লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন

ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার দায়ে লালন মোল্যা (৫৪) নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার দুপুর ২টার দিকে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডিত লালন মোল্যা মধুখালী উপজেলার কামারখালী গ্রামের আবুল হোসেন মোল্যার ছেলে। রায়ের পর তাকে কঠোর পুলিশ পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৬ বছর আগে পারিবারিকভাবে লালন মোল্যার সঙ্গে সাজেদা বেগমের (৪০) বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে লালন মোল্যা বিভিন্ন সময় যৌতুকের জন্য তার স্ত্রীকে নির্যাতন করতেন। দম্পতিটি ফরিদপুর শহরের আলীপুর এলাকার একটি বাসায় বসবাস করতেন এবং লালন সেখানে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উপপরিদর্শক (এসআই) জগন্নাথ দাসের দাখিল করা অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করে তা না পাওয়ায় ২০২২ সালের ২৩ আগস্ট ভোরে লালন মোল্যা তার স্ত্রী সাজেদা বেগমকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেন। হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি সাজেদার বাম গাল, চোখের ভ্রু, চোখ, নাক, কপাল ও ডান কাঁধসহ পুরো মুখমণ্ডল ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করেন। ঘটনার পর তিনি বাড়ির মালিককে ফোন করে জানান যে তিনি ঝামেলায় পড়েছেন। এরপর বাড়ির ম্যানেজার ঘটনাস্থলে গিয়ে সাজেদা বেগমকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।

স্থানীয়রা অভিযুক্ত লালন মোল্যাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে এবং কোতোয়ালি থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহত সাজেদা বেগমের বোন মাজেদা বেগম ২৬ আগস্ট কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি গোলাম রব্বানী ভূইয়া রতন জানান, সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এই রায় দিয়েছেন। দণ্ডাদেশের মধ্যে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আসামির কারাদণ্ডাদেশ তার আগের কারাবাসের সময় থেকে গণনা করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঝিনাইগাতীতে মসজিদ কমিটির বিরোধে হামলায় বিএনপি নেতার মৃত্যু

ফরিদপুরে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:৩২:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার দায়ে লালন মোল্যা (৫৪) নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার দুপুর ২টার দিকে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডিত লালন মোল্যা মধুখালী উপজেলার কামারখালী গ্রামের আবুল হোসেন মোল্যার ছেলে। রায়ের পর তাকে কঠোর পুলিশ পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৬ বছর আগে পারিবারিকভাবে লালন মোল্যার সঙ্গে সাজেদা বেগমের (৪০) বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে লালন মোল্যা বিভিন্ন সময় যৌতুকের জন্য তার স্ত্রীকে নির্যাতন করতেন। দম্পতিটি ফরিদপুর শহরের আলীপুর এলাকার একটি বাসায় বসবাস করতেন এবং লালন সেখানে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উপপরিদর্শক (এসআই) জগন্নাথ দাসের দাখিল করা অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করে তা না পাওয়ায় ২০২২ সালের ২৩ আগস্ট ভোরে লালন মোল্যা তার স্ত্রী সাজেদা বেগমকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেন। হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি সাজেদার বাম গাল, চোখের ভ্রু, চোখ, নাক, কপাল ও ডান কাঁধসহ পুরো মুখমণ্ডল ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করেন। ঘটনার পর তিনি বাড়ির মালিককে ফোন করে জানান যে তিনি ঝামেলায় পড়েছেন। এরপর বাড়ির ম্যানেজার ঘটনাস্থলে গিয়ে সাজেদা বেগমকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।

স্থানীয়রা অভিযুক্ত লালন মোল্যাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে এবং কোতোয়ালি থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহত সাজেদা বেগমের বোন মাজেদা বেগম ২৬ আগস্ট কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি গোলাম রব্বানী ভূইয়া রতন জানান, সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এই রায় দিয়েছেন। দণ্ডাদেশের মধ্যে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আসামির কারাদণ্ডাদেশ তার আগের কারাবাসের সময় থেকে গণনা করা হবে।