লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের জোরপূর্বক যুদ্ধে পাঠাচ্ছে রাশিয়া

বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২৯টি দেশের নাগরিকদের ভালো বেতনের বেসামরিক চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা ও জবরদস্তির মাধ্যমে রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীতে নিয়োগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘের একটি তদন্ত কমিশন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত করা ইউক্রেন বিষয়ক স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের একটি হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনের সূত্রে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে প্রলোভন ও জোরজবরদস্তির মাধ্যমে ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী বিদেশি নাগরিকদের রুশ সশস্ত্র বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করেছে মস্কো। এদের বড় একটি অংশ অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া, প্রান্তিক ও কম শিক্ষাগত যোগ্যতার সুযোগ নিয়ে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন দেশে সক্রিয় ট্রাভেল এজেন্সি ও স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের রাশিয়ায় নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পরই রুশ ভাষায় লেখা ডিফেন্স মিনিস্ট্রির চুক্তিপত্রে তাদের সই করতে বাধ্য করা হয়, যার ভাষা তারা বুঝতেই পারেননি। জাতিসংঘ কমিশনকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিরা যখন বুঝতে পারেন যে তাদের রুশ সামরিক বাহিনীর হয়ে সরাসরি ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিতে হবে, তখন তারা হতভম্ব হয়ে যান।

কমিশন বিশ্বের ৪৮টি দেশের নাগরিকদের ওপর তথ্য অনুসন্ধান চালিয়ে ২৯টি দেশের ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রতারণামূলক নিয়োগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা ২৯টি দেশ হলো— বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, বেলারুশ, আজারবাইজান, বলিভিয়া, ব্রাজিল, বতসোয়ানা, ক্যামেরুন, কলম্বিয়া, ডোমিনিকান রিপাবলিক, এল সালভাদর, ঘানা, হন্ডুরাস, জর্ডান, কেনিয়া, মরক্কো, নাইজেরিয়া, পেরু, ফিলিপাইন, দক্ষিণ আফ্রিকা, সোমালিয়া, তাজিকিস্তান, তিউনিসিয়া, তুরস্ক, উগান্ডা, উজবেকিস্তান, ইয়েমেন এবং জিম্বাবুয়ে।

একই প্রতিবেদনে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোতে রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলার মারাত্মক চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, কনকনে শীতের মধ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে বিদ্যুৎ সেবা বন্ধ করে লাখ লাখ বেসামরিক মানুষকে দুর্ভোগে ফেলার এই কাজ যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের সামিল। সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের চেয়ারম্যান এরিক মোসে বলেন, ‘‘জ্বালানি কেন্দ্রগুলোতে এই আক্রমণগুলো যুদ্ধাপরাধ, কারণ এগুলো সরাসরি বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে। এর ফলে বরফশীতল অন্ধকারে সাধারণ মানুষকে অমানবিক কষ্টের মুখোমুখি হতে হয়েছে।’’

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে যাওয়ায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় লিফটে উঠতে না পেরে বয়স্ক মানুষেরা আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে পারেননি এবং হাসপাতালের লাইফ-সাপোর্টে থাকা রোগীরা চরম জীবনঝুঁকিতে পড়েন। ২০২৫-২৬ সালের শীতে কিয়েভসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থান করা ২৫৫ জন ভুক্তভোগী, চিকিৎসক ও নাগরিক সংস্থার সাক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। এদিকে, জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার মিশন জানিয়েছে, তারা এই কমিশনের প্রতিবেদনকে স্বীকার করে না এবং তাদের আনা সমস্ত অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও ভুয়া তথ্য নির্ভর বলে দাবি করেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের জোরপূর্বক যুদ্ধে পাঠাচ্ছে রাশিয়া

বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের জোরপূর্বক যুদ্ধে পাঠাচ্ছে রাশিয়া

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৩২:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২৯টি দেশের নাগরিকদের ভালো বেতনের বেসামরিক চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা ও জবরদস্তির মাধ্যমে রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীতে নিয়োগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘের একটি তদন্ত কমিশন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত করা ইউক্রেন বিষয়ক স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের একটি হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনের সূত্রে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে প্রলোভন ও জোরজবরদস্তির মাধ্যমে ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী বিদেশি নাগরিকদের রুশ সশস্ত্র বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করেছে মস্কো। এদের বড় একটি অংশ অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া, প্রান্তিক ও কম শিক্ষাগত যোগ্যতার সুযোগ নিয়ে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন দেশে সক্রিয় ট্রাভেল এজেন্সি ও স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের রাশিয়ায় নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পরই রুশ ভাষায় লেখা ডিফেন্স মিনিস্ট্রির চুক্তিপত্রে তাদের সই করতে বাধ্য করা হয়, যার ভাষা তারা বুঝতেই পারেননি। জাতিসংঘ কমিশনকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিরা যখন বুঝতে পারেন যে তাদের রুশ সামরিক বাহিনীর হয়ে সরাসরি ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিতে হবে, তখন তারা হতভম্ব হয়ে যান।

কমিশন বিশ্বের ৪৮টি দেশের নাগরিকদের ওপর তথ্য অনুসন্ধান চালিয়ে ২৯টি দেশের ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রতারণামূলক নিয়োগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা ২৯টি দেশ হলো— বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, বেলারুশ, আজারবাইজান, বলিভিয়া, ব্রাজিল, বতসোয়ানা, ক্যামেরুন, কলম্বিয়া, ডোমিনিকান রিপাবলিক, এল সালভাদর, ঘানা, হন্ডুরাস, জর্ডান, কেনিয়া, মরক্কো, নাইজেরিয়া, পেরু, ফিলিপাইন, দক্ষিণ আফ্রিকা, সোমালিয়া, তাজিকিস্তান, তিউনিসিয়া, তুরস্ক, উগান্ডা, উজবেকিস্তান, ইয়েমেন এবং জিম্বাবুয়ে।

একই প্রতিবেদনে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোতে রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলার মারাত্মক চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, কনকনে শীতের মধ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে বিদ্যুৎ সেবা বন্ধ করে লাখ লাখ বেসামরিক মানুষকে দুর্ভোগে ফেলার এই কাজ যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের সামিল। সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের চেয়ারম্যান এরিক মোসে বলেন, ‘‘জ্বালানি কেন্দ্রগুলোতে এই আক্রমণগুলো যুদ্ধাপরাধ, কারণ এগুলো সরাসরি বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে। এর ফলে বরফশীতল অন্ধকারে সাধারণ মানুষকে অমানবিক কষ্টের মুখোমুখি হতে হয়েছে।’’

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে যাওয়ায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় লিফটে উঠতে না পেরে বয়স্ক মানুষেরা আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে পারেননি এবং হাসপাতালের লাইফ-সাপোর্টে থাকা রোগীরা চরম জীবনঝুঁকিতে পড়েন। ২০২৫-২৬ সালের শীতে কিয়েভসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থান করা ২৫৫ জন ভুক্তভোগী, চিকিৎসক ও নাগরিক সংস্থার সাক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। এদিকে, জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার মিশন জানিয়েছে, তারা এই কমিশনের প্রতিবেদনকে স্বীকার করে না এবং তাদের আনা সমস্ত অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও ভুয়া তথ্য নির্ভর বলে দাবি করেছে।