লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাজেকে জেএসএস-ইউপিডিএফ ফের গোলাগুলি, সোম থেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ

রাঙামাটির সাজেক পর্যটন এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক দুই রাজনৈতিক দল জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ও ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) মধ্যে নতুন করে দফায় দফায় গোলাগুলির খবর পাওয়া গেছে। একই সাথে পর্যটন সড়কে সোমবার থেকে পুনরায় কড়াকড়িভাবে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ বাস্তবায়নের ঘোষণা এসেছে।

স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রোববার (১ নভেম্বর) বিকেল ৪টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল প্রায় ৫টা পর্যন্ত সাজেক ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ঝুরঝুরি ছড়া ও লাগোয়া লাঙ্গলমারা সীমান্ত এলাকায় দুই পক্ষ গোলাগুলিতে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা এই ঘটনায় সীমান্ত ও আশপাশের এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এলাকাটি অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় এ ঘটনায় কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি। এর আগের দিন শনিবারও সাজেকের মাচলং এলাকার দুর্গম কলাবুনিয়া ও ভাঙামুড়া স্থানে এই দুই সশস্ত্র দলের মধ্যে প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী তুমুল গোলাগুলি হয়েছিল।

গোলাগুলির ঘটনা স্বীকার করলেও এতে নিজেদের সম্পৃক্ততার দাবি নাকচ করে দিয়েছে উভয় সংগঠন। সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএসের কেন্দ্রীয় সহ-তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা জানান, তাদের দলের কোনো সদস্য এ ধরনের সশস্ত্র ঘটনায় জড়িত নন। অন্যদিকে প্রসীত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফের মুখপাত্র অংগ্য মারমাও একই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এ গোলাগুলিতে তাদের কারোর জড়িত থাকার প্রশ্নই ওঠে না। তবে সাজেক ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য পরিচয় চাকমা জানান, ঝুরঝুরি ছড়া ও লাঙ্গলমারা সীমানা এলাকায় দুই সশস্ত্র দলের গোলাগুলির কারণে সাধারণ বাসিন্দারা মারাত্মক আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

ঘটনাসংশ্লিষ্ট এলাকা সম্পর্কে সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানান, সোমবার বিকেলে সাজেকের লাঙ্গলমারা এলাকায় দুই গ্রুপের মধ্যে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে, তবে বর্তমানে এ গোলাগুলি থেমে গেছে। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, খাগড়াছড়িতে একটি সংগঠনের ডাকা অবরোধের কারণে সাজেক সড়কে কয়েকটি হালকা যানবাহন চলাচল করলেও ভারী যানবাহন চলাচল করেনি।

এদিকে সাজেক পর্যটন সড়কে টানা অবরোধ কর্মসূচি আরও জোরদার হচ্ছে। পাঁচ দফা দাবিতে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি রোববার ১১তম দিনে গড়ায়। এদিন সকাল-সন্ধ্যা অবরোধ কিছুটা শিথিল করার ঘোষণা দেওয়া হলেও খাগড়াছড়ির পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটি নামের একটি পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের ডাকা পাল্টা অবরোধের কারণে সেই শিথিলতা মাঠে কার্যকর হয়নি। ফলে কয়েকটি মোটরবাইক ও অটোরিকশা ছাড়া সাজেক সড়কে অন্য যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ ছিল। এই পরিস্থিতির মধ্যে সংগঠন দুটির নেতা বাবুধন চাকমা ও নতুনজয় চাকমা জানিয়েছেন, সোমবার থেকে সাজেক পর্যটন সড়কে আগের মতোই পূর্ণাঙ্গ অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি বহাল থাকবে। (প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:২৯ পিএম)।

জনপ্রিয় সংবাদ

মসজিদ ভিত্তিক মক্তব শিক্ষাকে দলীয়করণ মুক্ত করার নির্দেশ ধর্মমন্ত্রীর

সাজেকে জেএসএস-ইউপিডিএফ ফের গোলাগুলি, সোম থেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৩৩:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

রাঙামাটির সাজেক পর্যটন এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক দুই রাজনৈতিক দল জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ও ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) মধ্যে নতুন করে দফায় দফায় গোলাগুলির খবর পাওয়া গেছে। একই সাথে পর্যটন সড়কে সোমবার থেকে পুনরায় কড়াকড়িভাবে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ বাস্তবায়নের ঘোষণা এসেছে।

স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রোববার (১ নভেম্বর) বিকেল ৪টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল প্রায় ৫টা পর্যন্ত সাজেক ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ঝুরঝুরি ছড়া ও লাগোয়া লাঙ্গলমারা সীমান্ত এলাকায় দুই পক্ষ গোলাগুলিতে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা এই ঘটনায় সীমান্ত ও আশপাশের এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এলাকাটি অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় এ ঘটনায় কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি। এর আগের দিন শনিবারও সাজেকের মাচলং এলাকার দুর্গম কলাবুনিয়া ও ভাঙামুড়া স্থানে এই দুই সশস্ত্র দলের মধ্যে প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী তুমুল গোলাগুলি হয়েছিল।

গোলাগুলির ঘটনা স্বীকার করলেও এতে নিজেদের সম্পৃক্ততার দাবি নাকচ করে দিয়েছে উভয় সংগঠন। সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএসের কেন্দ্রীয় সহ-তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা জানান, তাদের দলের কোনো সদস্য এ ধরনের সশস্ত্র ঘটনায় জড়িত নন। অন্যদিকে প্রসীত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফের মুখপাত্র অংগ্য মারমাও একই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এ গোলাগুলিতে তাদের কারোর জড়িত থাকার প্রশ্নই ওঠে না। তবে সাজেক ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য পরিচয় চাকমা জানান, ঝুরঝুরি ছড়া ও লাঙ্গলমারা সীমানা এলাকায় দুই সশস্ত্র দলের গোলাগুলির কারণে সাধারণ বাসিন্দারা মারাত্মক আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

ঘটনাসংশ্লিষ্ট এলাকা সম্পর্কে সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানান, সোমবার বিকেলে সাজেকের লাঙ্গলমারা এলাকায় দুই গ্রুপের মধ্যে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে, তবে বর্তমানে এ গোলাগুলি থেমে গেছে। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, খাগড়াছড়িতে একটি সংগঠনের ডাকা অবরোধের কারণে সাজেক সড়কে কয়েকটি হালকা যানবাহন চলাচল করলেও ভারী যানবাহন চলাচল করেনি।

এদিকে সাজেক পর্যটন সড়কে টানা অবরোধ কর্মসূচি আরও জোরদার হচ্ছে। পাঁচ দফা দাবিতে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি রোববার ১১তম দিনে গড়ায়। এদিন সকাল-সন্ধ্যা অবরোধ কিছুটা শিথিল করার ঘোষণা দেওয়া হলেও খাগড়াছড়ির পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটি নামের একটি পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের ডাকা পাল্টা অবরোধের কারণে সেই শিথিলতা মাঠে কার্যকর হয়নি। ফলে কয়েকটি মোটরবাইক ও অটোরিকশা ছাড়া সাজেক সড়কে অন্য যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ ছিল। এই পরিস্থিতির মধ্যে সংগঠন দুটির নেতা বাবুধন চাকমা ও নতুনজয় চাকমা জানিয়েছেন, সোমবার থেকে সাজেক পর্যটন সড়কে আগের মতোই পূর্ণাঙ্গ অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি বহাল থাকবে। (প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:২৯ পিএম)।