লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিতর্কিত পতাকা প্রদর্শনে শাস্তির শঙ্কায় আর্জেন্টিনা

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল জয়ের পর একটি পতাকা প্রদর্শন নিয়ে বড় ধরনের বিপাকে পড়েছে আর্জেন্টিনা। এই ঘটনায় দলটির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার।

আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে নাটকীয় জয় নিশ্চিত হওয়ার পর মাঠে হাজির হন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার জিওভানি লো সেলসো। এ সময় তার হাতে একটি পতাকা দেখা যায়, যেখানে লেখা ছিল ‘লাস মালভিনাস সন আর্জেন্তিনাস’ বা ‘মালভিনাস আর্জেন্টিনার’। শুরুতে দর্শকদের মধ্যে থাকা এই পতাকাটি লো সেলসোর হাতে পৌঁছায় এবং তার সঙ্গে রক্ষণভাগের খেলোয়াড় নিকোলাস ওতামেন্দিকেও দেখা যায়। কিছুক্ষণ পর পতাকাটি সরিয়ে রাখা হলেও পরে তা পুনরায় মাঠে মেলে ধরা হয়।

আইএফএবি এবং ফিফার বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, মাঠে রাজনৈতিক, ধর্মীয় কিংবা ব্যক্তিগত স্লোগান বা প্রতীক প্রদর্শন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আইএফএবির নিয়মমাফিক, খেলোয়াড়দের পোশাক বা অন্য কোনো মাধ্যমে এ ধরনের বক্তব্য বা বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের কোনো সুযোগ নেই। এই নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে প্রতিযোগিতা আয়োজক, জাতীয় ফুটবল সংস্থা কিংবা ফিফা সংশ্লিষ্ট দল ও খেলোয়াড়কে শাস্তি দিতে পারে।

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণত ম্যাচ শেষে সব ধরনের প্রতিবেদন জমা পড়ার পর সংস্থাটি বিষয়টি পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করে। তবে এই সিদ্ধান্তের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। এই বিষয়ে মন্তব্যের জন্য ফিফার সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ‘লাস মালভিনাস’ শব্দটি মূলত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের জন্য ব্যবহৃত হয়, যা ব্রিটেনের অধীনস্থ এলাকা। আর্জেন্টিনার মূল ভূখণ্ডের পূর্ব উপকূল থেকে প্রায় ৩০০ মাইল দূরে অবস্থিত এই দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে দুই দেশের বিরোধ ঊনবিংশ শতকের গোড়ার দিকে শুরু হয়। ১৯৮২ সালে এই দ্বীপপুঞ্জ দখলের চেষ্টায় আর্জেন্টিনা ও ব্রিটেনের মধ্যে সংঘর্ষে তিনজন সাধারণ নাগরিক, ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনা এবং ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন সেনা নিহত হয়েছিলেন।

এর আগে গত জুন মাসে লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি আদালতে বিপ্লব-পূর্ব ইরানের পতাকার ওপর ফিফার নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়েছিল। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা আগামী রোববার মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের মুখোমুখি হবে। এই ম্যাচে জয় পেলে তারা টানা দুইবার বিশ্বকাপ জেতা তৃতীয় দল হওয়ার গৌরব অর্জন করবে।

এই বিরোধের শুরু ঊনবিংশ শতকের গোড়ার দিকে, নেপোলিয়ন যুদ্ধের সময় ব্রিটেনের আর্জেন্টিনা আক্রমণ থেকে। ব্রিটেন প্রথমে ১৭৭৪ সালে ফকল্যান্ডের দাবি করে। এরপর ১৮৩২ সালে আবার নিজেদের শাসন প্রতিষ্ঠা করে তারা। ১৯৮২ সালে আর্জেন্টিনার সামরিক সরকার এই দ্বীপপুঞ্জ দখলের চেষ্টা করে। সেই সংঘর্ষ শুরু হয় ২ এপ্রিল, শেষ হয় ১৪ জুন। শেষ পর

জনপ্রিয় সংবাদ

সুপ্রিম কোর্টে নতুন আইন কর্মকর্তা নিয়োগের প্রতিবাদে আইনজীবীদের বিক্ষোভ

বিতর্কিত পতাকা প্রদর্শনে শাস্তির শঙ্কায় আর্জেন্টিনা

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:১৭:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল জয়ের পর একটি পতাকা প্রদর্শন নিয়ে বড় ধরনের বিপাকে পড়েছে আর্জেন্টিনা। এই ঘটনায় দলটির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার।

আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে নাটকীয় জয় নিশ্চিত হওয়ার পর মাঠে হাজির হন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার জিওভানি লো সেলসো। এ সময় তার হাতে একটি পতাকা দেখা যায়, যেখানে লেখা ছিল ‘লাস মালভিনাস সন আর্জেন্তিনাস’ বা ‘মালভিনাস আর্জেন্টিনার’। শুরুতে দর্শকদের মধ্যে থাকা এই পতাকাটি লো সেলসোর হাতে পৌঁছায় এবং তার সঙ্গে রক্ষণভাগের খেলোয়াড় নিকোলাস ওতামেন্দিকেও দেখা যায়। কিছুক্ষণ পর পতাকাটি সরিয়ে রাখা হলেও পরে তা পুনরায় মাঠে মেলে ধরা হয়।

আইএফএবি এবং ফিফার বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, মাঠে রাজনৈতিক, ধর্মীয় কিংবা ব্যক্তিগত স্লোগান বা প্রতীক প্রদর্শন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আইএফএবির নিয়মমাফিক, খেলোয়াড়দের পোশাক বা অন্য কোনো মাধ্যমে এ ধরনের বক্তব্য বা বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের কোনো সুযোগ নেই। এই নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে প্রতিযোগিতা আয়োজক, জাতীয় ফুটবল সংস্থা কিংবা ফিফা সংশ্লিষ্ট দল ও খেলোয়াড়কে শাস্তি দিতে পারে।

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণত ম্যাচ শেষে সব ধরনের প্রতিবেদন জমা পড়ার পর সংস্থাটি বিষয়টি পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করে। তবে এই সিদ্ধান্তের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। এই বিষয়ে মন্তব্যের জন্য ফিফার সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ‘লাস মালভিনাস’ শব্দটি মূলত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের জন্য ব্যবহৃত হয়, যা ব্রিটেনের অধীনস্থ এলাকা। আর্জেন্টিনার মূল ভূখণ্ডের পূর্ব উপকূল থেকে প্রায় ৩০০ মাইল দূরে অবস্থিত এই দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে দুই দেশের বিরোধ ঊনবিংশ শতকের গোড়ার দিকে শুরু হয়। ১৯৮২ সালে এই দ্বীপপুঞ্জ দখলের চেষ্টায় আর্জেন্টিনা ও ব্রিটেনের মধ্যে সংঘর্ষে তিনজন সাধারণ নাগরিক, ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনা এবং ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন সেনা নিহত হয়েছিলেন।

এর আগে গত জুন মাসে লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি আদালতে বিপ্লব-পূর্ব ইরানের পতাকার ওপর ফিফার নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়েছিল। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা আগামী রোববার মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের মুখোমুখি হবে। এই ম্যাচে জয় পেলে তারা টানা দুইবার বিশ্বকাপ জেতা তৃতীয় দল হওয়ার গৌরব অর্জন করবে।

এই বিরোধের শুরু ঊনবিংশ শতকের গোড়ার দিকে, নেপোলিয়ন যুদ্ধের সময় ব্রিটেনের আর্জেন্টিনা আক্রমণ থেকে। ব্রিটেন প্রথমে ১৭৭৪ সালে ফকল্যান্ডের দাবি করে। এরপর ১৮৩২ সালে আবার নিজেদের শাসন প্রতিষ্ঠা করে তারা। ১৯৮২ সালে আর্জেন্টিনার সামরিক সরকার এই দ্বীপপুঞ্জ দখলের চেষ্টা করে। সেই সংঘর্ষ শুরু হয় ২ এপ্রিল, শেষ হয় ১৪ জুন। শেষ পর