লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকায় মেট্রোরেল ও আশুলিয়ায় বিস্ফোরক উদ্ধার: নেপথ্যে কারা?

কয়েকদিনের ব্যবধানে ঢাকার মতিঝিল, মিরপুর-১০ ও ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশন এবং সাভারের আশুলিয়ায় বোমাসদৃশ বস্তু ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে মতিঝিল ও আশুলিয়ার ঘটনায় প্রকৃত ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) উদ্ধারের বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিশ্চিত করেছে। তবে মিরপুর-১০ ও ফার্মগেটে পাওয়া সন্দেহজনক বস্তু পরীক্ষা করে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি। এসব ঘটনার পর এগুলো কি বিচ্ছিন্ন ঘটনা, নাকি পরিকল্পিতভাবে আতঙ্ক ছড়ানোর অপচেষ্টা—সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে।

কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শামসুল হক জানিয়েছেন, মতিঝিল ও আশুলিয়ার ঘটনায় এখনো কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। সিটিটিসিসহ পুলিশের একাধিক টিম তদন্ত চালাচ্ছে এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি আরও জানান, যে কোনো নাশকতা মোকাবিলায় সিটিটিসি সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে এবং উগ্রবাদী ও সন্ত্রাসী সংগঠনের কার্যক্রম গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতে, দুষ্কৃতিকারীরা মূলত জনমনে ভীতি ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৪ জুলাই মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পরিত্যক্ত ছাতার ভেতর থেকে ১ থেকে ১.৫ কেজি ওজনের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পাইপ বোমা উদ্ধার করে ডিএমপির বোম ডিসপোজাল ইউনিট। নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের সময় এক পথচারী আহত হন। এর ছয়দিন পর ৩০ জুলাই রাতে সাভারের আশুলিয়ায় একটি মুদি দোকানের ট্রাভেল ব্যাগে টাইমারযুক্ত আইইডি পাওয়া যায়। অন্যদিকে, শনিবার সকালে মিরপুর-১০ ও ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনে পাওয়া বোমাসদৃশ বস্তু পরীক্ষা করে দেখা যায়, মিরপুরেরটি ছিল পান-সুপারির কৌটা এবং ফার্মগেটেরটি ছিল পরিত্যক্ত আবর্জনা।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশুলিয়ায় উদ্ধার হওয়া আইইডির নির্মাণকৌশল ও আলামত বিশ্লেষণ করছেন। সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তিগত তথ্যের পাশাপাশি সন্দেহভাজনদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সিটিটিসির এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে কিছু ব্যক্তি ঘরে বসেই আইইডি তৈরির সক্ষমতা অর্জন করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে সাভার ও কেরানীগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের কেউ কেউ বিদেশে বিস্ফোরক তৈরির প্রশিক্ষণ নিয়েছিল।

নিরাপত্তা সংস্থাগুলো পাকিস্তানভিত্তিক তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) ও লস্কর-ই-তৈয়বার (এলইটি) সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে গ্রেফতার ব্যক্তিদের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও এনক্রিপটেড অ্যাপের মাধ্যমে সদস্য সংগ্রহ ও মতাদর্শ প্রচারের ফলে ‘স্লিপার সেল’ এখন নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হকের মতে, জঙ্গিবাদ এখন প্রযুক্তিনির্ভর এবং এটি মোকাবিলায় পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় নেতৃত্বের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম এবং র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এমজেডএম ইন্তেখাব চৌধুরী জানিয়েছেন, বড় কোনো হামলার সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকলেও সম্ভাব্য নাশকতা ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারি ও সাইবার মনিটরিং সার্বক্ষণিক চালু রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা

ঢাকায় মেট্রোরেল ও আশুলিয়ায় বিস্ফোরক উদ্ধার: নেপথ্যে কারা?

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:০০:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

কয়েকদিনের ব্যবধানে ঢাকার মতিঝিল, মিরপুর-১০ ও ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশন এবং সাভারের আশুলিয়ায় বোমাসদৃশ বস্তু ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে মতিঝিল ও আশুলিয়ার ঘটনায় প্রকৃত ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) উদ্ধারের বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিশ্চিত করেছে। তবে মিরপুর-১০ ও ফার্মগেটে পাওয়া সন্দেহজনক বস্তু পরীক্ষা করে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি। এসব ঘটনার পর এগুলো কি বিচ্ছিন্ন ঘটনা, নাকি পরিকল্পিতভাবে আতঙ্ক ছড়ানোর অপচেষ্টা—সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে।

কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শামসুল হক জানিয়েছেন, মতিঝিল ও আশুলিয়ার ঘটনায় এখনো কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। সিটিটিসিসহ পুলিশের একাধিক টিম তদন্ত চালাচ্ছে এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি আরও জানান, যে কোনো নাশকতা মোকাবিলায় সিটিটিসি সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে এবং উগ্রবাদী ও সন্ত্রাসী সংগঠনের কার্যক্রম গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতে, দুষ্কৃতিকারীরা মূলত জনমনে ভীতি ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৪ জুলাই মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পরিত্যক্ত ছাতার ভেতর থেকে ১ থেকে ১.৫ কেজি ওজনের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পাইপ বোমা উদ্ধার করে ডিএমপির বোম ডিসপোজাল ইউনিট। নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের সময় এক পথচারী আহত হন। এর ছয়দিন পর ৩০ জুলাই রাতে সাভারের আশুলিয়ায় একটি মুদি দোকানের ট্রাভেল ব্যাগে টাইমারযুক্ত আইইডি পাওয়া যায়। অন্যদিকে, শনিবার সকালে মিরপুর-১০ ও ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনে পাওয়া বোমাসদৃশ বস্তু পরীক্ষা করে দেখা যায়, মিরপুরেরটি ছিল পান-সুপারির কৌটা এবং ফার্মগেটেরটি ছিল পরিত্যক্ত আবর্জনা।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশুলিয়ায় উদ্ধার হওয়া আইইডির নির্মাণকৌশল ও আলামত বিশ্লেষণ করছেন। সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তিগত তথ্যের পাশাপাশি সন্দেহভাজনদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সিটিটিসির এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে কিছু ব্যক্তি ঘরে বসেই আইইডি তৈরির সক্ষমতা অর্জন করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে সাভার ও কেরানীগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের কেউ কেউ বিদেশে বিস্ফোরক তৈরির প্রশিক্ষণ নিয়েছিল।

নিরাপত্তা সংস্থাগুলো পাকিস্তানভিত্তিক তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) ও লস্কর-ই-তৈয়বার (এলইটি) সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে গ্রেফতার ব্যক্তিদের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও এনক্রিপটেড অ্যাপের মাধ্যমে সদস্য সংগ্রহ ও মতাদর্শ প্রচারের ফলে ‘স্লিপার সেল’ এখন নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হকের মতে, জঙ্গিবাদ এখন প্রযুক্তিনির্ভর এবং এটি মোকাবিলায় পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় নেতৃত্বের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম এবং র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এমজেডএম ইন্তেখাব চৌধুরী জানিয়েছেন, বড় কোনো হামলার সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকলেও সম্ভাব্য নাশকতা ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারি ও সাইবার মনিটরিং সার্বক্ষণিক চালু রয়েছে।