লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ড্রেসিংরুমের সতীর্থ যখন বিশ্বকাপে প্রতিপক্ষ

ফুটবলে একই ব্যক্তিকে কখনও ভাই, আবার কখনও প্রতিপক্ষ হতে হয়। যারা ক্লাব ফুটবলে প্রতিদিন একই জিমে ঘাম ঝরান বা একই অনুশীলনের মাঠে সময় কাটান, বিশ্বকাপের মঞ্চে একটি পতাকা তাদের মাঝখানে দেয়ালের মতো দাঁড়িয়ে যায়। সেই মুহূর্তে বন্ধুত্ব নয়, দেশই হয়ে ওঠে প্রধান পরিচয়।

আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের সেমিফাইনাল লড়াইটি ছিল এমনই কিছু বন্ধুত্বের পরীক্ষা। অ্যাস্টন ভিলার সতীর্থ এমিলিয়ানো মার্তিনেজ ও মরগান রজার্স প্রতিদিন ক্লাবে একসঙ্গে কাজ করেন, এমনকি ম্যাচ শেষে একই বিমানে ফেরেন। কিন্তু সেই রাতে আটলান্টায় রজার্স যখন ইংল্যান্ডের হয়ে আক্রমণ সাজাচ্ছিলেন, তখন মার্তিনেজ ছিলেন আর্জেন্টিনার শেষ প্রহরী। একজনের সাফল্য মানেই সেখানে অন্যজনের ব্যর্থতা।

একই চিত্র দেখা গেছে টটেনহ্যামের ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ও জেড স্পেন্সের ক্ষেত্রেও। ক্লাবে যারা একে অপরের ভুল ঢেকে দিয়ে লড়াই করেন, সেমিফাইনালে তারা পরিণত হয়েছিলেন কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবে। একইভাবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ও কোবি মাইনু ক্লাবের জয়সূচক হাসিতে অংশ নিলেও, বিশ্বকাপের রাতে একজন লড়েছেন আর্জেন্টিনার স্বপ্ন বাঁচাতে, অন্যজন ১৯৬৬ সালের পর ইংল্যান্ডকে ফাইনালে তুলতে।

বিশ্বকাপের ৯০ মিনিটের লড়াইয়ে আবেগের কোনো জায়গা নেই। একটি ভুল পাস বা এক সেকেন্ডের দ্বিধা চার বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটাতে পারে। তাই ৯০ মিনিটের জন্য তারা ভুলে যান ক্লাবের সতীর্থ হওয়ার স্মৃতি। তবে ম্যাচ শেষে ছবিটা আবার বদলে যায়। কয়েক সপ্তাহ পরই তারা আবার ক্লাবে ফিরবেন এবং একই ড্রেসিংরুমে বসবেন। হয়ত তখন হাসাহাসি করে একে অপরকে বলবেন, ‘সেদিন তোমাকে ছাড়িনি’ অথবা ‘পরেরবার আমিই জিতব’। ফুটবল তাদের আবার এক করে দেবে, কারণ ক্লাবের হয়ে ট্রফি জেতা গর্বের হলেও, দেশের হয়ে বিশ্বকাপ জেতা একজন ফুটবলারের জীবনের সবচেয়ে বড় আকাঙ্ক্ষা।

জনপ্রিয় সংবাদ

রিভার প্লেটের শতবর্ষী রেকর্ড ভেঙে বিশ্ব দরবারে আল নাসরের নতুন ইতিহাস

ড্রেসিংরুমের সতীর্থ যখন বিশ্বকাপে প্রতিপক্ষ

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:৩০:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

ফুটবলে একই ব্যক্তিকে কখনও ভাই, আবার কখনও প্রতিপক্ষ হতে হয়। যারা ক্লাব ফুটবলে প্রতিদিন একই জিমে ঘাম ঝরান বা একই অনুশীলনের মাঠে সময় কাটান, বিশ্বকাপের মঞ্চে একটি পতাকা তাদের মাঝখানে দেয়ালের মতো দাঁড়িয়ে যায়। সেই মুহূর্তে বন্ধুত্ব নয়, দেশই হয়ে ওঠে প্রধান পরিচয়।

আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের সেমিফাইনাল লড়াইটি ছিল এমনই কিছু বন্ধুত্বের পরীক্ষা। অ্যাস্টন ভিলার সতীর্থ এমিলিয়ানো মার্তিনেজ ও মরগান রজার্স প্রতিদিন ক্লাবে একসঙ্গে কাজ করেন, এমনকি ম্যাচ শেষে একই বিমানে ফেরেন। কিন্তু সেই রাতে আটলান্টায় রজার্স যখন ইংল্যান্ডের হয়ে আক্রমণ সাজাচ্ছিলেন, তখন মার্তিনেজ ছিলেন আর্জেন্টিনার শেষ প্রহরী। একজনের সাফল্য মানেই সেখানে অন্যজনের ব্যর্থতা।

একই চিত্র দেখা গেছে টটেনহ্যামের ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ও জেড স্পেন্সের ক্ষেত্রেও। ক্লাবে যারা একে অপরের ভুল ঢেকে দিয়ে লড়াই করেন, সেমিফাইনালে তারা পরিণত হয়েছিলেন কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবে। একইভাবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ও কোবি মাইনু ক্লাবের জয়সূচক হাসিতে অংশ নিলেও, বিশ্বকাপের রাতে একজন লড়েছেন আর্জেন্টিনার স্বপ্ন বাঁচাতে, অন্যজন ১৯৬৬ সালের পর ইংল্যান্ডকে ফাইনালে তুলতে।

বিশ্বকাপের ৯০ মিনিটের লড়াইয়ে আবেগের কোনো জায়গা নেই। একটি ভুল পাস বা এক সেকেন্ডের দ্বিধা চার বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটাতে পারে। তাই ৯০ মিনিটের জন্য তারা ভুলে যান ক্লাবের সতীর্থ হওয়ার স্মৃতি। তবে ম্যাচ শেষে ছবিটা আবার বদলে যায়। কয়েক সপ্তাহ পরই তারা আবার ক্লাবে ফিরবেন এবং একই ড্রেসিংরুমে বসবেন। হয়ত তখন হাসাহাসি করে একে অপরকে বলবেন, ‘সেদিন তোমাকে ছাড়িনি’ অথবা ‘পরেরবার আমিই জিতব’। ফুটবল তাদের আবার এক করে দেবে, কারণ ক্লাবের হয়ে ট্রফি জেতা গর্বের হলেও, দেশের হয়ে বিশ্বকাপ জেতা একজন ফুটবলারের জীবনের সবচেয়ে বড় আকাঙ্ক্ষা।