লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের ক্ষমতার দাপটে ভোটারদের লাগাম

ইরানের সরকার পতনের লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘ সময় ধরে সামরিক হুমকি ও আগ্রাসী কৌশল অবলম্বন করেছেন। কয়েক হাজার বেসামরিক মানুষের মৃত্যু এবং হাজার দশেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধ্বংসের পাশাপাশি ‘সব বোমার মা’ নামক মারণাস্ত্র ব্যবহারের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। তবে আট মাস পরও ইরানের সরকার বহাল তবিয়তে রয়েছে। অথচ গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ভোটাররা কোনো বোমা না ফেলে বা একটি গুলিও না ছুড়ে নিজেদের দেশে একধরনের ‘রেজিম চেঞ্জ’ ঘটিয়েছেন। তাঁরা ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরাসরি সরিয়ে দেননি, তবে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নিয়ে তাঁর একচ্ছত্র ক্ষমতার লাগাম টেনে ধরেছেন। ট্রাম্প নিজেই সমর্থকদের বলেছিলেন, ব্যালটে তাঁর নাম না থাকলেও যেন তাঁরা তাঁকে ভোট দিচ্ছেন বলে ধরে নেন। ভোটাররা সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে ট্রাম্প ও ট্রাম্পবাদের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন, যাকে অনেকে ‘নীল সুনামি’ হিসেবে অভিহিত করছেন।

ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের জন্য এক ধরনের গণভোট। গত ১০০ বছরে মাত্র তিনবার ছাড়া প্রতিবারই ক্ষমতাসীন দলকে ভোটারদের হাতে পরাজয়ের স্বাদ পেতে হয়েছে। ২০১০ সালে বারাক ওবামার প্রথম মেয়াদে তাঁর দল ৬৩টি আসন হারিয়েছিল। এবারের চূড়ান্ত আসনসংখ্যা এখনো স্পষ্ট না হলেও বেসরকারি হিসাবে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছেন। সিনেটে তাঁরা রিপাবলিকানদের কাছ থেকে অন্তত সাতটি আসন ছিনিয়ে নিয়েছেন। টেক্সাস, জর্জিয়া ও ওহাইওর মতো অতিরক্ষণশীল রাজ্যেও ডেমোক্র্যাটরা গভর্নরের পদ জিতে নিয়েছেন। এমনকি দুই বছর আগে ট্রাম্প যেখানে দুই অঙ্কের ব্যবধানে জিতেছিলেন, সেই টেক্সাসেও ডেমোক্র্যাটদের এই জয় তাদের ঢেউয়ের গভীরতা নির্দেশ করে।

ট্রাম্প ও তাঁর রিপাবলিকান প্রশাসন ক্ষমতা ধরে রাখতে বিস্তর আয়োজন করেছিল। নির্বাচনী মানচিত্র নতুন করে কাটাছেঁড়া করা, বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নির্দেশ এবং এক হাজারের বেশি ফেডারেল নির্বাচনী পরিদর্শক পাঠানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। দলীয় সমর্থকদের বুথ আগলে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং জরুরি অবস্থা ঘোষণার গুঞ্জনও শোনা গিয়েছিল। কিন্তু এসব কোনো কিছুই দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে জনমতকে দমিয়ে রাখতে পারেনি।

ডেমোক্র্যাটদের এই সাফল্যের পেছনে মূল কারণ ছিল জীবনযাত্রার ব্যয়। ১৯৯২ সালে বিল ক্লিনটনের কৌশলবিদ জেমস কারভিলের সেই বিখ্যাত উক্তি ‘ইটস দ্য ইকোনমি, স্টুপিড’ এবারও প্রাসঙ্গিক ছিল। ভোটাররা বাজারের বিল ও পেট্রলপাম্পের দামের ভিত্তিতে অর্থনীতির হাল বিচার করেছেন। এপির জরিপে অধিকাংশ ভোটার জানিয়েছেন, ট্রাম্পের নীতিতে তাঁদের খরচ বেড়েছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পরাজয়ের কারণ হিসেবে ইরান যুদ্ধের জেরে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিকে দায়ী করেছেন। এছাড়া ট্রাম্পের ঢালাও আমদানি শুল্কের কারণে সাধারণ মানুষের পকেট থেকে করের টাকা বেরিয়ে যাওয়ায় জীবনযাত্রার ব্যয় অসহনীয় হয়ে উঠেছিল। ট্রাম্প এগুলোকে ডেমোক্র্যাটদের সৃষ্টি করা ‘প্রতারণা’ বলে উড়িয়ে দিলেও সাধারণ মানুষ তা মেনে নেয়নি। তিনি দাবি করেছিলেন জ্বালানির দাম বাড়ায় তারা লাভবান হয়েছেন, তবে এই ‘আমরা’ বলতে তিনি নিজের পরিবার ও মিলিয়নিয়ার শ্রেণিকেই বুঝিয়েছেন।

ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বা মাগা আন্দোলনের মূল বক্তব্য ছিল অশ্বেতকায় ও বহিরাগতদের প্রতি ঘৃণা। জেডি ভ্যান্স বহিরাগতদের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ‘সভ্যতাগত নিশ্চিহ্নকরণের’ মুখোমুখি বলে মন্তব্য করেছিলেন। অবৈধ অভিবাসন বন্ধের নামে ট্রাম্প সামরিক কায়দায় অভিযান চালিয়েছিলেন, যেখানে আইস এজেন্টদের তাণ্ডবে শিশুপুত্রের সামনে মা-বাবাকে গ্রেপ্তার ও পায়ে শিকল বেঁধে বহিষ্কারের ঘটনা ঘটেছিল। এই অভিবাসনবিরোধী অভিযানের কারণেই টেক্সাস বা অ্যারিজোনার মেক্সিকান-আমেরিকান ভোটাররা এবার ট্রাম্পের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। টেক্সাসে গত ৪০ বছরে এই প্রথম একজন ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন এবং একজন হিস্পানিক নারী গভর্নর হয়েছেন।

মিশিগানের সদ্য নির্বাচিত সিনেটর আবদুল আল-সাইদকে ট্রাম্প ‘জিহাদি’ ও ‘সন্ত্রাসী’ বলে প্রচার চালিয়েছিলেন। গাজায় গণহত্যার সমালোচনা করায় তাঁকে ঠেকাতে কোটি কোটি ডলার ব্যয় করা হয়েছিল। কিন্তু আল-সাইদ ট্রাম্পের সেই বিদ্বেষের টোপে পা না দিয়ে রাজনীতি থেকে অর্থ বন্ধ করে মানুষের পকেটে তা তুলে দেওয়া এবং সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জয়ী হয়েছেন। জেডি ভ্যান্সকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেছেন, শাসনতান্ত্রিক দায়িত্ব হিসেবে ভ্যান্স এখন তাঁকে সিনেটর হিসেবে শপথ করাতে বাধ্য।

নির্বাচনের এই ফলাফলে ট্রাম্পের ক্ষমতার সমীকরণে বড় পরিবর্তন আসবে। এতদিন কংগ্রেসে ট্রাম্পের অনুগত রিপাবলিকানরা তাঁকে বাধা দেওয়ার সাহস দেখাননি, কিন্তু এখন বাজেট অনুমোদন বা নতুন আইন প্রণয়নের জন্য ট্রাম্পকে কংগ্রেসের জবাবদিহিতার মুখোমুখি হতে হবে। ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিস জানিয়েছেন, তাঁদের মূল লক্ষ্য হবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন। এদিকে ইলন মাস্কের মতো ধনকুবের ট্রাম্পকে জেতাতে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেও ব্যর্থ হয়েছেন। পরাজয়ের পর ইলন মাস্ক হতাশ হয়ে রসিকতা করেছেন যে, এখন হয়তো তাঁকে মঙ্গল গ্রহে গিয়ে ডেটা সেন্টার নির্মাণ করতে হবে।

ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছিলেন, বহিরাগতদের উপস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র ‘সভ্যতাগত নিশ্চিহ্নকরণ’, তাঁর কথায় ‘সিভিলাইজেশনাল ইরেজারের’ মুখোমুখি।২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের বিজয়ের অন্যতম কারণ ছিল অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে তাঁর শক্ত অবস্থান।

২০২৪ সালে টেক্সাস বা অ্যারিজোনার মেক্সিকান-আমেরিকানরা দলবেঁধে ট্রাম্পের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন, তাঁরাই এবার বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

চবির হীরক জয়ন্তী সর্বজনীন করতে ছাত্রশিবিরের ১২ দফা দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের ক্ষমতার দাপটে ভোটারদের লাগাম

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৪৫:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

ইরানের সরকার পতনের লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘ সময় ধরে সামরিক হুমকি ও আগ্রাসী কৌশল অবলম্বন করেছেন। কয়েক হাজার বেসামরিক মানুষের মৃত্যু এবং হাজার দশেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধ্বংসের পাশাপাশি ‘সব বোমার মা’ নামক মারণাস্ত্র ব্যবহারের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। তবে আট মাস পরও ইরানের সরকার বহাল তবিয়তে রয়েছে। অথচ গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ভোটাররা কোনো বোমা না ফেলে বা একটি গুলিও না ছুড়ে নিজেদের দেশে একধরনের ‘রেজিম চেঞ্জ’ ঘটিয়েছেন। তাঁরা ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরাসরি সরিয়ে দেননি, তবে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নিয়ে তাঁর একচ্ছত্র ক্ষমতার লাগাম টেনে ধরেছেন। ট্রাম্প নিজেই সমর্থকদের বলেছিলেন, ব্যালটে তাঁর নাম না থাকলেও যেন তাঁরা তাঁকে ভোট দিচ্ছেন বলে ধরে নেন। ভোটাররা সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে ট্রাম্প ও ট্রাম্পবাদের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন, যাকে অনেকে ‘নীল সুনামি’ হিসেবে অভিহিত করছেন।

ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের জন্য এক ধরনের গণভোট। গত ১০০ বছরে মাত্র তিনবার ছাড়া প্রতিবারই ক্ষমতাসীন দলকে ভোটারদের হাতে পরাজয়ের স্বাদ পেতে হয়েছে। ২০১০ সালে বারাক ওবামার প্রথম মেয়াদে তাঁর দল ৬৩টি আসন হারিয়েছিল। এবারের চূড়ান্ত আসনসংখ্যা এখনো স্পষ্ট না হলেও বেসরকারি হিসাবে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছেন। সিনেটে তাঁরা রিপাবলিকানদের কাছ থেকে অন্তত সাতটি আসন ছিনিয়ে নিয়েছেন। টেক্সাস, জর্জিয়া ও ওহাইওর মতো অতিরক্ষণশীল রাজ্যেও ডেমোক্র্যাটরা গভর্নরের পদ জিতে নিয়েছেন। এমনকি দুই বছর আগে ট্রাম্প যেখানে দুই অঙ্কের ব্যবধানে জিতেছিলেন, সেই টেক্সাসেও ডেমোক্র্যাটদের এই জয় তাদের ঢেউয়ের গভীরতা নির্দেশ করে।

ট্রাম্প ও তাঁর রিপাবলিকান প্রশাসন ক্ষমতা ধরে রাখতে বিস্তর আয়োজন করেছিল। নির্বাচনী মানচিত্র নতুন করে কাটাছেঁড়া করা, বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নির্দেশ এবং এক হাজারের বেশি ফেডারেল নির্বাচনী পরিদর্শক পাঠানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। দলীয় সমর্থকদের বুথ আগলে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং জরুরি অবস্থা ঘোষণার গুঞ্জনও শোনা গিয়েছিল। কিন্তু এসব কোনো কিছুই দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে জনমতকে দমিয়ে রাখতে পারেনি।

ডেমোক্র্যাটদের এই সাফল্যের পেছনে মূল কারণ ছিল জীবনযাত্রার ব্যয়। ১৯৯২ সালে বিল ক্লিনটনের কৌশলবিদ জেমস কারভিলের সেই বিখ্যাত উক্তি ‘ইটস দ্য ইকোনমি, স্টুপিড’ এবারও প্রাসঙ্গিক ছিল। ভোটাররা বাজারের বিল ও পেট্রলপাম্পের দামের ভিত্তিতে অর্থনীতির হাল বিচার করেছেন। এপির জরিপে অধিকাংশ ভোটার জানিয়েছেন, ট্রাম্পের নীতিতে তাঁদের খরচ বেড়েছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পরাজয়ের কারণ হিসেবে ইরান যুদ্ধের জেরে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিকে দায়ী করেছেন। এছাড়া ট্রাম্পের ঢালাও আমদানি শুল্কের কারণে সাধারণ মানুষের পকেট থেকে করের টাকা বেরিয়ে যাওয়ায় জীবনযাত্রার ব্যয় অসহনীয় হয়ে উঠেছিল। ট্রাম্প এগুলোকে ডেমোক্র্যাটদের সৃষ্টি করা ‘প্রতারণা’ বলে উড়িয়ে দিলেও সাধারণ মানুষ তা মেনে নেয়নি। তিনি দাবি করেছিলেন জ্বালানির দাম বাড়ায় তারা লাভবান হয়েছেন, তবে এই ‘আমরা’ বলতে তিনি নিজের পরিবার ও মিলিয়নিয়ার শ্রেণিকেই বুঝিয়েছেন।

ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বা মাগা আন্দোলনের মূল বক্তব্য ছিল অশ্বেতকায় ও বহিরাগতদের প্রতি ঘৃণা। জেডি ভ্যান্স বহিরাগতদের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ‘সভ্যতাগত নিশ্চিহ্নকরণের’ মুখোমুখি বলে মন্তব্য করেছিলেন। অবৈধ অভিবাসন বন্ধের নামে ট্রাম্প সামরিক কায়দায় অভিযান চালিয়েছিলেন, যেখানে আইস এজেন্টদের তাণ্ডবে শিশুপুত্রের সামনে মা-বাবাকে গ্রেপ্তার ও পায়ে শিকল বেঁধে বহিষ্কারের ঘটনা ঘটেছিল। এই অভিবাসনবিরোধী অভিযানের কারণেই টেক্সাস বা অ্যারিজোনার মেক্সিকান-আমেরিকান ভোটাররা এবার ট্রাম্পের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। টেক্সাসে গত ৪০ বছরে এই প্রথম একজন ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন এবং একজন হিস্পানিক নারী গভর্নর হয়েছেন।

মিশিগানের সদ্য নির্বাচিত সিনেটর আবদুল আল-সাইদকে ট্রাম্প ‘জিহাদি’ ও ‘সন্ত্রাসী’ বলে প্রচার চালিয়েছিলেন। গাজায় গণহত্যার সমালোচনা করায় তাঁকে ঠেকাতে কোটি কোটি ডলার ব্যয় করা হয়েছিল। কিন্তু আল-সাইদ ট্রাম্পের সেই বিদ্বেষের টোপে পা না দিয়ে রাজনীতি থেকে অর্থ বন্ধ করে মানুষের পকেটে তা তুলে দেওয়া এবং সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জয়ী হয়েছেন। জেডি ভ্যান্সকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেছেন, শাসনতান্ত্রিক দায়িত্ব হিসেবে ভ্যান্স এখন তাঁকে সিনেটর হিসেবে শপথ করাতে বাধ্য।

নির্বাচনের এই ফলাফলে ট্রাম্পের ক্ষমতার সমীকরণে বড় পরিবর্তন আসবে। এতদিন কংগ্রেসে ট্রাম্পের অনুগত রিপাবলিকানরা তাঁকে বাধা দেওয়ার সাহস দেখাননি, কিন্তু এখন বাজেট অনুমোদন বা নতুন আইন প্রণয়নের জন্য ট্রাম্পকে কংগ্রেসের জবাবদিহিতার মুখোমুখি হতে হবে। ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিস জানিয়েছেন, তাঁদের মূল লক্ষ্য হবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন। এদিকে ইলন মাস্কের মতো ধনকুবের ট্রাম্পকে জেতাতে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেও ব্যর্থ হয়েছেন। পরাজয়ের পর ইলন মাস্ক হতাশ হয়ে রসিকতা করেছেন যে, এখন হয়তো তাঁকে মঙ্গল গ্রহে গিয়ে ডেটা সেন্টার নির্মাণ করতে হবে।

ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছিলেন, বহিরাগতদের উপস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র ‘সভ্যতাগত নিশ্চিহ্নকরণ’, তাঁর কথায় ‘সিভিলাইজেশনাল ইরেজারের’ মুখোমুখি।২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের বিজয়ের অন্যতম কারণ ছিল অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে তাঁর শক্ত অবস্থান।

২০২৪ সালে টেক্সাস বা অ্যারিজোনার মেক্সিকান-আমেরিকানরা দলবেঁধে ট্রাম্পের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন, তাঁরাই এবার বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন।