লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দৌলতপুরে পরীক্ষার্থী বহিষ্কারের পর স্কুলের পেছনে ককটেল বিস্ফোরণ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসির নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষা চলাকালে নকলে বাধা ও শিক্ষার্থী বহিষ্কারকে কেন্দ্র করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার বেলা তিনটার দিকে ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষার্থী বহিষ্কারের পরপরই বিদ্যালয় ভবনের ঠিক পেছনের সড়কে পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। খবর পেয়ে পাশের পুলিশ ক্যাম্প থেকে সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে একটি নিবন্ধনহীন মোটরসাইকেল জব্দ করেন।

পুলিশ জানায়, পরীক্ষার হল পরিদর্শনের সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আসাদুজ্জামান পাঁচ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মুঠোফোন জব্দ করেন। পরে কক্ষে দায়িত্বরত শিক্ষক এক পরীক্ষার্থীকে মুঠোফোন দেখে উত্তর লিখতে দেখে তাকে বহিষ্কার করেন। বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে তার কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নেয়। এর কিছুক্ষণ পরই বিদ্যালয়ের ভবনের পেছনের সড়কে বিকট শব্দে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় শিক্ষক ও পরীক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক দেখা দেয়।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা নিবন্ধনহীন মোটরসাইকেলটি স্থানীয় জামায়াত নেতা মুহাম্মদ খাজা আহমেদের। তাঁকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে স্কুল কর্তৃপক্ষ দৌলতপুর থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা করবে বলে জানা গেছে।

মোটরসাইকেলের মালিক মুহাম্মদ খাজা আহমেদ কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি এবং ফিলিপনগর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জামায়াত মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ফিলিপনগর এলাকায় একটি দরবারে হামলা চালিয়ে পীর আবদুর রহমান ওরফে শামীমকে হত্যা করার মামলার প্রধান আসামিও তিনি।

ঘটনার বিষয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কথা বললে খাজা আহমেদ দাবি করেন, তাঁর এক ভাই ও বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী সার্বক্ষণিক তাঁর সঙ্গেই থাকে এবং দুজনই এবার পরীক্ষা দিচ্ছে। পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় তাঁর ভাই মোটরসাইকেলটি নিয়ে গিয়েছিল। পরে জানতে পারেন, বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে সেটি নিয়ে গেছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ঘটনাটি বড় করে দেখা হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, ঈদের সময় ফোটানো পটকার মতো সামান্য কিছু একটা ফুটানো হয়েছে। আগামী ইউপি নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আসাদুজ্জামান জানান, বিস্ফোরণের সময় তিনি নিজের কক্ষে ছিলেন। পরীক্ষার শুরুতে শিক্ষার্থীদের মুঠোফোন জমা দিতে বলা হয়েছিল, যা কয়েকজন জমাও দিয়েছিল। এক শিক্ষার্থী মুঠোফোন দেখে নকল করার সময় ধরা পড়ায় তাকে বহিষ্কার করা হয় এবং তার পরই বাইরে বিস্ফোরণ ঘটে। তবে কারা এটি ঘটিয়েছে, তা তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ের একাডেমিক সুপারভাইজার কামাল হোসেন জানিয়েছেন, সন্ধ্যার পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে তিনি বিষয়টি জানতে পেরেছেন। দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ জানান, বিস্ফোরণের তথ্য পেয়ে সেখানে তাৎক্ষণিক পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বদলে যাচ্ছে সম্পত্তির বাজারমূল্য নির্ধারণ কমিটি, বাড়তে পারে জনভোগান্তি

দৌলতপুরে পরীক্ষার্থী বহিষ্কারের পর স্কুলের পেছনে ককটেল বিস্ফোরণ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৩৩:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসির নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষা চলাকালে নকলে বাধা ও শিক্ষার্থী বহিষ্কারকে কেন্দ্র করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার বেলা তিনটার দিকে ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষার্থী বহিষ্কারের পরপরই বিদ্যালয় ভবনের ঠিক পেছনের সড়কে পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। খবর পেয়ে পাশের পুলিশ ক্যাম্প থেকে সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে একটি নিবন্ধনহীন মোটরসাইকেল জব্দ করেন।

পুলিশ জানায়, পরীক্ষার হল পরিদর্শনের সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আসাদুজ্জামান পাঁচ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মুঠোফোন জব্দ করেন। পরে কক্ষে দায়িত্বরত শিক্ষক এক পরীক্ষার্থীকে মুঠোফোন দেখে উত্তর লিখতে দেখে তাকে বহিষ্কার করেন। বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে তার কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নেয়। এর কিছুক্ষণ পরই বিদ্যালয়ের ভবনের পেছনের সড়কে বিকট শব্দে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় শিক্ষক ও পরীক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক দেখা দেয়।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা নিবন্ধনহীন মোটরসাইকেলটি স্থানীয় জামায়াত নেতা মুহাম্মদ খাজা আহমেদের। তাঁকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে স্কুল কর্তৃপক্ষ দৌলতপুর থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা করবে বলে জানা গেছে।

মোটরসাইকেলের মালিক মুহাম্মদ খাজা আহমেদ কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি এবং ফিলিপনগর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জামায়াত মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ফিলিপনগর এলাকায় একটি দরবারে হামলা চালিয়ে পীর আবদুর রহমান ওরফে শামীমকে হত্যা করার মামলার প্রধান আসামিও তিনি।

ঘটনার বিষয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কথা বললে খাজা আহমেদ দাবি করেন, তাঁর এক ভাই ও বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী সার্বক্ষণিক তাঁর সঙ্গেই থাকে এবং দুজনই এবার পরীক্ষা দিচ্ছে। পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় তাঁর ভাই মোটরসাইকেলটি নিয়ে গিয়েছিল। পরে জানতে পারেন, বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে সেটি নিয়ে গেছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ঘটনাটি বড় করে দেখা হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, ঈদের সময় ফোটানো পটকার মতো সামান্য কিছু একটা ফুটানো হয়েছে। আগামী ইউপি নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আসাদুজ্জামান জানান, বিস্ফোরণের সময় তিনি নিজের কক্ষে ছিলেন। পরীক্ষার শুরুতে শিক্ষার্থীদের মুঠোফোন জমা দিতে বলা হয়েছিল, যা কয়েকজন জমাও দিয়েছিল। এক শিক্ষার্থী মুঠোফোন দেখে নকল করার সময় ধরা পড়ায় তাকে বহিষ্কার করা হয় এবং তার পরই বাইরে বিস্ফোরণ ঘটে। তবে কারা এটি ঘটিয়েছে, তা তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ের একাডেমিক সুপারভাইজার কামাল হোসেন জানিয়েছেন, সন্ধ্যার পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে তিনি বিষয়টি জানতে পেরেছেন। দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ জানান, বিস্ফোরণের তথ্য পেয়ে সেখানে তাৎক্ষণিক পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।