লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হলে কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি দিল ইরান

ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে কোনো ধরনের হামলা চালানো হলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে ইরান।

স্থানীয় সময় শনিবার (১ আগস্ট) এক বিবৃতিতে ইরানের যুদ্ধকালীন সামরিক কমান্ডের প্রধান মেজর জেনারেল আলী আবদোল্লাহি দাবি করেন, ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যকে সর্বাত্মক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ভূখণ্ড, সম্পদ ও অবকাঠামো নিজেদের স্বার্থ রক্ষার ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে এবং একই সঙ্গে ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা করছে।

আলী আবদোল্লাহি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের ঢাল হিসেবে যে দেশ কাজ করবে, সেই দেশও সংঘাতের ভয়াবহ প্রভাব থেকে রেহাই পাবে না। মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনাসহ বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছে, যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো এতে চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিমের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র কোনো হামলা চালালে মার্কিন ও ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় পাল্টা আঘাত হানতে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। এদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার ইচ্ছার কথা প্রকাশ করলেও, আঞ্চলিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত সেই পরিকল্পনায় সম্মতি দেয়নি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একাধিক সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ও তাদের মিত্র দেশগুলোর সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালিকে কৌশলগত চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উত্তেজনার মধ্যেও কূটনৈতিক সমাধানের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি এবং বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে।

২৪ জুলাই তেহরানের আজাদি স্কোয়ারে প্রদর্শিত ইরানে তৈরি যুলিফাগার ক্ষেপণাস্ত্রের পাশ দিয়ে এক ইরানি দম্পতি সাইকেলে চড়ে যাচ্ছেন। ছবি: এএফপি

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের ওপর পরিকল্পিত সামরিক হামলা স্থগিত করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হলে কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি দিল ইরান

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৩০:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে কোনো ধরনের হামলা চালানো হলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে ইরান।

স্থানীয় সময় শনিবার (১ আগস্ট) এক বিবৃতিতে ইরানের যুদ্ধকালীন সামরিক কমান্ডের প্রধান মেজর জেনারেল আলী আবদোল্লাহি দাবি করেন, ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যকে সর্বাত্মক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ভূখণ্ড, সম্পদ ও অবকাঠামো নিজেদের স্বার্থ রক্ষার ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে এবং একই সঙ্গে ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা করছে।

আলী আবদোল্লাহি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের ঢাল হিসেবে যে দেশ কাজ করবে, সেই দেশও সংঘাতের ভয়াবহ প্রভাব থেকে রেহাই পাবে না। মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনাসহ বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছে, যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো এতে চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিমের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র কোনো হামলা চালালে মার্কিন ও ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় পাল্টা আঘাত হানতে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। এদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার ইচ্ছার কথা প্রকাশ করলেও, আঞ্চলিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত সেই পরিকল্পনায় সম্মতি দেয়নি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একাধিক সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ও তাদের মিত্র দেশগুলোর সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালিকে কৌশলগত চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উত্তেজনার মধ্যেও কূটনৈতিক সমাধানের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি এবং বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে।

২৪ জুলাই তেহরানের আজাদি স্কোয়ারে প্রদর্শিত ইরানে তৈরি যুলিফাগার ক্ষেপণাস্ত্রের পাশ দিয়ে এক ইরানি দম্পতি সাইকেলে চড়ে যাচ্ছেন। ছবি: এএফপি