লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বকাপে বেসরকারি বিনিয়োগের বিতর্কিত পরিকল্পনা বাতিল করল ফিফা

বিশ্বজুড়ে ফুটবল কর্মকর্তাদের তীব্র বিরোধিতার মুখে বিশ্বকাপে বেসরকারি বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। সংস্থাটির সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই পরিকল্পনা বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি তার বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ফুটবলকে ঐক্যবদ্ধ ও উন্নত করার লক্ষ্য ফিফার সব সময়ই ছিল এবং থাকবে, যার ফলে এই প্রস্তাব আর সামনে এগোবে না।

গত মঙ্গলবার ফিফা এই পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল। তাদের প্রস্তাবিত 'ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ' (এফএফই) নামের একটি বাণিজ্যিক অঙ্গপ্রতিষ্ঠান গঠন করে এতে বিনিয়োগকারীদের যুক্ত করার পরিকল্পনা ছিল। এই প্রতিষ্ঠানের মূল্য প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার ধরে প্রায় ৪২০ কোটি ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য ছিল ফিফার। এই সংস্থাটি বিশ্বকাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্ট পরিচালনার কাজ করত। ফিফার দাবি ছিল, এটি বাস্তবায়িত হলে ২০২৭ সালের শুরুর দিকে সদস্যদেশগুলো এককালীন ২ কোটি ডলার করে পেত এবং ২০২৭-২০৩০ মেয়াদের বরাদ্দ ৮০ লাখ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২ কোটি ডলারে উন্নীত হতো।

তবে এফএফইতে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার দেওয়ার প্রস্তাবটি শুরুর দিন থেকেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা সাফ জানিয়ে দেয়, এই প্রস্তাব বহাল থাকলে তাদের কোনো জাতীয় দল ফিফার কোনো টুর্নামেন্টে অংশ নেবে না। পরবর্তীতে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকার কনফেডারেশন (কনক্যাকাফ) এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। উয়েফার বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্বকাপ কোনো বাণিজ্যিক পণ্য নয় এবং এর কোনো অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দেওয়া উচিত নয়।

পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয় শুক্রবার, যখন ইনফান্তিনোর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কর্ডেইরো পদত্যাগ করেন। তিনি এই পরিকল্পনাকে ফিফা ও ফুটবলের ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিকর বলে অভিহিত করেন। ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কনমেবল সভাপতি আলেহান্দ্রো ডমিনগুয়েজও এই প্রকল্পের কাঠামো ও প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত তথ্য দাবি করেছিলেন। একই সঙ্গে এএফসিও উয়েফা ও কনক্যাকাফের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে বিশ্বকাপ বয়কটের আশঙ্কা প্রকাশ করে।

এসব তোপের মুখেও ফিফা শুক্রবার সকালে দাবি করেছিল যে, তারা ফুটবল বিক্রি করছে না এবং সদস্যদেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবে। তবে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামসহ বিভিন্ন মহল থেকে ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। সবশেষে চাপের মুখে ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, এখন তার মূল লক্ষ্য হলো সব পক্ষকে নিয়ে ঐক্যে জোর দেওয়া এবং ফুটবলের প্রসার ঘটানো। তিনি জানান, সবার মতামত শোনার পর নিশ্চিত হওয়া গেছে যে এই প্রস্তাবটি ফুটবলে বিভাজন তৈরি করছিল, যা তাদের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে মেলে না।

সংস্থাটির মূল কাজ হতো বিশ্বকাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্ট পরিচালনা করা।.ফিফা জানিয়েছিল, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে ২০২৭ সালের শুরুর দিকে তাদের ২১১টি সদস্যদেশ এককালীন ২ কোটি ডলার করে পাবে।

যাঁরা ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবেন, তাঁদের প্রত্যেকেরই এতে উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত।’.তোপের মুখেও ৬৪ দলের বিশ্বকাপের তোড়জোড়: ফিফায় নতুন উত্তাপ.গতকাল শুক্রবার সকালের বিবৃতিতে ফিফা দাবি করেছিল, সদস্যদেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত থাকবে এবং ‘কেউ ফুটবল বিক্রি করছে না’।তবু ফিফার ওপর থেকে চাপ কমেনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের ওপর পরিকল্পিত সামরিক হামলা স্থগিত করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

বিশ্বকাপে বেসরকারি বিনিয়োগের বিতর্কিত পরিকল্পনা বাতিল করল ফিফা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৩৩:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

বিশ্বজুড়ে ফুটবল কর্মকর্তাদের তীব্র বিরোধিতার মুখে বিশ্বকাপে বেসরকারি বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। সংস্থাটির সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই পরিকল্পনা বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি তার বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ফুটবলকে ঐক্যবদ্ধ ও উন্নত করার লক্ষ্য ফিফার সব সময়ই ছিল এবং থাকবে, যার ফলে এই প্রস্তাব আর সামনে এগোবে না।

গত মঙ্গলবার ফিফা এই পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল। তাদের প্রস্তাবিত 'ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ' (এফএফই) নামের একটি বাণিজ্যিক অঙ্গপ্রতিষ্ঠান গঠন করে এতে বিনিয়োগকারীদের যুক্ত করার পরিকল্পনা ছিল। এই প্রতিষ্ঠানের মূল্য প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার ধরে প্রায় ৪২০ কোটি ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য ছিল ফিফার। এই সংস্থাটি বিশ্বকাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্ট পরিচালনার কাজ করত। ফিফার দাবি ছিল, এটি বাস্তবায়িত হলে ২০২৭ সালের শুরুর দিকে সদস্যদেশগুলো এককালীন ২ কোটি ডলার করে পেত এবং ২০২৭-২০৩০ মেয়াদের বরাদ্দ ৮০ লাখ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২ কোটি ডলারে উন্নীত হতো।

তবে এফএফইতে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার দেওয়ার প্রস্তাবটি শুরুর দিন থেকেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা সাফ জানিয়ে দেয়, এই প্রস্তাব বহাল থাকলে তাদের কোনো জাতীয় দল ফিফার কোনো টুর্নামেন্টে অংশ নেবে না। পরবর্তীতে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকার কনফেডারেশন (কনক্যাকাফ) এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। উয়েফার বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্বকাপ কোনো বাণিজ্যিক পণ্য নয় এবং এর কোনো অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দেওয়া উচিত নয়।

পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয় শুক্রবার, যখন ইনফান্তিনোর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কর্ডেইরো পদত্যাগ করেন। তিনি এই পরিকল্পনাকে ফিফা ও ফুটবলের ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিকর বলে অভিহিত করেন। ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কনমেবল সভাপতি আলেহান্দ্রো ডমিনগুয়েজও এই প্রকল্পের কাঠামো ও প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত তথ্য দাবি করেছিলেন। একই সঙ্গে এএফসিও উয়েফা ও কনক্যাকাফের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে বিশ্বকাপ বয়কটের আশঙ্কা প্রকাশ করে।

এসব তোপের মুখেও ফিফা শুক্রবার সকালে দাবি করেছিল যে, তারা ফুটবল বিক্রি করছে না এবং সদস্যদেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবে। তবে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামসহ বিভিন্ন মহল থেকে ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। সবশেষে চাপের মুখে ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, এখন তার মূল লক্ষ্য হলো সব পক্ষকে নিয়ে ঐক্যে জোর দেওয়া এবং ফুটবলের প্রসার ঘটানো। তিনি জানান, সবার মতামত শোনার পর নিশ্চিত হওয়া গেছে যে এই প্রস্তাবটি ফুটবলে বিভাজন তৈরি করছিল, যা তাদের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে মেলে না।

সংস্থাটির মূল কাজ হতো বিশ্বকাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্ট পরিচালনা করা।.ফিফা জানিয়েছিল, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে ২০২৭ সালের শুরুর দিকে তাদের ২১১টি সদস্যদেশ এককালীন ২ কোটি ডলার করে পাবে।

যাঁরা ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবেন, তাঁদের প্রত্যেকেরই এতে উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত।’.তোপের মুখেও ৬৪ দলের বিশ্বকাপের তোড়জোড়: ফিফায় নতুন উত্তাপ.গতকাল শুক্রবার সকালের বিবৃতিতে ফিফা দাবি করেছিল, সদস্যদেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত থাকবে এবং ‘কেউ ফুটবল বিক্রি করছে না’।তবু ফিফার ওপর থেকে চাপ কমেনি।