লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আগস্টের মাঝামাঝি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সম্ভাবনা, আলোচনায় মির্জা ফখরুল

আগামী আগস্ট মাসেই দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পরিকল্পনা করছে সরকার। সরকার-সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনের জন্য অপেক্ষা না করে আগস্টের দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহেই এই নির্বাচন সম্পন্ন করা হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

এর আগে ধারণা করা হয়েছিল যে সেপ্টেম্বরে জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য বিশেষ সংসদ অধিবেশন ডাকার প্রয়োজন নেই। ১৫ জুলাই সংসদের সর্বশেষ অধিবেশন শেষ হয়েছে এবং সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী ৬০ দিনের মধ্যে পরবর্তী অধিবেশন বসার কথা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সেই অধিবেশনেই নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। তবে সংসদ অধিবেশন ছাড়াও আইন অনুযায়ী পৃথক ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা সম্ভব।

২৪ জুলাই শুক্রবার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর বর্তমানে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুযায়ী, পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। জাতীয় সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তাদের মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শনিবার বগুড়ায় সাংবাদিকদের জানান, রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় নাকি বাইরের কাউকে প্রার্থী করা হবে, সেই সিদ্ধান্ত সংবিধান ও আইন অনুযায়ী বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকেই নেওয়া হবে। দলের নীতিনির্ধারণী সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মতামত গুরুত্বপূর্ণ হলেও স্থায়ী কমিটির আলোচনার মাধ্যমেই বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।

দলের মহাসচিব হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির কারণে মির্জা ফখরুলের নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলসহ অনেকে তাঁকে রাষ্ট্রপতি পদে উপযুক্ত হিসেবে মত দিয়েছেন। তবে তিনি নির্বাচিত হলে তাঁকে দলীয় মহাসচিব পদ ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের মন্ত্রিত্ব ছাড়তে হবে, যার ফলে ওই আসনে উপনির্বাচনের প্রয়োজন পড়বে।

এদিকে নির্বাচন কমিশন (ইসি) রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন সংসদ ভবনে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠক শেষে সিইসি জানান, কমিশন নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করেই নির্বাচনের দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কালিয়াকৈরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে ধাক্কা, চালক নিহত

আগস্টের মাঝামাঝি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সম্ভাবনা, আলোচনায় মির্জা ফখরুল

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:১৫:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

আগামী আগস্ট মাসেই দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পরিকল্পনা করছে সরকার। সরকার-সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনের জন্য অপেক্ষা না করে আগস্টের দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহেই এই নির্বাচন সম্পন্ন করা হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

এর আগে ধারণা করা হয়েছিল যে সেপ্টেম্বরে জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য বিশেষ সংসদ অধিবেশন ডাকার প্রয়োজন নেই। ১৫ জুলাই সংসদের সর্বশেষ অধিবেশন শেষ হয়েছে এবং সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী ৬০ দিনের মধ্যে পরবর্তী অধিবেশন বসার কথা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সেই অধিবেশনেই নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। তবে সংসদ অধিবেশন ছাড়াও আইন অনুযায়ী পৃথক ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা সম্ভব।

২৪ জুলাই শুক্রবার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর বর্তমানে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুযায়ী, পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। জাতীয় সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তাদের মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শনিবার বগুড়ায় সাংবাদিকদের জানান, রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় নাকি বাইরের কাউকে প্রার্থী করা হবে, সেই সিদ্ধান্ত সংবিধান ও আইন অনুযায়ী বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকেই নেওয়া হবে। দলের নীতিনির্ধারণী সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মতামত গুরুত্বপূর্ণ হলেও স্থায়ী কমিটির আলোচনার মাধ্যমেই বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।

দলের মহাসচিব হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির কারণে মির্জা ফখরুলের নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলসহ অনেকে তাঁকে রাষ্ট্রপতি পদে উপযুক্ত হিসেবে মত দিয়েছেন। তবে তিনি নির্বাচিত হলে তাঁকে দলীয় মহাসচিব পদ ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের মন্ত্রিত্ব ছাড়তে হবে, যার ফলে ওই আসনে উপনির্বাচনের প্রয়োজন পড়বে।

এদিকে নির্বাচন কমিশন (ইসি) রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন সংসদ ভবনে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠক শেষে সিইসি জানান, কমিশন নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করেই নির্বাচনের দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হবে।