লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জীবনযাত্রার ব্যয় ও শিক্ষাসংকটের প্রতিবাদে ফের বিক্ষোভ ফ্রান্সে

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং শিক্ষাব্যবস্থার সংকটের প্রতিবাদে টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো উত্তাল হয়ে উঠেছে ফ্রান্স। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। রাজধানী প্যারিস ও লিওনে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ব্যাপক কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে।

শিক্ষার্থী সংগঠন ও শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর জোটের দাবি অনুযায়ী, শনিবারের বিক্ষোভে সারা দেশে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন, যার মধ্যে শুধু প্যারিসেই ছিলেন দুই লাখ। তবে ফ্রান্সের কর্তৃপক্ষের হিসাব ভিন্ন; তাদের তথ্যমতে, সারা দেশে বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল তিন লাখ ২০ হাজার এবং রাজধানীতে অংশ নিয়েছিলেন প্রায় ৭০ হাজার মানুষ।

প্যারিসে বিক্ষোভের শুরুটা শান্তিপূর্ণ থাকলেও মূল কর্মসূচির সমাপ্তিস্থলের কাছাকাছি গিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় শহরের বিভিন্ন স্থানে ময়লার পাত্র ও রাস্তার আসবাবে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়, যার ফলে আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভের ফলে দেশটির গণপরিবহন ব্যবস্থায় ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে। প্যারিসের গণপরিবহন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আরএটিপি জানিয়েছে, শনিবার শহরের ৪০টিরও বেশি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছিল।

পরিস্থিতি এতটাই অসহনীয় হয়ে ওঠে যে শ্বাসকষ্টের কারণে সংবাদকর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হয়। দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ পুলিশ লাউডস্পিকারে ঘোষণা দিয়ে বিক্ষোভকারীদের রাস্তা ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয় এবং অন্যথায় কাঁদানে গ্যাস ছোড়ার হুঁশিয়ারি দেয়। এই অস্থিরতার মধ্যে কয়েকজন বিক্ষোভকারী পুলিশের সামনে হাত তুলে নিজেদের শান্তিপূর্ণ অবস্থানের জানান দেন। অন্যদিকে, প্যারিসের উপকণ্ঠে কালো পোশাক ও মুখোশ পরা কয়েক ডজন ব্যক্তি ফুটপাতের পাথর তুলে পুলিশের দিকে ছুড়ে মারেন এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে অগ্নিসংযোগকারী বস্তু নিক্ষেপ করেন। জবাবে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ার পাশাপাশি লাঠিচার্জও করে।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবারের এই বিক্ষোভে দেশজুড়ে অন্তত ২৯০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কর্মজীবনে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

জীবনযাত্রার ব্যয় ও শিক্ষাসংকটের প্রতিবাদে ফের বিক্ষোভ ফ্রান্সে

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:০১:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং শিক্ষাব্যবস্থার সংকটের প্রতিবাদে টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো উত্তাল হয়ে উঠেছে ফ্রান্স। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। রাজধানী প্যারিস ও লিওনে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ব্যাপক কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে।

শিক্ষার্থী সংগঠন ও শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর জোটের দাবি অনুযায়ী, শনিবারের বিক্ষোভে সারা দেশে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন, যার মধ্যে শুধু প্যারিসেই ছিলেন দুই লাখ। তবে ফ্রান্সের কর্তৃপক্ষের হিসাব ভিন্ন; তাদের তথ্যমতে, সারা দেশে বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল তিন লাখ ২০ হাজার এবং রাজধানীতে অংশ নিয়েছিলেন প্রায় ৭০ হাজার মানুষ।

প্যারিসে বিক্ষোভের শুরুটা শান্তিপূর্ণ থাকলেও মূল কর্মসূচির সমাপ্তিস্থলের কাছাকাছি গিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় শহরের বিভিন্ন স্থানে ময়লার পাত্র ও রাস্তার আসবাবে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়, যার ফলে আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভের ফলে দেশটির গণপরিবহন ব্যবস্থায় ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে। প্যারিসের গণপরিবহন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আরএটিপি জানিয়েছে, শনিবার শহরের ৪০টিরও বেশি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছিল।

পরিস্থিতি এতটাই অসহনীয় হয়ে ওঠে যে শ্বাসকষ্টের কারণে সংবাদকর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হয়। দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ পুলিশ লাউডস্পিকারে ঘোষণা দিয়ে বিক্ষোভকারীদের রাস্তা ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয় এবং অন্যথায় কাঁদানে গ্যাস ছোড়ার হুঁশিয়ারি দেয়। এই অস্থিরতার মধ্যে কয়েকজন বিক্ষোভকারী পুলিশের সামনে হাত তুলে নিজেদের শান্তিপূর্ণ অবস্থানের জানান দেন। অন্যদিকে, প্যারিসের উপকণ্ঠে কালো পোশাক ও মুখোশ পরা কয়েক ডজন ব্যক্তি ফুটপাতের পাথর তুলে পুলিশের দিকে ছুড়ে মারেন এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে অগ্নিসংযোগকারী বস্তু নিক্ষেপ করেন। জবাবে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ার পাশাপাশি লাঠিচার্জও করে।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবারের এই বিক্ষোভে দেশজুড়ে অন্তত ২৯০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।