লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তাহসিফ হত্যা মামলা: রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিলেন বান্ধবী দিশা

বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির রহস্যজনক মৃত্যুতে দায়ের করা হত্যা মামলায় তার বান্ধবী জেরিকা তাসনিম দিশাকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় দিশা ঘটনার বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছেন।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুই দফা রিমান্ড শেষে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফিরোজ উদ্দিন দিশাকে আদালতে হাজির করেন। এ সময় তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ ওই আবেদন মঞ্জুর করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আদালতের শুনানিতে দিশার পক্ষে কোনো জামিন আবেদন করা হয়নি।

তদন্ত কর্মকর্তার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মামলার মূল রহস্য উন্মোচনে দিশাকে বিভিন্ন কৌশলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে দিশা জানিয়েছেন, মৃত্যুর আগের দিন ২৭ অক্টোবর রাতে তিনি তাহসিফের সঙ্গে উত্তরায় নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে গিয়েছিলেন। এর আগে সন্ধ্যায় তাহসিফ একাধিকবার সিপি ফাইভ স্টার স্ন্যাকস খেয়েছিলেন এবং পরে মোটরসাইকেল গ্যারেজেও তারা একত্রে গিয়েছিলেন। ওই রাতে তাহসিফের মোটরসাইকেলে করে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ানোর কথাও তিনি স্বীকার করেছেন।

তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, দিশা মামলার ঘটনায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিলেও অনেক ক্ষেত্রে তিনি কৌশলে নীরব থেকেছেন বা প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেছেন। মামলার অপর সন্দেহভাজন আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা এখন দিশা ও দীপের দেওয়া তথ্যগুলো একে অপরের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করছেন। এছাড়া তাহসিফের মোবাইল ফোনের কললিস্ট পর্যালোচনা করে দিশার সঙ্গে তার একাধিকবার যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দিশাকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন বলে মনে করছে পুলিশ। তদন্ত কর্মকর্তার শঙ্কা, জামিনে মুক্তি পেলে দিশা পলাতক হতে পারেন এবং তদন্তকাজে ব্যাঘাত ঘটাতে পারেন। গত সপ্তাহে কাফরুল এলাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর দিশাকে প্রথমে চার দিন এবং পরে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, মামলার অন্যতম আসামি দীপকে তিন দফায় মোট ১০ দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। গত ২৮ অক্টোবর তুরাগের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফের লাশ উদ্ধারের পর তার বাবা মামলা দায়ের করেন এবং দীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে টঙ্গীর মাজার বস্তি থেকে তাহসিফের মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়।

অন্যদিকে দীপকে ৩১ অক্টোবর প্রথম দফায় চার দিন, মঙ্গলবার দ্বিতীয় দফায় তিন দিন এবং বৃহস্পতিবার তৃতীয় দফায় আরও তিন দিনের রিমান্ড দেওয়া হয়।

দীপ ২৯ অক্টোবর জানিয়েছিলেন, রেস্তোরাঁয় একসঙ্গে রাতের খাবার খাওয়ার পর উত্তরা হাউজবিল্ডিং এলাকায় তাহসিফের কাছ থেকে আলাদা হয়ে যান।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঝিনাইগাতীতে মসজিদ কমিটির বিরোধে হামলায় বিএনপি নেতার মৃত্যু

তাহসিফ হত্যা মামলা: রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিলেন বান্ধবী দিশা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:০০:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির রহস্যজনক মৃত্যুতে দায়ের করা হত্যা মামলায় তার বান্ধবী জেরিকা তাসনিম দিশাকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় দিশা ঘটনার বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছেন।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুই দফা রিমান্ড শেষে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফিরোজ উদ্দিন দিশাকে আদালতে হাজির করেন। এ সময় তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ ওই আবেদন মঞ্জুর করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আদালতের শুনানিতে দিশার পক্ষে কোনো জামিন আবেদন করা হয়নি।

তদন্ত কর্মকর্তার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মামলার মূল রহস্য উন্মোচনে দিশাকে বিভিন্ন কৌশলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে দিশা জানিয়েছেন, মৃত্যুর আগের দিন ২৭ অক্টোবর রাতে তিনি তাহসিফের সঙ্গে উত্তরায় নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে গিয়েছিলেন। এর আগে সন্ধ্যায় তাহসিফ একাধিকবার সিপি ফাইভ স্টার স্ন্যাকস খেয়েছিলেন এবং পরে মোটরসাইকেল গ্যারেজেও তারা একত্রে গিয়েছিলেন। ওই রাতে তাহসিফের মোটরসাইকেলে করে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ানোর কথাও তিনি স্বীকার করেছেন।

তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, দিশা মামলার ঘটনায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিলেও অনেক ক্ষেত্রে তিনি কৌশলে নীরব থেকেছেন বা প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেছেন। মামলার অপর সন্দেহভাজন আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা এখন দিশা ও দীপের দেওয়া তথ্যগুলো একে অপরের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করছেন। এছাড়া তাহসিফের মোবাইল ফোনের কললিস্ট পর্যালোচনা করে দিশার সঙ্গে তার একাধিকবার যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দিশাকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন বলে মনে করছে পুলিশ। তদন্ত কর্মকর্তার শঙ্কা, জামিনে মুক্তি পেলে দিশা পলাতক হতে পারেন এবং তদন্তকাজে ব্যাঘাত ঘটাতে পারেন। গত সপ্তাহে কাফরুল এলাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর দিশাকে প্রথমে চার দিন এবং পরে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, মামলার অন্যতম আসামি দীপকে তিন দফায় মোট ১০ দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। গত ২৮ অক্টোবর তুরাগের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফের লাশ উদ্ধারের পর তার বাবা মামলা দায়ের করেন এবং দীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে টঙ্গীর মাজার বস্তি থেকে তাহসিফের মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়।

অন্যদিকে দীপকে ৩১ অক্টোবর প্রথম দফায় চার দিন, মঙ্গলবার দ্বিতীয় দফায় তিন দিন এবং বৃহস্পতিবার তৃতীয় দফায় আরও তিন দিনের রিমান্ড দেওয়া হয়।

দীপ ২৯ অক্টোবর জানিয়েছিলেন, রেস্তোরাঁয় একসঙ্গে রাতের খাবার খাওয়ার পর উত্তরা হাউজবিল্ডিং এলাকায় তাহসিফের কাছ থেকে আলাদা হয়ে যান।