লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আনোয়ারায় চীনা শিল্পাঞ্চলে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ ও লাখো কর্মসংস্থানের আশা

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ৭৮৩ একর জমির ওপর গড়ে উঠতে যাচ্ছে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল। ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে অত্যন্ত সুবিধাজনক এই শিল্পাঞ্চলটি উত্তর দিকে চট্টগ্রাম বন্দর, সামনে কর্ণফুলী টানেল ও শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং দক্ষিণে নির্মাণাধীন মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের সংযোগস্থলে অবস্থিত। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) প্রাক্কলন অনুযায়ী, এই প্রকল্পে প্রায় ১৩০ কোটি মার্কিন ডলার বা প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ আসতে পারে। প্রকল্পটির মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এক লাখেরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শিল্পাঞ্চলটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে গত সোমবার এর নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছে। প্রকল্পের অবকাঠামো নির্মাণের কাজ ২০৩১ সালের ডিসেম্বর নাগাদ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে এর নির্ধারিত বাস্তবায়নকাল শুরু হবে। প্রকল্পের আওতায় ২০ হাজার ডেডওয়েট টন সক্ষমতার জাহাজ ভেড়ানোর বহুমুখী জেটি, ১ হাজার ২৩৫ মিটার দীর্ঘ জেটি সংযোগ সড়ক, একটি সেতু এবং চার লেনের সড়ক নির্মাণ করা হবে। এছাড়া প্রতিদিন ২ কোটি ৫০ লাখ লিটার তরল বর্জ্য শোধনক্ষম কেন্দ্রীয় শোধনাগার (সিইটিপি), গ্যাস সঞ্চালন লাইন, দুটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র এবং প্রয়োজনীয় পানি ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অবকাঠামো তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

দীর্ঘ এক দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এই প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখছে। ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের ঢাকা সফরের সময় এ বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল। ডেভেলপার নির্বাচন ও চুক্তির জটিলতায় দীর্ঘ সময় আটকে থাকার পর ২০২২ সালে চীন সরকার চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনকে (সিআরবিসি) ডেভেলপার হিসেবে মনোনীত করে। গত জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের সময় বেজা ও সিআরবিসির মধ্যে ডেভেলপার চুক্তি বিনিময় হয়। এর আগে ১৬ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ৪ হাজার ১৮৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকার সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন করে, যার মধ্যে সরকার ১ হাজার ৭২২ কোটি টাকা এবং বাকি ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা বিদেশি ঋণ হিসেবে জোগান দেওয়া হবে।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আনোয়ারার এই শিল্পাঞ্চলে শেষ পর্যন্ত ১০০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ হবে এবং এর প্রভাব পুরো দক্ষিণ চট্টগ্রামের অর্থনীতিতে পড়বে। চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি আমিরুল হক মনে করেন, বন্দরের কাছাকাছি অবস্থান এই শিল্পাঞ্চলের সবচেয়ে বড় শক্তি। তবে এর সাফল্যের জন্য নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো অবকাঠামোগত সেবা দ্রুত নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি পরামর্শ দেন, শুরুতে এমন শিল্প স্থাপনে উৎসাহ দেওয়া উচিত যেগুলোর জন্য গ্যাসের প্রয়োজন নেই। একই সঙ্গে মাতারবাড়ী বন্দর ও টানেলকে ঘিরে গড়ে ওঠা শিল্প করিডরে এই শিল্পাঞ্চলটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

কর্ণফুলী টানেল চালু হওয়ার পর মিরসরাই থেকে আনোয়ারা হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত উপকূলীয় শিল্প করিডরের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আনোয়ারা থেকে চন্দনাইশ পর্যন্ত সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ এবং কালাবিবির দিঘি থেকে বাঁশখালী ও পেকুয়া হয়ে মাতামুহুরী পর্যন্ত ৫৮ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রশস্ত করার প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে এই শিল্পাঞ্চলটি সরাসরি বন্দর ও লজিস্টিক নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত হবে। যদিও শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে উৎপাদন শুরু হতে আরও কয়েক বছর সময় লাগবে, তবে এটি দক্ষিণ চট্টগ্রামের পুরো অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া নিজস্ব বহুমুখী জেটি থাকায় সব পণ্যের জন্য সড়কের ওপর নির্ভর করতে হবে না, যা টানেলের ব্যবহার বাড়াতেও সহায়ক হবে।

থাকবে ১ হাজার ২৩৫ মিটার দীর্ঘ জেটি সংযোগ সড়ক, একটি সেতু এবং ১ হাজার ১৮১ মিটার দীর্ঘ চার লেনের সড়ক।শিল্পকারখানার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় প্রতিদিন ২ কোটি ৫০ লাখ লিটার তরল বর্জ্য শোধনক্ষম কেন্দ্রীয় শোধনাগার (সিইটিপি) নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

সে অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে শিল্পাঞ্চলের বড় একটি অংশে কারখানা নির্মাণের সুযোগ তৈরি হওয়ার কথা।.শিল্প করিডরে নতুন কেন্দ্রকর্ণফুলী টানেল চালুর পর মিরসরাই থেকে আনোয়ারা হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকায় নতুন শিল্প করিডর গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সিংড়ায় দুই কিলোমিটার সড়কে ১ হাজার গাছের চারা রোপণ

আনোয়ারায় চীনা শিল্পাঞ্চলে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ ও লাখো কর্মসংস্থানের আশা

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৪৩:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ৭৮৩ একর জমির ওপর গড়ে উঠতে যাচ্ছে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল। ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে অত্যন্ত সুবিধাজনক এই শিল্পাঞ্চলটি উত্তর দিকে চট্টগ্রাম বন্দর, সামনে কর্ণফুলী টানেল ও শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং দক্ষিণে নির্মাণাধীন মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের সংযোগস্থলে অবস্থিত। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) প্রাক্কলন অনুযায়ী, এই প্রকল্পে প্রায় ১৩০ কোটি মার্কিন ডলার বা প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ আসতে পারে। প্রকল্পটির মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এক লাখেরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শিল্পাঞ্চলটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে গত সোমবার এর নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছে। প্রকল্পের অবকাঠামো নির্মাণের কাজ ২০৩১ সালের ডিসেম্বর নাগাদ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে এর নির্ধারিত বাস্তবায়নকাল শুরু হবে। প্রকল্পের আওতায় ২০ হাজার ডেডওয়েট টন সক্ষমতার জাহাজ ভেড়ানোর বহুমুখী জেটি, ১ হাজার ২৩৫ মিটার দীর্ঘ জেটি সংযোগ সড়ক, একটি সেতু এবং চার লেনের সড়ক নির্মাণ করা হবে। এছাড়া প্রতিদিন ২ কোটি ৫০ লাখ লিটার তরল বর্জ্য শোধনক্ষম কেন্দ্রীয় শোধনাগার (সিইটিপি), গ্যাস সঞ্চালন লাইন, দুটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র এবং প্রয়োজনীয় পানি ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অবকাঠামো তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

দীর্ঘ এক দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এই প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখছে। ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের ঢাকা সফরের সময় এ বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল। ডেভেলপার নির্বাচন ও চুক্তির জটিলতায় দীর্ঘ সময় আটকে থাকার পর ২০২২ সালে চীন সরকার চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনকে (সিআরবিসি) ডেভেলপার হিসেবে মনোনীত করে। গত জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের সময় বেজা ও সিআরবিসির মধ্যে ডেভেলপার চুক্তি বিনিময় হয়। এর আগে ১৬ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ৪ হাজার ১৮৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকার সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন করে, যার মধ্যে সরকার ১ হাজার ৭২২ কোটি টাকা এবং বাকি ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা বিদেশি ঋণ হিসেবে জোগান দেওয়া হবে।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আনোয়ারার এই শিল্পাঞ্চলে শেষ পর্যন্ত ১০০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ হবে এবং এর প্রভাব পুরো দক্ষিণ চট্টগ্রামের অর্থনীতিতে পড়বে। চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি আমিরুল হক মনে করেন, বন্দরের কাছাকাছি অবস্থান এই শিল্পাঞ্চলের সবচেয়ে বড় শক্তি। তবে এর সাফল্যের জন্য নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো অবকাঠামোগত সেবা দ্রুত নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি পরামর্শ দেন, শুরুতে এমন শিল্প স্থাপনে উৎসাহ দেওয়া উচিত যেগুলোর জন্য গ্যাসের প্রয়োজন নেই। একই সঙ্গে মাতারবাড়ী বন্দর ও টানেলকে ঘিরে গড়ে ওঠা শিল্প করিডরে এই শিল্পাঞ্চলটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

কর্ণফুলী টানেল চালু হওয়ার পর মিরসরাই থেকে আনোয়ারা হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত উপকূলীয় শিল্প করিডরের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আনোয়ারা থেকে চন্দনাইশ পর্যন্ত সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ এবং কালাবিবির দিঘি থেকে বাঁশখালী ও পেকুয়া হয়ে মাতামুহুরী পর্যন্ত ৫৮ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রশস্ত করার প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে এই শিল্পাঞ্চলটি সরাসরি বন্দর ও লজিস্টিক নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত হবে। যদিও শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে উৎপাদন শুরু হতে আরও কয়েক বছর সময় লাগবে, তবে এটি দক্ষিণ চট্টগ্রামের পুরো অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া নিজস্ব বহুমুখী জেটি থাকায় সব পণ্যের জন্য সড়কের ওপর নির্ভর করতে হবে না, যা টানেলের ব্যবহার বাড়াতেও সহায়ক হবে।

থাকবে ১ হাজার ২৩৫ মিটার দীর্ঘ জেটি সংযোগ সড়ক, একটি সেতু এবং ১ হাজার ১৮১ মিটার দীর্ঘ চার লেনের সড়ক।শিল্পকারখানার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় প্রতিদিন ২ কোটি ৫০ লাখ লিটার তরল বর্জ্য শোধনক্ষম কেন্দ্রীয় শোধনাগার (সিইটিপি) নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

সে অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে শিল্পাঞ্চলের বড় একটি অংশে কারখানা নির্মাণের সুযোগ তৈরি হওয়ার কথা।.শিল্প করিডরে নতুন কেন্দ্রকর্ণফুলী টানেল চালুর পর মিরসরাই থেকে আনোয়ারা হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকায় নতুন শিল্প করিডর গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।