লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যে চার জিকিরে বান্দার গুনাহ ঝরে পড়ার বার্তা হাদিসে

প্রতিদিনের নানা ব্যস্ততার মাঝেও অল্প সময়ে আল্লাহ তাআলাকে স্মরণ করে বিপুল সওয়াব অর্জনের সুযোগ রয়েছে। ইসলামী শরিয়তে জিকির এমন এক ইবাদত, যার জন্য আলাদা অর্থ, বিশেষ সময় বা নির্দিষ্ট স্থানের বাধ্যবাধকতা নেই। বিশেষ করে হাদিস শরিফে এমন চারটি জিকিরের কথা বলা হয়েছে, যা নিয়মিত পাঠ করলে বান্দার গুনাহ মাফ হয় এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জিত হয়।

হাদিস গ্রন্থে বর্ণিত এক রেওয়ায়েতে গাছের পাতা ঝরে পড়ার চমৎকার এক দৃষ্টান্ত দিয়ে জিকিরের ফজিলত তুলে ধরা হয়েছে। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) শুকনো পাতায় ভরা একটি গাছের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় লাঠি দিয়ে তাতে আঘাত করেন। এতে গাছটি থেকে পাতাগুলো হুড়মুড় করে ঝরে পড়ে। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ করে বলেন, কোনো বান্দা যখন ‘আলহামদুলিল্লাহ, সুবহানাল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ও আল্লাহু আকবার’ পাঠ করে, তখন তার গুনাহগুলো ঠিক এভাবেই ঝরে পড়ে, যেমন গাছ থেকে শুকনো পাতা ঝরে পড়ল। তিরমিজি শরীফের ৩৫ ৩৩ নম্বর হাদিসে এই নির্দেশনা উল্লেখ রয়েছে।

বান্দার আত্মশুদ্ধি ও গুনাহ মোচনে এই চারটি জিকিরের একেকটির বিশেষ তাৎপর্য ও ফজিলত রয়েছে। প্রথমত, ‘আলহামদুলিল্লাহ’ শব্দের অর্থ হলো সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। জীবনে সুখ-দুঃখ, সুস্থতা-অসুস্থতা কিংবা প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির যেকোনো অবস্থাতেই মুমিন বান্দা আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায় এবং এর মাধ্যমে মহান রবের অশেষ নিয়ামতের স্বীকৃতি দেয়। দ্বিতীয়ত, ‘সুবহানাল্লাহ’ জিকিরের অর্থ আল্লাহ সব ধরনের ত্রুটি ও অপূর্ণতা থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র। এই জিকির বান্দার অন্তরে মহান আল্লাহর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সৃষ্টি করে।

তৃতীয় জিকির ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ ইসলামের মূল বিশ্বাসের ভিত্তিপ্রস্তর ঘোষণা করে, যার অর্থ আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই। এই কালেমা মানুষকে একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা, তাঁর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখা এবং তাঁর নির্দেশিত পথে জীবন পরিচালনার শিক্ষা দেয়। চতুর্থত, ‘আল্লাহু আকবার’ কথাটির অর্থ আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। দুনিয়ার যাবতীয় ক্ষমতা ও শক্তির ওপর মহান আল্লাহর যে একচ্ছত্র আধিপত্য রয়েছে, এই জিকির বান্দাকে তা প্রতিনিয়ত স্মরণ করিয়ে দেয় এবং রবের প্রতি আস্থা বজায় রাখতে সহায়তা করে।

তবে জিকিরের এই বিপুল ফজিলতকে গুনাহ অব্যাহত রাখার সুযোগ হিসেবে দেখার অবকাশ নেই। বিশেষ করে বড় বা কবিরা গুনাহ মাফের জন্য আল্লাহর দরবারে খাঁটি অন্তরে তওবা করা বাধ্যতামূলক। আবার যদি কারও হক বা অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়ে থাকে, তবে তা যথাযথভাবে ফিরিয়ে দেওয়া কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে মীমাংসা করা জরুরি। জিকির কেবল নামাজের পর বা নির্দিষ্ট সময়সীমায় আবদ্ধ না রেখে কাজের বিরতি, হাঁটাচলা কিংবা অবসরে নিয়মিত পাঠের অভ্যাস গড়ে তুললে অল্প সময়ে বিপুল নেকি অর্জনের পথ সুগম হয়। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে বেশি বেশি জিকির করার এবং তাঁর সন্তুষ্টি ও ক্ষমা লাভের তাওফিক দান করুন।

(তিরমিজি, হাদিস: ৩৫৩৩) এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, আল্লাহর জিকির গুনাহ মোচন ও সওয়াব অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্পেনের তোলেদোয় দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬

যে চার জিকিরে বান্দার গুনাহ ঝরে পড়ার বার্তা হাদিসে

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:০২:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

প্রতিদিনের নানা ব্যস্ততার মাঝেও অল্প সময়ে আল্লাহ তাআলাকে স্মরণ করে বিপুল সওয়াব অর্জনের সুযোগ রয়েছে। ইসলামী শরিয়তে জিকির এমন এক ইবাদত, যার জন্য আলাদা অর্থ, বিশেষ সময় বা নির্দিষ্ট স্থানের বাধ্যবাধকতা নেই। বিশেষ করে হাদিস শরিফে এমন চারটি জিকিরের কথা বলা হয়েছে, যা নিয়মিত পাঠ করলে বান্দার গুনাহ মাফ হয় এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জিত হয়।

হাদিস গ্রন্থে বর্ণিত এক রেওয়ায়েতে গাছের পাতা ঝরে পড়ার চমৎকার এক দৃষ্টান্ত দিয়ে জিকিরের ফজিলত তুলে ধরা হয়েছে। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) শুকনো পাতায় ভরা একটি গাছের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় লাঠি দিয়ে তাতে আঘাত করেন। এতে গাছটি থেকে পাতাগুলো হুড়মুড় করে ঝরে পড়ে। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ করে বলেন, কোনো বান্দা যখন ‘আলহামদুলিল্লাহ, সুবহানাল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ও আল্লাহু আকবার’ পাঠ করে, তখন তার গুনাহগুলো ঠিক এভাবেই ঝরে পড়ে, যেমন গাছ থেকে শুকনো পাতা ঝরে পড়ল। তিরমিজি শরীফের ৩৫ ৩৩ নম্বর হাদিসে এই নির্দেশনা উল্লেখ রয়েছে।

বান্দার আত্মশুদ্ধি ও গুনাহ মোচনে এই চারটি জিকিরের একেকটির বিশেষ তাৎপর্য ও ফজিলত রয়েছে। প্রথমত, ‘আলহামদুলিল্লাহ’ শব্দের অর্থ হলো সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। জীবনে সুখ-দুঃখ, সুস্থতা-অসুস্থতা কিংবা প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির যেকোনো অবস্থাতেই মুমিন বান্দা আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায় এবং এর মাধ্যমে মহান রবের অশেষ নিয়ামতের স্বীকৃতি দেয়। দ্বিতীয়ত, ‘সুবহানাল্লাহ’ জিকিরের অর্থ আল্লাহ সব ধরনের ত্রুটি ও অপূর্ণতা থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র। এই জিকির বান্দার অন্তরে মহান আল্লাহর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সৃষ্টি করে।

তৃতীয় জিকির ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ ইসলামের মূল বিশ্বাসের ভিত্তিপ্রস্তর ঘোষণা করে, যার অর্থ আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই। এই কালেমা মানুষকে একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা, তাঁর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখা এবং তাঁর নির্দেশিত পথে জীবন পরিচালনার শিক্ষা দেয়। চতুর্থত, ‘আল্লাহু আকবার’ কথাটির অর্থ আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। দুনিয়ার যাবতীয় ক্ষমতা ও শক্তির ওপর মহান আল্লাহর যে একচ্ছত্র আধিপত্য রয়েছে, এই জিকির বান্দাকে তা প্রতিনিয়ত স্মরণ করিয়ে দেয় এবং রবের প্রতি আস্থা বজায় রাখতে সহায়তা করে।

তবে জিকিরের এই বিপুল ফজিলতকে গুনাহ অব্যাহত রাখার সুযোগ হিসেবে দেখার অবকাশ নেই। বিশেষ করে বড় বা কবিরা গুনাহ মাফের জন্য আল্লাহর দরবারে খাঁটি অন্তরে তওবা করা বাধ্যতামূলক। আবার যদি কারও হক বা অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়ে থাকে, তবে তা যথাযথভাবে ফিরিয়ে দেওয়া কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে মীমাংসা করা জরুরি। জিকির কেবল নামাজের পর বা নির্দিষ্ট সময়সীমায় আবদ্ধ না রেখে কাজের বিরতি, হাঁটাচলা কিংবা অবসরে নিয়মিত পাঠের অভ্যাস গড়ে তুললে অল্প সময়ে বিপুল নেকি অর্জনের পথ সুগম হয়। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে বেশি বেশি জিকির করার এবং তাঁর সন্তুষ্টি ও ক্ষমা লাভের তাওফিক দান করুন।

(তিরমিজি, হাদিস: ৩৫৩৩) এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, আল্লাহর জিকির গুনাহ মোচন ও সওয়াব অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।