লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জমি নিয়ে বিরোধ: তিন সন্তান নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিলেন গৃহবধূ, হত্যার চেষ্টার অভিযোগ

জমি নিয়ে বিরোধ: তিন সন্তান নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিলেন গৃহবধূ, হত্যার চেষ্টার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, তারাকান্দা |

ময়মনসিংহের তারাকান্দায় পৈতৃক জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মোছা. স্বপ্না আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধূকে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জীবন বাঁচাতে অবুঝ তিন সন্তানকে নিয়ে বর্তমানে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিচারের দাবিতে থানায় মামলা দায়ের করেছেন তিনি।

ঘটনার সূত্রপাত

জানা যায়, তারাকান্দা উপজেলার গালাগাঁও ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবু হানিফার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার। স্বামী সহজ-সরল প্রকৃতির হওয়ায় পৈতৃক সম্পত্তি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে আবু হানিফার বোন রিনা আক্তার ও ভগ্নিপতি মো. আলামিন দীর্ঘ দিন ধরে চাপ প্রয়োগ করে আসছিলেন। এর ধারাবাহিকতায় গত ৭ জুন সকাল ১১টার দিকে জমি নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে স্বপ্না আক্তারের ওপর হামলা চালানো হয়।

অভিযোগ ও হামলার বিবরণ

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, মো. আলামিন, রিনা আক্তার, সুমাইয়া আক্তার, মো. সাহেদ, খোদেজা আক্তার ও ইসলাম মিয়ার নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রসহ স্বপ্না আক্তারের ওপর চড়াও হন হামলাকারীরা। তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। এ সময় স্বপ্না আক্তারের কোলে থাকা শিশুসন্তানও গুরুতর আঘাত পায়। স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে সেদিনের মতো প্রাণে বাঁচেন এই গৃহবধূ।

চিকিৎসা ও বর্তমান পরিস্থিতি

ঘটনার পরপরই মুমূর্ষু অবস্থায় স্বপ্না আক্তারকে তার স্বজনরা উদ্ধার করে তারাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে ৭ জুন থেকে ৯ জুন পর্যন্ত ১০ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। মেডিকেল পরীক্ষায় তার মুখমণ্ডল ও চোয়ালের দুই পাশে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ধরা পড়ে। বর্তমানে তিনি কিছুটা সুস্থ হলেও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

কী বলছে প্রশাসন?

ভুক্তভোগী স্বপ্না আক্তার জানান, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা প্রভাবশালী মহলের দোহাই দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এ বিষয়ে তারাকান্দা থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা (এসআই) আব্দুল হাকিম বলেন, “অভিযোগটি আমরা আমলে নিয়েছি। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। হাসপাতালের রিপোর্ট ও আনুষঙ্গিক তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচারের আশায় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছে।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

পাবিপ্রবিতে প্রশাসনিক বাধা উপেক্ষা করে ইনকিলাব মঞ্চের মিছিল ও সমাবেশ

জমি নিয়ে বিরোধ: তিন সন্তান নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিলেন গৃহবধূ, হত্যার চেষ্টার অভিযোগ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:৩৯:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

জমি নিয়ে বিরোধ: তিন সন্তান নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিলেন গৃহবধূ, হত্যার চেষ্টার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, তারাকান্দা |

ময়মনসিংহের তারাকান্দায় পৈতৃক জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মোছা. স্বপ্না আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধূকে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জীবন বাঁচাতে অবুঝ তিন সন্তানকে নিয়ে বর্তমানে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিচারের দাবিতে থানায় মামলা দায়ের করেছেন তিনি।

ঘটনার সূত্রপাত

জানা যায়, তারাকান্দা উপজেলার গালাগাঁও ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবু হানিফার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার। স্বামী সহজ-সরল প্রকৃতির হওয়ায় পৈতৃক সম্পত্তি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে আবু হানিফার বোন রিনা আক্তার ও ভগ্নিপতি মো. আলামিন দীর্ঘ দিন ধরে চাপ প্রয়োগ করে আসছিলেন। এর ধারাবাহিকতায় গত ৭ জুন সকাল ১১টার দিকে জমি নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে স্বপ্না আক্তারের ওপর হামলা চালানো হয়।

অভিযোগ ও হামলার বিবরণ

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, মো. আলামিন, রিনা আক্তার, সুমাইয়া আক্তার, মো. সাহেদ, খোদেজা আক্তার ও ইসলাম মিয়ার নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রসহ স্বপ্না আক্তারের ওপর চড়াও হন হামলাকারীরা। তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। এ সময় স্বপ্না আক্তারের কোলে থাকা শিশুসন্তানও গুরুতর আঘাত পায়। স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে সেদিনের মতো প্রাণে বাঁচেন এই গৃহবধূ।

চিকিৎসা ও বর্তমান পরিস্থিতি

ঘটনার পরপরই মুমূর্ষু অবস্থায় স্বপ্না আক্তারকে তার স্বজনরা উদ্ধার করে তারাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে ৭ জুন থেকে ৯ জুন পর্যন্ত ১০ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। মেডিকেল পরীক্ষায় তার মুখমণ্ডল ও চোয়ালের দুই পাশে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ধরা পড়ে। বর্তমানে তিনি কিছুটা সুস্থ হলেও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

কী বলছে প্রশাসন?

ভুক্তভোগী স্বপ্না আক্তার জানান, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা প্রভাবশালী মহলের দোহাই দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এ বিষয়ে তারাকান্দা থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা (এসআই) আব্দুল হাকিম বলেন, “অভিযোগটি আমরা আমলে নিয়েছি। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। হাসপাতালের রিপোর্ট ও আনুষঙ্গিক তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচারের আশায় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছে।