লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সঞ্চয়পত্রে ভুল অ্যাকাউন্ট এড়াতে চালু হলো ‘এভিএস’ পদ্ধতি

সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকদের ভুল ব্যাংক হিসাবের ভোগান্তি কমাতে আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) থেকে চালু হয়েছে ‘অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম’ (এভিএস)। অর্থ বিভাগ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ সকাল ১০:৪৬ মিনিটে এই নতুন ব্যবস্থা চালুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। নতুন এই প্রযুক্তির মাধ্যমে এখন থেকে সঞ্চয়পত্র বা বন্ড কেনার সময় গ্রাহকের দেওয়া ব্যাংক হিসাব নম্বরটি টাকা পাঠানোর আগেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই করা সম্ভব হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ এই আধুনিক ব্যবস্থাটি চালু করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট তফসিলি ব্যাংকগুলোর যৌথ সমন্বয়ে এই নতুন পদ্ধতি কার্যকর করা হচ্ছে। এটি অর্থ বিভাগের ‘স্ট্রেনদেনিং পাবলিক ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম টু এনাবল সার্ভিস ডেলিভারি (এসপিএফএমএস)’ কর্মসূচির একটি অংশ। বর্তমানে সরকারের ১১টি জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের মধ্যে ৯টির লেনদেনই ‘ন্যাশনাল সেভিংস স্কিম অনলাইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ বা এনএসসি সিস্টেমের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এনএসসি সিস্টেমে বর্তমানে নিবন্ধিত একক গ্রাহকের সংখ্যা ৩৯ লাখ ৪৬ হাজার ২২৪ জন। এই পদ্ধতিতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের (ইএফটি) মাধ্যমে গ্রাহকদের মুনাফা ও আসল টাকা পরিশোধ করা হয়। একই সাথে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৮ হাজার নতুন সঞ্চয়পত্র ইস্যু করা হয়ে থাকে। আগে থেকেই জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর যাচাইয়ের নিয়ম থাকলেও, এবার তার সাথে যুক্ত হলো ব্যাংক হিসাব নম্বর যাচাইয়ের এই বিশেষ সুবিধা।

পূর্বে গ্রাহকের দেওয়া ব্যাংক হিসাব নম্বরটি সরাসরি সিস্টেমে যুক্ত করা হতো। এতে কোনো একটি সংখ্যা ভুল হলে ইএফটি ফেরত আসত, যা সংশোধন করে পুনরায় টাকা পাঠাতে হতো। এই প্রক্রিয়ায় একদিকে যেমন বিনিয়োগকারীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হতো, অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর কাজের চাপও অনেক বেড়ে যেত। এমনকি ভুল নম্বরের কারণে একজনের টাকা অন্য ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে চলে যাওয়ার একটি বড় ঝুঁকিও থেকে যেত।

নতুন এই এভিএস পদ্ধতিতে ব্যাংক হিসাব নম্বর দেওয়ার সাথে সাথেই বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি অবকাঠামো এবং সংশ্লিষ্ট তফসিলি ব্যাংকের মাধ্যমে তা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা হবে। প্রথমে ব্যাংক অ্যাকাউন্টটি সঠিক ও সচল রয়েছে কিনা তা দেখা হবে। এরপর গ্রাহকের জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট নম্বরের সাথে মিলিয়ে হিসাবধারীর পরিচয় নিশ্চিত করা হবে। এর ফলে যেকোনো ভুল বা অসামঞ্জস্য লেনদেনের আগেই ধরা পড়বে। নতুন সঞ্চয়পত্র বা বন্ড কেনার পাশাপাশি পরবর্তীতে ব্যাংক হিসাব পরিবর্তন বা সংশোধনের ক্ষেত্রেও এই এভিএস প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।

অর্থ বিভাগ মনে করছে, জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের ডিজিটাল সেবাকে আধুনিক করার ক্ষেত্রে এভিএস একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এর ফলে সঞ্চয়পত্রের সামগ্রিক লেনদেন আরও নিরাপদ, স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠবে এবং গ্রাহকদের কষ্টার্জিত অর্থ কোনো ধরনের জটিলতা ছাড়াই দ্রুত ও সঠিক সময়ে তাদের নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে পৌঁছে যাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গুরুদাসপুরে ৯ জলাশয়ে ২৮৫ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত

সঞ্চয়পত্রে ভুল অ্যাকাউন্ট এড়াতে চালু হলো ‘এভিএস’ পদ্ধতি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:০৬:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকদের ভুল ব্যাংক হিসাবের ভোগান্তি কমাতে আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) থেকে চালু হয়েছে ‘অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম’ (এভিএস)। অর্থ বিভাগ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ সকাল ১০:৪৬ মিনিটে এই নতুন ব্যবস্থা চালুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। নতুন এই প্রযুক্তির মাধ্যমে এখন থেকে সঞ্চয়পত্র বা বন্ড কেনার সময় গ্রাহকের দেওয়া ব্যাংক হিসাব নম্বরটি টাকা পাঠানোর আগেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই করা সম্ভব হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ এই আধুনিক ব্যবস্থাটি চালু করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট তফসিলি ব্যাংকগুলোর যৌথ সমন্বয়ে এই নতুন পদ্ধতি কার্যকর করা হচ্ছে। এটি অর্থ বিভাগের ‘স্ট্রেনদেনিং পাবলিক ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম টু এনাবল সার্ভিস ডেলিভারি (এসপিএফএমএস)’ কর্মসূচির একটি অংশ। বর্তমানে সরকারের ১১টি জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের মধ্যে ৯টির লেনদেনই ‘ন্যাশনাল সেভিংস স্কিম অনলাইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ বা এনএসসি সিস্টেমের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এনএসসি সিস্টেমে বর্তমানে নিবন্ধিত একক গ্রাহকের সংখ্যা ৩৯ লাখ ৪৬ হাজার ২২৪ জন। এই পদ্ধতিতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের (ইএফটি) মাধ্যমে গ্রাহকদের মুনাফা ও আসল টাকা পরিশোধ করা হয়। একই সাথে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৮ হাজার নতুন সঞ্চয়পত্র ইস্যু করা হয়ে থাকে। আগে থেকেই জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর যাচাইয়ের নিয়ম থাকলেও, এবার তার সাথে যুক্ত হলো ব্যাংক হিসাব নম্বর যাচাইয়ের এই বিশেষ সুবিধা।

পূর্বে গ্রাহকের দেওয়া ব্যাংক হিসাব নম্বরটি সরাসরি সিস্টেমে যুক্ত করা হতো। এতে কোনো একটি সংখ্যা ভুল হলে ইএফটি ফেরত আসত, যা সংশোধন করে পুনরায় টাকা পাঠাতে হতো। এই প্রক্রিয়ায় একদিকে যেমন বিনিয়োগকারীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হতো, অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর কাজের চাপও অনেক বেড়ে যেত। এমনকি ভুল নম্বরের কারণে একজনের টাকা অন্য ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে চলে যাওয়ার একটি বড় ঝুঁকিও থেকে যেত।

নতুন এই এভিএস পদ্ধতিতে ব্যাংক হিসাব নম্বর দেওয়ার সাথে সাথেই বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি অবকাঠামো এবং সংশ্লিষ্ট তফসিলি ব্যাংকের মাধ্যমে তা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা হবে। প্রথমে ব্যাংক অ্যাকাউন্টটি সঠিক ও সচল রয়েছে কিনা তা দেখা হবে। এরপর গ্রাহকের জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট নম্বরের সাথে মিলিয়ে হিসাবধারীর পরিচয় নিশ্চিত করা হবে। এর ফলে যেকোনো ভুল বা অসামঞ্জস্য লেনদেনের আগেই ধরা পড়বে। নতুন সঞ্চয়পত্র বা বন্ড কেনার পাশাপাশি পরবর্তীতে ব্যাংক হিসাব পরিবর্তন বা সংশোধনের ক্ষেত্রেও এই এভিএস প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।

অর্থ বিভাগ মনে করছে, জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের ডিজিটাল সেবাকে আধুনিক করার ক্ষেত্রে এভিএস একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এর ফলে সঞ্চয়পত্রের সামগ্রিক লেনদেন আরও নিরাপদ, স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠবে এবং গ্রাহকদের কষ্টার্জিত অর্থ কোনো ধরনের জটিলতা ছাড়াই দ্রুত ও সঠিক সময়ে তাদের নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে পৌঁছে যাবে।