লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেছারাবাদে চার গ্রুপে বিভক্ত হয়ে বিএনপির বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন

উপজেলা কমিটি না থাকায় কেন্দ্রীয় ঘোষিত কর্মসূচি ঘিরে পিরোজপুরের নেছারাবাদে চার ভাগে বিভক্ত হয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করেছেন উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। রবিবার ৮ নভেম্বর সকালে প্রায় এক ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক তিনটি স্থান থেকে মিছিল ও সমাবেশের মাধ্যমে তারা কর্মসূচি পালন করেন। এছাড়া বিকেলে অপর একটি গ্রুপ মিয়ারহাট বন্দরের দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করে।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্বরূপকাঠি পৌর বিএনপির সভাপতি কাজী কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জগন্নাথকাঠি বাজারের সুপারিপট্টি থেকে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি পৌর শহরের বাজার রোড ও তেঁতুলতলা ঘুরে পুরাতন থানা এলাকার রিকশাস্ট্যান্ডের তিন রাস্তার মোড়ে গিয়ে শেষ হয় এবং সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রায় একই সময়ে জগৎপট্টি গ্রামের সন্ধ্যা নদীর অপর পাশ থেকে উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নাছির উদ্দীন তালুকদারের নেতৃত্বে দ্বিতীয় মিছিলটি বের হয়। এটি নদীরপাড় সড়ক, পুরাতন থানা সড়ক ও জগন্নাথকাঠি বাজার এলাকা প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ডাকবাংলোর সামনে ফিরে যায়।

তৃতীয় মিছিলটি পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে থেকে বের হয়। এতে নেতৃত্ব দেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল বেরুনী সৈকত, স্বরূপকাঠি পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম ফরিদ এবং সাধারণ সম্পাদক মো. মইনুল হাসান। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে শেষ হয়।

একই দিনে বিকেল ৪টার দিকে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ফখরুল আলমের নির্দেশনায় মিয়ারহাট বন্দরের দলীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের নিয়ে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। দলীয় কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের এমন বিভক্তি স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

দলীয় কর্মসূচিতে চার গ্রুপের এমন বিভাজনের কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ প্রশাসনকে বাড়তি সতর্ক থাকতে হয়েছে। এ বিষয়ে নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান জানান, চারটি গ্রুপ ভিন্ন ভিন্ন স্থান ও সময়ে কর্মসূচি পালন করেছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সর্বাত্মক অবস্থানে ছিল এবং কর্মসূচি চলাকালে কোনো সমস্যা হয়নি।

উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. ফকরুল আলম বলেন, উপজেলা কমিটি না থাকায় নিজ নিজ সক্ষমতা দেখাতে চারটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে কর্মসূচি হয়েছে। তিনি জানান, সবাইকে একত্র হয়ে কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানানো হয়েছিল কিন্তু কেউ তা শোনেনি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কমিটি গঠন হলে নেতৃত্বের অনৈক্যের এই সমস্যা দ্রুত নিরসন হবে।

পিরোজপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম খান জানান, নেছারাবাদে দলীয় পৃথক কর্মসূচি পালনের বিষয়টি তাদের জানা ছিল না। তবে তিনি মন্তব্য করেন, কমিটি না থাকায় এমনটা হয়েছে এবং সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে কর্মসূচি পালন করলে ভালো হতো।

জনপ্রিয় সংবাদ

জেমসের গানে বঙ্গবন্ধুর নাম প্রসঙ্গে ছাত্রদল সভাপতি রাকিবের বক্তব্য

নেছারাবাদে চার গ্রুপে বিভক্ত হয়ে বিএনপির বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:০২:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

উপজেলা কমিটি না থাকায় কেন্দ্রীয় ঘোষিত কর্মসূচি ঘিরে পিরোজপুরের নেছারাবাদে চার ভাগে বিভক্ত হয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করেছেন উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। রবিবার ৮ নভেম্বর সকালে প্রায় এক ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক তিনটি স্থান থেকে মিছিল ও সমাবেশের মাধ্যমে তারা কর্মসূচি পালন করেন। এছাড়া বিকেলে অপর একটি গ্রুপ মিয়ারহাট বন্দরের দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করে।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্বরূপকাঠি পৌর বিএনপির সভাপতি কাজী কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জগন্নাথকাঠি বাজারের সুপারিপট্টি থেকে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি পৌর শহরের বাজার রোড ও তেঁতুলতলা ঘুরে পুরাতন থানা এলাকার রিকশাস্ট্যান্ডের তিন রাস্তার মোড়ে গিয়ে শেষ হয় এবং সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রায় একই সময়ে জগৎপট্টি গ্রামের সন্ধ্যা নদীর অপর পাশ থেকে উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নাছির উদ্দীন তালুকদারের নেতৃত্বে দ্বিতীয় মিছিলটি বের হয়। এটি নদীরপাড় সড়ক, পুরাতন থানা সড়ক ও জগন্নাথকাঠি বাজার এলাকা প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ডাকবাংলোর সামনে ফিরে যায়।

তৃতীয় মিছিলটি পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে থেকে বের হয়। এতে নেতৃত্ব দেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল বেরুনী সৈকত, স্বরূপকাঠি পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম ফরিদ এবং সাধারণ সম্পাদক মো. মইনুল হাসান। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে শেষ হয়।

একই দিনে বিকেল ৪টার দিকে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ফখরুল আলমের নির্দেশনায় মিয়ারহাট বন্দরের দলীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের নিয়ে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। দলীয় কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের এমন বিভক্তি স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

দলীয় কর্মসূচিতে চার গ্রুপের এমন বিভাজনের কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ প্রশাসনকে বাড়তি সতর্ক থাকতে হয়েছে। এ বিষয়ে নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান জানান, চারটি গ্রুপ ভিন্ন ভিন্ন স্থান ও সময়ে কর্মসূচি পালন করেছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সর্বাত্মক অবস্থানে ছিল এবং কর্মসূচি চলাকালে কোনো সমস্যা হয়নি।

উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. ফকরুল আলম বলেন, উপজেলা কমিটি না থাকায় নিজ নিজ সক্ষমতা দেখাতে চারটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে কর্মসূচি হয়েছে। তিনি জানান, সবাইকে একত্র হয়ে কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানানো হয়েছিল কিন্তু কেউ তা শোনেনি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কমিটি গঠন হলে নেতৃত্বের অনৈক্যের এই সমস্যা দ্রুত নিরসন হবে।

পিরোজপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম খান জানান, নেছারাবাদে দলীয় পৃথক কর্মসূচি পালনের বিষয়টি তাদের জানা ছিল না। তবে তিনি মন্তব্য করেন, কমিটি না থাকায় এমনটা হয়েছে এবং সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে কর্মসূচি পালন করলে ভালো হতো।