লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৪:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরিশালে বাস ও থ্রি-হুইলার চালকদের পাল্টাপাল্টি ধর্মঘট, চরম ভোগান্তি

বরিশাল ও এর পার্শ্ববর্তী অভ্যন্তরীণ রুটগুলোতে বাস চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের রহমতপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বাস মালিক-শ্রমিক এবং থ্রি-হুইলার (ইজিবাইক ও মাহিন্দ্রা) চালকদের মধ্যে চলমান বিরোধের জেরে এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে থ্রি-হুইলার চালকেরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এই পাল্টাপাল্টি আন্দোলনের কারণে নথুল্লাবাদসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ছেড়ে আসা অভ্যন্তরীণ রুটের বাসগুলোকে আটকে দিয়ে ঘুরিয়ে দেন থ্রি-হুইলার চালকেরা। দুই পক্ষের এমন মুখোমুখি অবস্থানের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিক্ষার্থী, অফিসগামী যাত্রী এবং জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া ব্যক্তিরা।

আন্দোলনরত থ্রি-হুইলার চালকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নথুল্লাবাদ টার্মিনালসহ বিভিন্ন পয়েন্টে যাত্রী তুলতে গেলে বাস মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের কর্মীরা তাদের ওপর চড়াও হন। আব্দুল্লাহ মামুন নামে এক মাহিন্দ্রা চালক বলেন, "নথুল্লাবাদে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী তুলতে গেলেই বাসের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে গাড়ি ভাঙচুর করে এবং চালকদের ভয়ভীতি দেখায়। আমরা পেটের দায়ে গাড়ি চালাই। এই হয়রানির স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আমরা সড়ক ছাড়ব না।"

নুর আলম নামে অপর এক চালক জানান, গত সোমবার দুপুর থেকেই মহাসড়কে থ্রি-হুইলার বন্ধের দাবিতে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ করে দেন বাস মালিকেরা। মূলত বানারীপাড়া রুটের শিমুলতলায় বাস ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই বিরোধ আরও তীব্র আকার ধারণ করে, যার জেরে মঙ্গলবার পাল্টা আন্দোলনে নামেন থ্রি-হুইলার চালকেরা।

অন্যদিকে, মহাসড়কে অননুমোদিত থ্রি-হুইলার চলাচলকে দুর্ঘটনা ও আর্থিক ক্ষতির প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বাস মালিকেরা। বরিশাল বাস মালিক সমিতির সভাপতি মোশারফ হোসেন বলেন, "আমরা সরকারকে নিয়মিত রাজস্ব দিয়ে বাস চালাই। কিন্তু মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার চলায় একদিকে যেমন ভয়াবহ দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে বাস মালিকেরা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। একাধিক বৈঠকে লিখিত সিদ্ধান্ত হলেও থ্রি-হুইলার চালকেরা তা মানছেন না। তারা বাসের কাউন্টারের সামনে এসে যাত্রী ছিনিয়ে নেন এবং প্রতিবাদ করলে স্টাফদের ওপর চড়াও হন।"

তিনি আরও জানান, সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে বারবার জানিয়েও কোনো প্রতিকার না পেয়ে বাধ্য হয়ে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে প্রমোদতরি ভেঙে নিখোঁজ নিউজিল্যান্ডের কিশোর, চলছে উদ্ধার অভিযান

বরিশালে বাস ও থ্রি-হুইলার চালকদের পাল্টাপাল্টি ধর্মঘট, চরম ভোগান্তি

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:১৮:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

বরিশাল ও এর পার্শ্ববর্তী অভ্যন্তরীণ রুটগুলোতে বাস চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের রহমতপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বাস মালিক-শ্রমিক এবং থ্রি-হুইলার (ইজিবাইক ও মাহিন্দ্রা) চালকদের মধ্যে চলমান বিরোধের জেরে এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে থ্রি-হুইলার চালকেরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এই পাল্টাপাল্টি আন্দোলনের কারণে নথুল্লাবাদসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ছেড়ে আসা অভ্যন্তরীণ রুটের বাসগুলোকে আটকে দিয়ে ঘুরিয়ে দেন থ্রি-হুইলার চালকেরা। দুই পক্ষের এমন মুখোমুখি অবস্থানের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিক্ষার্থী, অফিসগামী যাত্রী এবং জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া ব্যক্তিরা।

আন্দোলনরত থ্রি-হুইলার চালকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নথুল্লাবাদ টার্মিনালসহ বিভিন্ন পয়েন্টে যাত্রী তুলতে গেলে বাস মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের কর্মীরা তাদের ওপর চড়াও হন। আব্দুল্লাহ মামুন নামে এক মাহিন্দ্রা চালক বলেন, "নথুল্লাবাদে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী তুলতে গেলেই বাসের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে গাড়ি ভাঙচুর করে এবং চালকদের ভয়ভীতি দেখায়। আমরা পেটের দায়ে গাড়ি চালাই। এই হয়রানির স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আমরা সড়ক ছাড়ব না।"

নুর আলম নামে অপর এক চালক জানান, গত সোমবার দুপুর থেকেই মহাসড়কে থ্রি-হুইলার বন্ধের দাবিতে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ করে দেন বাস মালিকেরা। মূলত বানারীপাড়া রুটের শিমুলতলায় বাস ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই বিরোধ আরও তীব্র আকার ধারণ করে, যার জেরে মঙ্গলবার পাল্টা আন্দোলনে নামেন থ্রি-হুইলার চালকেরা।

অন্যদিকে, মহাসড়কে অননুমোদিত থ্রি-হুইলার চলাচলকে দুর্ঘটনা ও আর্থিক ক্ষতির প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বাস মালিকেরা। বরিশাল বাস মালিক সমিতির সভাপতি মোশারফ হোসেন বলেন, "আমরা সরকারকে নিয়মিত রাজস্ব দিয়ে বাস চালাই। কিন্তু মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার চলায় একদিকে যেমন ভয়াবহ দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে বাস মালিকেরা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। একাধিক বৈঠকে লিখিত সিদ্ধান্ত হলেও থ্রি-হুইলার চালকেরা তা মানছেন না। তারা বাসের কাউন্টারের সামনে এসে যাত্রী ছিনিয়ে নেন এবং প্রতিবাদ করলে স্টাফদের ওপর চড়াও হন।"

তিনি আরও জানান, সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে বারবার জানিয়েও কোনো প্রতিকার না পেয়ে বাধ্য হয়ে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।