লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডার্ক ওয়েবে ৬০ লাখ বাংলাদেশির সিভি বিক্রির দাবি হ্যাকারদের

ডার্ক ওয়েবে ৬০ লাখ বাংলাদেশি নাগরিকের জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়েছে ‘ম্যাডর‍্যাক্স’ পরিচয়ধারী একটি হ্যাকার গোষ্ঠী। আজ রোববার দুপুরে ‘ডার্ক ফোরামস ডট আর ইউ’ নামের একটি ওয়েবসাইটে এই বিজ্ঞাপনটি প্রকাশ করা হয়। হ্যাকারদের দাবি, এসব তথ্য বাংলাদেশের জনপ্রিয় চাকরির প্ল্যাটফর্ম বিডিজবসের ডেটাবেজ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।

পোস্টে হ্যাকাররা দাবি করেছে, তাদের কাছে ৬০ লাখ চাকরিপ্রার্থীর সিভি রয়েছে। এসব সিভিতে নাম, ফোন নম্বর, ঠিকানা, ই-মেইল, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণের তথ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তারা প্রতিটি সিভির কপির দাম এক হাজার মার্কিন ডলার নির্ধারণ করেছে এবং সর্বোচ্চ পাঁচজন ক্রেতার কাছে এই তথ্য বিক্রির ঘোষণা দিয়েছে। অর্থ পরিশোধের মাধ্যম হিসেবে তারা পেটিএম, ওয়াইজ, পেইউ ও বাইন্যান্সের নাম উল্লেখ করেছে।

দাবির সমর্থনে হ্যাকাররা ১৪৮টি সিভির নমুনাও প্রকাশ করেছে। বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এসব সিভির বেশির ভাগই পুরোনো এবং বিশেষ করে ২০১১ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে হালনাগাদ করা। প্রথম আলোর পক্ষ থেকে প্রকাশিত ১৪৮টি সিভির নমুনার মধ্যে দুজন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়েছে, যারা বেসরকারি চাকরিজীবী এবং কয়েক বছর আগে বিডিজবসে নিজেদের সিভি আপলোড করেছিলেন বলে নিশ্চিত করেছেন।

সাইবার নিরাপত্তাবিশেষজ্ঞরা নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও প্রযুক্তিবিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বলেন, একটি সিভিতে থাকা নাম, ফোন নম্বর, ই-মেইল, ঠিকানা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কর্মজীবনের তথ্য একসঙ্গে পেলে সাইবার অপরাধীরা একজন ব্যক্তির পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি করতে পারে। এসব তথ্য ব্যবহার করে লক্ষ্যভিত্তিক ফিশিং, ভুয়া চাকরির প্রস্তাব, পরিচয় জালিয়াতি ও আর্থিক প্রতারণা করা সম্ভব।

তবে নিজেদের ওয়েবসাইট থেকে তথ্য ফাঁসের অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিডিজবস। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ফাহিম মাশরুর বলেন, বিডিজবস শুরু থেকেই ব্যবহারকারীদের তথ্যের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আসছে। তথ্যের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ব্যবহারকারীদের প্রোফাইল দেখার ক্ষেত্রে বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রয়েছে।

ফাহিম মাশরুর আরও বলেন, বিডিজবসে নিবন্ধিত লক্ষাধিক নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে চাকরিপ্রার্থীদের তথ্য দেখতে পারে, তবে তারা এসব তথ্য শুধু নিজেদের নিয়োগপ্রক্রিয়ার জন্য ব্যবহার করতে পারে। কোনো নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান যদি এসব তথ্য তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি করে এবং তা বিডিজবসকে জানানো হয়, তবে ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

ডার্ক ওয়েবে ৬০ লাখ বাংলাদেশির সিভি বিক্রির দাবি হ্যাকারদের

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:০০:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

ডার্ক ওয়েবে ৬০ লাখ বাংলাদেশি নাগরিকের জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়েছে ‘ম্যাডর‍্যাক্স’ পরিচয়ধারী একটি হ্যাকার গোষ্ঠী। আজ রোববার দুপুরে ‘ডার্ক ফোরামস ডট আর ইউ’ নামের একটি ওয়েবসাইটে এই বিজ্ঞাপনটি প্রকাশ করা হয়। হ্যাকারদের দাবি, এসব তথ্য বাংলাদেশের জনপ্রিয় চাকরির প্ল্যাটফর্ম বিডিজবসের ডেটাবেজ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।

পোস্টে হ্যাকাররা দাবি করেছে, তাদের কাছে ৬০ লাখ চাকরিপ্রার্থীর সিভি রয়েছে। এসব সিভিতে নাম, ফোন নম্বর, ঠিকানা, ই-মেইল, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণের তথ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তারা প্রতিটি সিভির কপির দাম এক হাজার মার্কিন ডলার নির্ধারণ করেছে এবং সর্বোচ্চ পাঁচজন ক্রেতার কাছে এই তথ্য বিক্রির ঘোষণা দিয়েছে। অর্থ পরিশোধের মাধ্যম হিসেবে তারা পেটিএম, ওয়াইজ, পেইউ ও বাইন্যান্সের নাম উল্লেখ করেছে।

দাবির সমর্থনে হ্যাকাররা ১৪৮টি সিভির নমুনাও প্রকাশ করেছে। বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এসব সিভির বেশির ভাগই পুরোনো এবং বিশেষ করে ২০১১ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে হালনাগাদ করা। প্রথম আলোর পক্ষ থেকে প্রকাশিত ১৪৮টি সিভির নমুনার মধ্যে দুজন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়েছে, যারা বেসরকারি চাকরিজীবী এবং কয়েক বছর আগে বিডিজবসে নিজেদের সিভি আপলোড করেছিলেন বলে নিশ্চিত করেছেন।

সাইবার নিরাপত্তাবিশেষজ্ঞরা নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও প্রযুক্তিবিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বলেন, একটি সিভিতে থাকা নাম, ফোন নম্বর, ই-মেইল, ঠিকানা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কর্মজীবনের তথ্য একসঙ্গে পেলে সাইবার অপরাধীরা একজন ব্যক্তির পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি করতে পারে। এসব তথ্য ব্যবহার করে লক্ষ্যভিত্তিক ফিশিং, ভুয়া চাকরির প্রস্তাব, পরিচয় জালিয়াতি ও আর্থিক প্রতারণা করা সম্ভব।

তবে নিজেদের ওয়েবসাইট থেকে তথ্য ফাঁসের অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিডিজবস। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ফাহিম মাশরুর বলেন, বিডিজবস শুরু থেকেই ব্যবহারকারীদের তথ্যের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আসছে। তথ্যের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ব্যবহারকারীদের প্রোফাইল দেখার ক্ষেত্রে বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রয়েছে।

ফাহিম মাশরুর আরও বলেন, বিডিজবসে নিবন্ধিত লক্ষাধিক নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে চাকরিপ্রার্থীদের তথ্য দেখতে পারে, তবে তারা এসব তথ্য শুধু নিজেদের নিয়োগপ্রক্রিয়ার জন্য ব্যবহার করতে পারে। কোনো নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান যদি এসব তথ্য তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি করে এবং তা বিডিজবসকে জানানো হয়, তবে ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।