লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংবিধানে ফিরলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট ব্যবস্থা

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ বেশ কিছু বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টায় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এই রায়ের ফলে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট ব্যবস্থা পুনরায় কার্যকর হলো।

২০১১ সালের ৩০ জুন আওয়ামী লীগ সরকার সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইন জাতীয় সংসদে পাস করেছিল। এই সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপসহ সংবিধানের ৫৪টি ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হয়। এছাড়া এই সংশোধনীর মাধ্যমে জাতির পিতা হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বীকৃতি, জাতীয় চার মূলনীতি পুনর্বহাল এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণের বিষয়গুলো সংবিধানে যুক্ত করা হয়। পাশাপাশি অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা দখল করলে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান এবং সংরক্ষিত নারী আসন ৫০টিতে উন্নীত করার মতো বিষয়গুলো এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

জুলাই অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে দুটি পৃথক রিট করা হয়। চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০২৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রায় দেন, যেখানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট বাদ দেওয়া-সংক্রান্ত সংবিধানের ২০ ও ২১ ধারা বাতিল করা হয়। সেই সঙ্গে ৭ক, ৭খ ও ৪৪(২) অনুচ্ছেদও সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে রায় দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ৮ জুলাই হাইকোর্টের ১৩৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়।

হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ চার ব্যক্তি, নওগাঁর বাসিন্দা মোফাজ্জল হোসেন এবং জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার পৃথক লিভ টু আপিল করেন। গত ১৩ নভেম্বর আপিল বিভাগ লিভ মঞ্জুর করার পর আপিল শুনানি শুরু হয়। এছাড়া পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭১ (১৯৭১) সালের ৭ মার্চের ভাষণ, ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।

আপিল শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল, আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া, শিশির মনির, কারিশমা জাহান, অনীক আর হক এবং এ এস এম শাহরিয়ার কবির। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও এই মামলায় পক্ষভুক্ত হয়েছেন। কয়েক দফায় শুনানি শেষে আপিল বিভাগ আজ এই রায় প্রদান করলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

রূপপুর প্রকল্পে ইউরেনিয়ামের চতুর্থ চালান পৌঁছাল কড়া নিরাপত্তায়

সংবিধানে ফিরলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট ব্যবস্থা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:০০:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ বেশ কিছু বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টায় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এই রায়ের ফলে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট ব্যবস্থা পুনরায় কার্যকর হলো।

২০১১ সালের ৩০ জুন আওয়ামী লীগ সরকার সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইন জাতীয় সংসদে পাস করেছিল। এই সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপসহ সংবিধানের ৫৪টি ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হয়। এছাড়া এই সংশোধনীর মাধ্যমে জাতির পিতা হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বীকৃতি, জাতীয় চার মূলনীতি পুনর্বহাল এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণের বিষয়গুলো সংবিধানে যুক্ত করা হয়। পাশাপাশি অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা দখল করলে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান এবং সংরক্ষিত নারী আসন ৫০টিতে উন্নীত করার মতো বিষয়গুলো এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

জুলাই অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে দুটি পৃথক রিট করা হয়। চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০২৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রায় দেন, যেখানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট বাদ দেওয়া-সংক্রান্ত সংবিধানের ২০ ও ২১ ধারা বাতিল করা হয়। সেই সঙ্গে ৭ক, ৭খ ও ৪৪(২) অনুচ্ছেদও সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে রায় দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ৮ জুলাই হাইকোর্টের ১৩৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়।

হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ চার ব্যক্তি, নওগাঁর বাসিন্দা মোফাজ্জল হোসেন এবং জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার পৃথক লিভ টু আপিল করেন। গত ১৩ নভেম্বর আপিল বিভাগ লিভ মঞ্জুর করার পর আপিল শুনানি শুরু হয়। এছাড়া পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭১ (১৯৭১) সালের ৭ মার্চের ভাষণ, ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।

আপিল শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল, আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া, শিশির মনির, কারিশমা জাহান, অনীক আর হক এবং এ এস এম শাহরিয়ার কবির। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও এই মামলায় পক্ষভুক্ত হয়েছেন। কয়েক দফায় শুনানি শেষে আপিল বিভাগ আজ এই রায় প্রদান করলেন।