লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৪:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তৃণমূল পুনর্গঠনে মনোযোগ বাড়িয়ে ফেরার পথে আওয়ামী লীগ

গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে আওয়ামী লীগ। ফেরার এই চেষ্টায় দলটি সাংগঠনিকভাবে তৃণমূল নেতাদের সক্রিয় করা, বিচ্ছিন্নভাবে রাজপথে কর্মসূচি চালানো এবং অনলাইনে সরকারের বিরুদ্ধে ও ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে প্রচার জোরদার করতে চাইছে। দলের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক সচল রাখার কৌশল হিসেবে তৃণমূল পর্যায়ে নতুন কমিটি গঠন ও দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের কাজ জোরদার করেছে দলটি। বিশেষ করে থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে এই তৎপরতা বেশি দেখা যাচ্ছে।

দলীয় সূত্র জানায়, অন্তত ১৭টি জেলায় উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে নতুন কমিটি গঠন বা দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে অনেক কমিটি ভার্চ্যুয়ালি অনুমোদন বা অনলাইনে ঘোষণা করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে পুরোনো কমিটি বিলুপ্ত করে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে, আবার কোথাও ‘সমন্বয়কারী’ বা ‘দায়িত্বপ্রাপ্ত’ পরিচয়ে নেতৃত্ব দেওয়া হয়েছে। জুলাইয়ের শুরুতে ঢাকা মহানগর উত্তরের মোহাম্মদপুর, শেরেবাংলা নগর, আদাবর ও কাফরুল থানার আহ্বায়ক কমিটি এবং ২৩টি ওয়ার্ডে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া তিতুমীর কলেজ ছাত্রলীগ, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের কমিটিও নতুন করে সাজানো হয়েছে। ১২ জুলাই পাবনা জেলা ছাত্রলীগের পুরোনো কমিটি ভেঙে দিয়ে তিন মাসের জন্য নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।

ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বিদেশে থেকেও ভার্চ্যুয়াল প্ল্যাটফর্মে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান এবং এখনো সেখানেই রয়েছেন। তৃণমূলের অনেক নেতা এখন সরাসরি শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত হতে পারছেন, যা দলের প্রচলিত সাংগঠনিক স্তরকে কিছুটা দুর্বল করেছে বলে দলের ভেতরেই অস্বস্তি রয়েছে। নতুন কমিটিতে নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে মূলত চারটি বিষয় দেখা হচ্ছে: কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়া সক্রিয় নেতা, স্থানীয় বিএনপি বা জামায়াত নেতাদের সঙ্গে সখ্য থাকা ব্যক্তি, এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং অর্থের জোগান দেওয়ার সক্ষমতা।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে জাহাঙ্গীর কবির নানক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও মির্জা আজম নতুন কমিটি গঠনে প্রভাব রাখছেন। দলটির দাবি, বর্তমান কৌশল মূলত অস্তিত্ব রক্ষা এবং অনুকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্য অপেক্ষা করা। শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার এবং বিচারের মুখোমুখি হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, যা তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের উজ্জীবিত করতে ব্যবহৃত হচ্ছে।

তবে কেন্দ্রীয় কমিটি অপরিবর্তিত রেখে তৃণমূল পুনর্গঠনের এই কৌশল নিয়ে দলের ভেতরেই সংশয় রয়েছে। সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল পদে থাকা প্রায় তিন শতাধিক নেতা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন, আবার অনেকে আত্মগোপনে বা বিদেশে অবস্থান করছেন। রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সংস্কারের পথে না হেঁটে কেবল কমিটি পুনর্বিন্যাস করে জন-আস্থা ফেরা সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

শীঘ্রই বাংলাদেশ সফরে আসছেন মার্কিন বিনিয়োগকারীরা: সার্জিও গোর

তৃণমূল পুনর্গঠনে মনোযোগ বাড়িয়ে ফেরার পথে আওয়ামী লীগ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:৩৫:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে আওয়ামী লীগ। ফেরার এই চেষ্টায় দলটি সাংগঠনিকভাবে তৃণমূল নেতাদের সক্রিয় করা, বিচ্ছিন্নভাবে রাজপথে কর্মসূচি চালানো এবং অনলাইনে সরকারের বিরুদ্ধে ও ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে প্রচার জোরদার করতে চাইছে। দলের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক সচল রাখার কৌশল হিসেবে তৃণমূল পর্যায়ে নতুন কমিটি গঠন ও দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের কাজ জোরদার করেছে দলটি। বিশেষ করে থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে এই তৎপরতা বেশি দেখা যাচ্ছে।

দলীয় সূত্র জানায়, অন্তত ১৭টি জেলায় উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে নতুন কমিটি গঠন বা দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে অনেক কমিটি ভার্চ্যুয়ালি অনুমোদন বা অনলাইনে ঘোষণা করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে পুরোনো কমিটি বিলুপ্ত করে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে, আবার কোথাও ‘সমন্বয়কারী’ বা ‘দায়িত্বপ্রাপ্ত’ পরিচয়ে নেতৃত্ব দেওয়া হয়েছে। জুলাইয়ের শুরুতে ঢাকা মহানগর উত্তরের মোহাম্মদপুর, শেরেবাংলা নগর, আদাবর ও কাফরুল থানার আহ্বায়ক কমিটি এবং ২৩টি ওয়ার্ডে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া তিতুমীর কলেজ ছাত্রলীগ, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের কমিটিও নতুন করে সাজানো হয়েছে। ১২ জুলাই পাবনা জেলা ছাত্রলীগের পুরোনো কমিটি ভেঙে দিয়ে তিন মাসের জন্য নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।

ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বিদেশে থেকেও ভার্চ্যুয়াল প্ল্যাটফর্মে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান এবং এখনো সেখানেই রয়েছেন। তৃণমূলের অনেক নেতা এখন সরাসরি শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত হতে পারছেন, যা দলের প্রচলিত সাংগঠনিক স্তরকে কিছুটা দুর্বল করেছে বলে দলের ভেতরেই অস্বস্তি রয়েছে। নতুন কমিটিতে নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে মূলত চারটি বিষয় দেখা হচ্ছে: কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়া সক্রিয় নেতা, স্থানীয় বিএনপি বা জামায়াত নেতাদের সঙ্গে সখ্য থাকা ব্যক্তি, এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং অর্থের জোগান দেওয়ার সক্ষমতা।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে জাহাঙ্গীর কবির নানক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও মির্জা আজম নতুন কমিটি গঠনে প্রভাব রাখছেন। দলটির দাবি, বর্তমান কৌশল মূলত অস্তিত্ব রক্ষা এবং অনুকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্য অপেক্ষা করা। শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার এবং বিচারের মুখোমুখি হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, যা তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের উজ্জীবিত করতে ব্যবহৃত হচ্ছে।

তবে কেন্দ্রীয় কমিটি অপরিবর্তিত রেখে তৃণমূল পুনর্গঠনের এই কৌশল নিয়ে দলের ভেতরেই সংশয় রয়েছে। সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল পদে থাকা প্রায় তিন শতাধিক নেতা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন, আবার অনেকে আত্মগোপনে বা বিদেশে অবস্থান করছেন। রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সংস্কারের পথে না হেঁটে কেবল কমিটি পুনর্বিন্যাস করে জন-আস্থা ফেরা সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।