লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই আন্দোলনে নিরস্ত্রদের ওপর গুলির ঘটনায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণ সম্পূর্ণ নিরস্ত্র থাকা সত্ত্বেও তাদের ওপর চরম নৃশংসতা চালানো হয়েছিল। তৎকালীন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমানের সরাসরি নির্দেশেই এই সর্বোচ্চ বলপ্রয়োগ করা হয়। রাজধানীর রামপুরা-বনশ্রী এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর ১৪৭ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ে এই পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে। বুধবার (১৫ জুলাই) ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর এস এম মইনুল করিম রায় প্রকাশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত ২৮ জুন বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল এই মামলার রায় ঘোষণা করেছিলেন।

পূর্ণাঙ্গ রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রামপুরা থানার তৎকালীন ওসি মো. মশিউর রহমানের নেতৃত্বে ওই এলাকায় নারকীয় তাণ্ডব চালানো হয় এবং ওসি মশিউর নিজেই ভুক্তভোগীদের ওপর সরাসরি গুলি চালিয়েছিলেন। অপরাধের ভয়াবহতা বিবেচনায় ট্রাইব্যুনাল মামলার তিন প্রধান আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম এবং রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান। এই তিন আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ওই দিন জুমার নামাজের পর বনশ্রী মসজিদের সামনে মো. নাদিম হোসেন এবং নিজের বাড়ির কলাপসিবল গেটের ভেতরে মায়া ইসলাম গুলিবিদ্ধ হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মায়া ইসলাম মারা যান এবং একই ঘটনায় তার ৭ বছর বয়সী নাতি বাসিত খান মুসা গুরুতর আহত হয়। এছাড়া একই দিন রামপুরায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা নিরপরাধ যুবক আমির হোসেনকে গুলি করার অপরাধে সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে যাবজ্জীবন এবং সাবেক এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে তারিকুল পলাতক রয়েছেন। আসামি চঞ্চল চন্দ্র সরকারের সাজা কমানোর বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল জানিয়েছে, ভুক্তভোগী আমির হোসেন প্রাণে বেঁচে যাওয়া এবং চঞ্চল শুরু থেকেই কারাবন্দি থেকে বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আয়ারল্যান্ড একত্রীকরণ নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য, ডাবলিনে তীব্র বিক্ষোভ

জুলাই আন্দোলনে নিরস্ত্রদের ওপর গুলির ঘটনায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:০০:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণ সম্পূর্ণ নিরস্ত্র থাকা সত্ত্বেও তাদের ওপর চরম নৃশংসতা চালানো হয়েছিল। তৎকালীন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমানের সরাসরি নির্দেশেই এই সর্বোচ্চ বলপ্রয়োগ করা হয়। রাজধানীর রামপুরা-বনশ্রী এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর ১৪৭ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ে এই পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে। বুধবার (১৫ জুলাই) ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর এস এম মইনুল করিম রায় প্রকাশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত ২৮ জুন বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল এই মামলার রায় ঘোষণা করেছিলেন।

পূর্ণাঙ্গ রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রামপুরা থানার তৎকালীন ওসি মো. মশিউর রহমানের নেতৃত্বে ওই এলাকায় নারকীয় তাণ্ডব চালানো হয় এবং ওসি মশিউর নিজেই ভুক্তভোগীদের ওপর সরাসরি গুলি চালিয়েছিলেন। অপরাধের ভয়াবহতা বিবেচনায় ট্রাইব্যুনাল মামলার তিন প্রধান আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম এবং রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান। এই তিন আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ওই দিন জুমার নামাজের পর বনশ্রী মসজিদের সামনে মো. নাদিম হোসেন এবং নিজের বাড়ির কলাপসিবল গেটের ভেতরে মায়া ইসলাম গুলিবিদ্ধ হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মায়া ইসলাম মারা যান এবং একই ঘটনায় তার ৭ বছর বয়সী নাতি বাসিত খান মুসা গুরুতর আহত হয়। এছাড়া একই দিন রামপুরায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা নিরপরাধ যুবক আমির হোসেনকে গুলি করার অপরাধে সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে যাবজ্জীবন এবং সাবেক এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে তারিকুল পলাতক রয়েছেন। আসামি চঞ্চল চন্দ্র সরকারের সাজা কমানোর বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল জানিয়েছে, ভুক্তভোগী আমির হোসেন প্রাণে বেঁচে যাওয়া এবং চঞ্চল শুরু থেকেই কারাবন্দি থেকে বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।