লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চ্যালেঞ্জের মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনীতির স্থিতিস্থাপকতা বজায় রয়েছে: এডিবি

বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বাংলাদেশের অর্থনীতি তার স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) প্রকাশিত সর্বশেষ ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক (এডিও) জুলাই ২০২৬’ প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে। সংস্থাটির মতে, শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং সেবা খাতের স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি এই অর্থনৈতিক সক্ষমতার পেছনে প্রধান ভূমিকা পালন করছে।

এডিবি পূর্বাভাস দিয়েছে যে, ২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ২০২৭ অর্থবছরে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কঠোর সামষ্টিক আর্থিক পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও রেমিট্যান্সের জোরালো প্রবাহ এবং অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতে লক্ষ্যভিত্তিক ঋণ সহায়তা ২০২৬ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধিকে সহায়তা করবে।

এডিবি’র বাংলাদেশ আবাসিক মিশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান আকিরা মাতসুনাগা জানান, কঠিন অর্থনৈতিক পরিবেশের মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থিতিস্থাপকতা প্রদর্শন করছে। তিনি বলেন, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদার, বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন, আর্থিক খাতের সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর করতে ধারাবাহিক সংস্কার কার্যক্রম অত্যন্ত জরুরি। এই সংস্কারগুলো বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মূল্যস্ফীতির বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ অর্থবছরে এটি ৯ দশমিক ০ শতাংশে থাকতে পারে এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতির সাথে সাথে ২০২৭ অর্থবছরে তা কমে ৮ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে আসবে। এছাড়া, ব্যবসা সহজীকরণ, কর প্রশাসন সংস্কার এবং রেমিট্যান্সে প্রণোদনা অব্যাহত থাকলে ২০২৭ অর্থবছরে বেসরকারি ভোগব্যয় ও বিনিয়োগ আরও শক্তিশালী হবে বলে এডিবি প্রত্যাশা করছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, সেবা খাত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা অব্যাহত রাখবে। একই সাথে চলমান সংস্কার কার্যক্রম ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করার পাশাপাশি মধ্যমেয়াদে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। পরিশেষে এডিবি জানিয়েছে, প্রবৃদ্ধি টেকসই রাখা, প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বহিরাগত অভিঘাত মোকাবিলায় বাংলাদেশের স্থিতিস্থাপকতা আরও জোরদার করতে বিচক্ষণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও নীতিগত সংস্কার অপরিহার্য।

জনপ্রিয় সংবাদ

টিসিবির ডিজিটাল রূপান্তর উদ্বোধন করলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির

চ্যালেঞ্জের মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনীতির স্থিতিস্থাপকতা বজায় রয়েছে: এডিবি

প্রকাশিত হয়েছে: ১১:০৪:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বাংলাদেশের অর্থনীতি তার স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) প্রকাশিত সর্বশেষ ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক (এডিও) জুলাই ২০২৬’ প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে। সংস্থাটির মতে, শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং সেবা খাতের স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি এই অর্থনৈতিক সক্ষমতার পেছনে প্রধান ভূমিকা পালন করছে।

এডিবি পূর্বাভাস দিয়েছে যে, ২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ২০২৭ অর্থবছরে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কঠোর সামষ্টিক আর্থিক পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও রেমিট্যান্সের জোরালো প্রবাহ এবং অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতে লক্ষ্যভিত্তিক ঋণ সহায়তা ২০২৬ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধিকে সহায়তা করবে।

এডিবি’র বাংলাদেশ আবাসিক মিশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান আকিরা মাতসুনাগা জানান, কঠিন অর্থনৈতিক পরিবেশের মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থিতিস্থাপকতা প্রদর্শন করছে। তিনি বলেন, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদার, বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন, আর্থিক খাতের সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর করতে ধারাবাহিক সংস্কার কার্যক্রম অত্যন্ত জরুরি। এই সংস্কারগুলো বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মূল্যস্ফীতির বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ অর্থবছরে এটি ৯ দশমিক ০ শতাংশে থাকতে পারে এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতির সাথে সাথে ২০২৭ অর্থবছরে তা কমে ৮ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে আসবে। এছাড়া, ব্যবসা সহজীকরণ, কর প্রশাসন সংস্কার এবং রেমিট্যান্সে প্রণোদনা অব্যাহত থাকলে ২০২৭ অর্থবছরে বেসরকারি ভোগব্যয় ও বিনিয়োগ আরও শক্তিশালী হবে বলে এডিবি প্রত্যাশা করছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, সেবা খাত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা অব্যাহত রাখবে। একই সাথে চলমান সংস্কার কার্যক্রম ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করার পাশাপাশি মধ্যমেয়াদে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। পরিশেষে এডিবি জানিয়েছে, প্রবৃদ্ধি টেকসই রাখা, প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বহিরাগত অভিঘাত মোকাবিলায় বাংলাদেশের স্থিতিস্থাপকতা আরও জোরদার করতে বিচক্ষণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও নীতিগত সংস্কার অপরিহার্য।