লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই আন্দোলনে রামপুরা-বনশ্রীতে নৃশংসতায় নেতৃত্ব দেন সাবেক ওসি মশিউর

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় দায়ের করা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর প্রকাশিত ১৪৭ পৃষ্ঠার এই রায়ে উঠে এসেছে যে, তৎকালীন রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান সরাসরি ওই এলাকায় নৃশংসতার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তিনি ভুক্তভোগীদের ওপর গুলি চালিয়েছিলেন বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়।

গত ২৮ জুন বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি শফিউল আলম ও বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। রায়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপির খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম এবং রামপুরা থানার সাবেক ওসি মশিউর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই তিন আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। এছাড়া সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারিকুল পলাতক থাকলেও চঞ্চল চন্দ্র সরকার বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।

রায়ে বলা হয়েছে, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণ নিরস্ত্র থাকা সত্ত্বেও ডিএমপির তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমান বেতার বার্তায় অধীনস্থ পুলিশ সদস্যদের ওপর সর্বোচ্চ বল প্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এর অংশ হিসেবে ১৯ জুলাই জুমার নামাজের পর বনশ্রী মসজিদের সামনে মো. নাদিম হোসেনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। একই দিন ওই এলাকায় নিজের বাড়ির কলাপসিবল গেটের ভেতরে মায়া ইসলামকে গুলি করে হত্যা করা হয় এবং তাঁর নাতি বাসিত খান মুসাকে গুরুতর জখম করা হয়। এছাড়া, রামপুরার একটি নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা আমির হোসেনকেও পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হতে হয়।

ট্রাইব্যুনাল জানিয়েছে, নাদিম ও মায়া ইসলামকে হত্যা এবং বাসিত খান ও আমির হোসেনকে জখমের ঘটনায় হাবিবুর রহমান, রাশেদুল ইসলাম ও মশিউর রহমানের সরাসরি দায় প্রমাণিত হয়েছে। অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় তাদের প্রত্যেককে সর্বোচ্চ সাজার যোগ্য বলে গণ্য করা হয়েছে। তবে পলাতক থাকা এসআই তরিকুল ও গ্রেপ্তার হওয়া এএসআই চঞ্চল পুলিশের নিম্নস্তরের কর্মকর্তা হওয়ায় এবং ভুক্তভোগী আমির গুলির আঘাতে মারা না যাওয়ায় তাদের ক্ষেত্রে সাজা কিছুটা কম নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া, চঞ্চল চন্দ্র সরকার বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ায় এবং দীর্ঘ সময় হেফাজতে থাকায় তাকে সাজার ক্ষেত্রে কিছুটা রেহাই দেওয়া হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই তিন আসামিই পলাতক।এ ছাড়া সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে (পলাতক) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে (গ্রেপ্তার) ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।গণ-অভ্যুত্থানের সময় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রামপুরায় একটি ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা যুবক আমির হোসেন পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত

সেদিন গুলিবিদ্ধ হন মায়া ইসলাম নামের এক নারী ও তাঁর নাতি বাসিত খান (৭)।

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই আন্দোলনে রামপুরা-বনশ্রীতে নৃশংসতায় নেতৃত্ব দেন সাবেক ওসি মশিউর

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৪৬:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় দায়ের করা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর প্রকাশিত ১৪৭ পৃষ্ঠার এই রায়ে উঠে এসেছে যে, তৎকালীন রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান সরাসরি ওই এলাকায় নৃশংসতার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তিনি ভুক্তভোগীদের ওপর গুলি চালিয়েছিলেন বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়।

গত ২৮ জুন বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি শফিউল আলম ও বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। রায়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপির খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম এবং রামপুরা থানার সাবেক ওসি মশিউর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই তিন আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। এছাড়া সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারিকুল পলাতক থাকলেও চঞ্চল চন্দ্র সরকার বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।

রায়ে বলা হয়েছে, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণ নিরস্ত্র থাকা সত্ত্বেও ডিএমপির তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমান বেতার বার্তায় অধীনস্থ পুলিশ সদস্যদের ওপর সর্বোচ্চ বল প্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এর অংশ হিসেবে ১৯ জুলাই জুমার নামাজের পর বনশ্রী মসজিদের সামনে মো. নাদিম হোসেনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। একই দিন ওই এলাকায় নিজের বাড়ির কলাপসিবল গেটের ভেতরে মায়া ইসলামকে গুলি করে হত্যা করা হয় এবং তাঁর নাতি বাসিত খান মুসাকে গুরুতর জখম করা হয়। এছাড়া, রামপুরার একটি নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা আমির হোসেনকেও পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হতে হয়।

ট্রাইব্যুনাল জানিয়েছে, নাদিম ও মায়া ইসলামকে হত্যা এবং বাসিত খান ও আমির হোসেনকে জখমের ঘটনায় হাবিবুর রহমান, রাশেদুল ইসলাম ও মশিউর রহমানের সরাসরি দায় প্রমাণিত হয়েছে। অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় তাদের প্রত্যেককে সর্বোচ্চ সাজার যোগ্য বলে গণ্য করা হয়েছে। তবে পলাতক থাকা এসআই তরিকুল ও গ্রেপ্তার হওয়া এএসআই চঞ্চল পুলিশের নিম্নস্তরের কর্মকর্তা হওয়ায় এবং ভুক্তভোগী আমির গুলির আঘাতে মারা না যাওয়ায় তাদের ক্ষেত্রে সাজা কিছুটা কম নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া, চঞ্চল চন্দ্র সরকার বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ায় এবং দীর্ঘ সময় হেফাজতে থাকায় তাকে সাজার ক্ষেত্রে কিছুটা রেহাই দেওয়া হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই তিন আসামিই পলাতক।এ ছাড়া সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে (পলাতক) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে (গ্রেপ্তার) ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।গণ-অভ্যুত্থানের সময় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রামপুরায় একটি ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা যুবক আমির হোসেন পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত

সেদিন গুলিবিদ্ধ হন মায়া ইসলাম নামের এক নারী ও তাঁর নাতি বাসিত খান (৭)।