ ঘোষণায় জানানো হয়েছে, ‘বিগ-বি’ উদ্যোগের আওতায় দুই দেশ বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্প ও তথ্যযোগাযোগপ্রযুক্তির অবকাঠামো উন্নয়নে সমন্বিতভাবে কাজ করবে। এই উদ্যোগের চারটি মূল ক্ষেত্র হলো—যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধি, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বাড়ানো এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা জোরদার করা।

যৌথ ঘোষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, জাপানের বেসরকারি খাত আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে এক ট্রিলিয়ন ইয়েন পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে পারে। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশে দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও উভয় পক্ষ অঙ্গীকারবদ্ধ।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের জোরপূর্বক যুদ্ধে পাঠাচ্ছে রাশিয়া

বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার জাপানের প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৩১:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদার এবং অভিন্ন সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। মঙ্গলবার নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে দেয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা জানান। এর আগে টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কানতেই’-এ বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর সানায়ে তাকাইচি তারেক রহমানকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য ব্যক্তিগতভাবে অভিনন্দন জানান।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মূল্যবোধে বিশ্বাসী বন্ধুপ্রতিম দেশ বাংলাদেশ। গণতান্ত্রিক সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা তারেক রহমানের সরকারের রাষ্ট্রগঠনের প্রচেষ্টায় জাপান জোরাল সমর্থন দেবে। এছাড়া একটি অবাধ ও উন্মুক্ত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল (এফওআইপি) প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের গুরুত্বের বিষয়টিও তাদের আলোচনায় স্থান পেয়েছে।

দুই দেশ দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার কাঠামো হিসেবে ‘বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয়’ বা ‘বিগ-বি’ উদ্যোগকে যৌথ সমৃদ্ধির জন্য একটি নতুন কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করতে সম্মত হয়েছে। বৈঠকে তারেক রহমান শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে জাপানের ভূমিকা এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরপরই দেশটিকে স্বীকৃতি প্রদানের বিষয়টি স্মরণ করেন। সানায়ে তাকাইচি মন্তব্য করেন যে, দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থিত এবং ১৭ কোটি মানুষের বৃহৎ বাজারের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতির গুরুত্ব জাপানের জন্য অপরিসীম।

বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ ঘোষণায় জানানো হয়েছে, ‘বিগ-বি’ উদ্যোগের আওতায় দুই দেশ বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্প ও তথ্যযোগাযোগপ্রযুক্তির অবকাঠামো উন্নয়নে সমন্বিতভাবে কাজ করবে। এই উদ্যোগের চারটি মূল ক্ষেত্র হলো—যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধি, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বাড়ানো এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা জোরদার করা।

যৌথ ঘোষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, জাপানের বেসরকারি খাত আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে এক ট্রিলিয়ন ইয়েন পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে পারে। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশে দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও উভয় পক্ষ অঙ্গীকারবদ্ধ।