লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সেন্ট মার্টিনে পর্যটক সীমা বাড়িয়ে সাড়ে তিন হাজার করল সরকার

পরিবেশ ও প্রাণপ্রকৃতি রক্ষায় সেন্ট মার্টিনে দৈনিক পর্যটক যাতায়াতের সীমা দুই হাজার থেকে বাড়িয়ে সাড়ে তিন হাজার করেছে সরকার। একই সঙ্গে দ্বীপে রাতযাপনের সুযোগ দুই মাস থেকে বাড়িয়ে সাড়ে চার মাস করা হয়েছে। নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী ১ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকেরা সেন্ট মার্টিনে ভ্রমণ করতে পারবেন এবং রাতে থাকতে পারবেন। প্রতিটি পর্যটককে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি হিসেবে ১০০ টাকা প্রদান করতে হবে।

সেন্ট মার্টিন একটি প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নিয়ে পরিবেশকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পরিবেশকর্মীদের মতে, আগের দুই হাজার পর্যটকের চাপ সামলানোর মতো পর্যাপ্ত অবকাঠামো দ্বীপে গড়ে ওঠেনি। এখন দৈনিক দেড় হাজার পর্যটক বাড়ানো হলে দ্বীপের সুপেয় পানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং প্রাণপ্রকৃতি নতুন করে ঝুঁকির মুখে পড়বে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানিয়েছেন, পর্যটক বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে পরিবেশ অধিদপ্তর ও সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউটের মতো সংস্থাগুলো পর্যটক ও রাতযাপনের সীমা নির্ধারণে যুক্ত থাকলেও এবার রিসোর্ট মালিক ও স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অনুরোধে এই সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন যে, বাড়তি পর্যটকদের ওপর নজরদারি কীভাবে সম্ভব এবং আদায় করা ফি কোথায় ব্যয় করা হবে। পর্যটক বাড়ানোর পাশাপাশি এসব বিধিনিষেধ কার্যকরে নজরদারি কতটা বাড়ানো হবে, সেই প্রশ্নও উঠেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সেন্ট মার্টিনে পর্যটকের যাতায়াত সীমিত করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বনবিদ্যা ও পরিবেশবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক মোহাম্মদ কামাল হোসাইন বলেন, দ্বীপের পরিবেশগত বহনক্ষমতা অনুযায়ী দিনে ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ পর্যটক যাওয়া যুক্তিসংগত। তিনি আরও বলেন, পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা না বাড়িয়ে পর্যটক বাড়ানো হলে তা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হবে।

১৯৯৯ সালে সেন্ট মার্টিনকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয়। দ্বীপটিতে রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ ও বারবিকিউ নিষিদ্ধ। তবে কয়েক দশকের অপরিকল্পিত পর্যটন ও অবাধে স্থাপনা নির্মাণের কারণে দ্বীপটির প্রাণপ্রকৃতি বিপর্যস্ত হয়েছে। ২০২৬ সালের মে মাসে জার্নাল অব এনভায়রনমেন্টাল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ট্যুরিজম-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা যায়, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত পর্যটন বন্ধ থাকার সময়ে সমুদ্রের পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত দুই মৌসুমে ২ লাখ ৩৭ হাজার পর্যটক ভ্রমণ করেছেন, যা তিন বছর আগের তুলনায় অর্ধেকের কম। এই সীমিত পর্যটনের ফলে সামুদ্রিক পানির মানের কিছুটা উন্নতি হয়েছিল। এখন দৈনিক ৭৫ শতাংশ পর্যটক বাড়লে সেই পরিবেশগত সুফল ধরে রাখা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আল্লাহর সুন্দর নামগুলোর জ্ঞানার্জন ও তাৎপর্য অনুধাবন করা জরুরি

সেন্ট মার্টিনে পর্যটক সীমা বাড়িয়ে সাড়ে তিন হাজার করল সরকার

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:০০:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

পরিবেশ ও প্রাণপ্রকৃতি রক্ষায় সেন্ট মার্টিনে দৈনিক পর্যটক যাতায়াতের সীমা দুই হাজার থেকে বাড়িয়ে সাড়ে তিন হাজার করেছে সরকার। একই সঙ্গে দ্বীপে রাতযাপনের সুযোগ দুই মাস থেকে বাড়িয়ে সাড়ে চার মাস করা হয়েছে। নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী ১ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকেরা সেন্ট মার্টিনে ভ্রমণ করতে পারবেন এবং রাতে থাকতে পারবেন। প্রতিটি পর্যটককে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি হিসেবে ১০০ টাকা প্রদান করতে হবে।

সেন্ট মার্টিন একটি প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নিয়ে পরিবেশকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পরিবেশকর্মীদের মতে, আগের দুই হাজার পর্যটকের চাপ সামলানোর মতো পর্যাপ্ত অবকাঠামো দ্বীপে গড়ে ওঠেনি। এখন দৈনিক দেড় হাজার পর্যটক বাড়ানো হলে দ্বীপের সুপেয় পানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং প্রাণপ্রকৃতি নতুন করে ঝুঁকির মুখে পড়বে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানিয়েছেন, পর্যটক বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে পরিবেশ অধিদপ্তর ও সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউটের মতো সংস্থাগুলো পর্যটক ও রাতযাপনের সীমা নির্ধারণে যুক্ত থাকলেও এবার রিসোর্ট মালিক ও স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অনুরোধে এই সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন যে, বাড়তি পর্যটকদের ওপর নজরদারি কীভাবে সম্ভব এবং আদায় করা ফি কোথায় ব্যয় করা হবে। পর্যটক বাড়ানোর পাশাপাশি এসব বিধিনিষেধ কার্যকরে নজরদারি কতটা বাড়ানো হবে, সেই প্রশ্নও উঠেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সেন্ট মার্টিনে পর্যটকের যাতায়াত সীমিত করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বনবিদ্যা ও পরিবেশবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক মোহাম্মদ কামাল হোসাইন বলেন, দ্বীপের পরিবেশগত বহনক্ষমতা অনুযায়ী দিনে ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ পর্যটক যাওয়া যুক্তিসংগত। তিনি আরও বলেন, পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা না বাড়িয়ে পর্যটক বাড়ানো হলে তা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হবে।

১৯৯৯ সালে সেন্ট মার্টিনকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয়। দ্বীপটিতে রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ ও বারবিকিউ নিষিদ্ধ। তবে কয়েক দশকের অপরিকল্পিত পর্যটন ও অবাধে স্থাপনা নির্মাণের কারণে দ্বীপটির প্রাণপ্রকৃতি বিপর্যস্ত হয়েছে। ২০২৬ সালের মে মাসে জার্নাল অব এনভায়রনমেন্টাল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ট্যুরিজম-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা যায়, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত পর্যটন বন্ধ থাকার সময়ে সমুদ্রের পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত দুই মৌসুমে ২ লাখ ৩৭ হাজার পর্যটক ভ্রমণ করেছেন, যা তিন বছর আগের তুলনায় অর্ধেকের কম। এই সীমিত পর্যটনের ফলে সামুদ্রিক পানির মানের কিছুটা উন্নতি হয়েছিল। এখন দৈনিক ৭৫ শতাংশ পর্যটক বাড়লে সেই পরিবেশগত সুফল ধরে রাখা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।