লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশের গণতন্ত্রের বর্তমান গতিপথ ইতিবাচক দেখছেন ৬২ শতাংশ মানুষ

যুক্তরাষ্ট্রের অলাভজনক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) সেন্টার ফর ইনসাইটস ইন সার্ভে রিসার্চ পরিচালিত দেশব্যাপী এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশের ৬২ শতাংশ উত্তরদাতা দেশের গণতন্ত্রের বর্তমান গতিপথকে ‘মোটামুটি ভালো’ বা ‘খুব ভালো’ হিসেবে দেখছেন। ৯ই আগস্ট প্রকাশিত ৫৭ পৃষ্ঠার এই রিপোর্টে উঠে এসেছে যে, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি বড় ধরনের দূরত্ব বিদ্যমান। জরিপে অংশগ্রহণকারী ৮৩ শতাংশ মানুষ মনে করেন, রাজনৈতিক অভিজাতদের সঙ্গে জনগণের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিচ্ছিন্নতা রয়েছে।

আইআরআইয়ের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের সিনিয়র ডিরেক্টর জোহানা কাও বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির সংসদীয় নির্বাচনের পর বাংলাদেশ ইতিবাচক পথে এগোচ্ছে এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আস্থা পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। তবে তিনি মনে করেন, গণতন্ত্র শক্তিশালী করা একটি চলমান প্রক্রিয়া, যার জন্য রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও ধারাবাহিক সংস্কার প্রয়োজন।

জরিপে দেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে ২২ শতাংশ উত্তরদাতা দুর্নীতিকে চিহ্নিত করেছেন। এছাড়া ১৫ শতাংশ মাদক এবং ১২ শতাংশ মানুষ আইনশৃংখলাকে প্রধান সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। গত বছরের তুলনায় মাদকের বিষয়ে উদ্বেগের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা আগে ছিল ৬ শতাংশ। নতুন সরকারের করণীয় সম্পর্কে উত্তরদাতারা জানিয়েছেন, ৩৩ শতাংশ মানুষ দুর্নীতিবিরোধী ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে চান। এছাড়া ২২ শতাংশ আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং ২১ শতাংশ সুশাসন ও রাজনৈতিক সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।

জোহানা কাও আরও বলেন, নাগরিকরা তাদের অগ্রাধিকার স্পষ্ট করেছেন। রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত নাগরিকদের প্রয়োজনের প্রতি সাড়া দেয়া এবং গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে অর্থবহ সংস্কার বাস্তবায়নে একসঙ্গে কাজ করা। স্থানীয় একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আইআরআই এই জরিপ পরিচালনা করে। ২০২৬ সালের ১৬ মে থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত সারা দেশের ৬৪ জেলা ও আট বিভাগে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী ৫ হাজার মানুষের ওপর এই জরিপ চালানো হয়। কম্পিউটার-সহায়তায় ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে সংগৃহীত এই তথ্য নমুনা সমন্বয়ের ক্ষেত্রে ২০২২ সালের আদমশুমারির সহায়তা নেয়া হয়েছে।

এরপর মাদককে শতকরা ১৫ ভাগ মানুষ প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে মত দিয়েছেন। শতকরা ১২ ভাগ মানুষ মনে করেন প্রধান সমস্যা হলো আইনশৃংখলা। মাদক নিয়ে উদ্বেগ গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালের জরিপে মাত্র ৬ শতাংশ মানুষ মাদককে দেশের বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। এবার সেই হার বেড়ে ১৫ শতাংশ হয়েছে- অর্থাৎ প্রায় তিনগুণ। নতুন সরকারের কোন বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেয়া উচিতÑ এ প্রশ্নেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন উত্তরদাতারা। সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ৩৩ শতাংশ মানুষ দুর্নীতিবিরোধী ব্যবস্থা জোরদার করাকে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে চেয়েছেন। এরপর আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা দাবি করেছেন ২২ শতাংশ মানুষ। আর সুুশাসন ও রাজনৈতিক সংস্কার দাবি করেছেন ২১ শতাংশ মানুষ।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপির সব পরিকল্পনা ও কর্মসূচি সবসময় জনবান্ধব: প্রধানমন্ত্রী

দেশের গণতন্ত্রের বর্তমান গতিপথ ইতিবাচক দেখছেন ৬২ শতাংশ মানুষ

প্রকাশিত হয়েছে: ১১:৩৭:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের অলাভজনক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) সেন্টার ফর ইনসাইটস ইন সার্ভে রিসার্চ পরিচালিত দেশব্যাপী এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশের ৬২ শতাংশ উত্তরদাতা দেশের গণতন্ত্রের বর্তমান গতিপথকে ‘মোটামুটি ভালো’ বা ‘খুব ভালো’ হিসেবে দেখছেন। ৯ই আগস্ট প্রকাশিত ৫৭ পৃষ্ঠার এই রিপোর্টে উঠে এসেছে যে, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি বড় ধরনের দূরত্ব বিদ্যমান। জরিপে অংশগ্রহণকারী ৮৩ শতাংশ মানুষ মনে করেন, রাজনৈতিক অভিজাতদের সঙ্গে জনগণের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিচ্ছিন্নতা রয়েছে।

আইআরআইয়ের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের সিনিয়র ডিরেক্টর জোহানা কাও বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির সংসদীয় নির্বাচনের পর বাংলাদেশ ইতিবাচক পথে এগোচ্ছে এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আস্থা পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। তবে তিনি মনে করেন, গণতন্ত্র শক্তিশালী করা একটি চলমান প্রক্রিয়া, যার জন্য রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও ধারাবাহিক সংস্কার প্রয়োজন।

জরিপে দেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে ২২ শতাংশ উত্তরদাতা দুর্নীতিকে চিহ্নিত করেছেন। এছাড়া ১৫ শতাংশ মাদক এবং ১২ শতাংশ মানুষ আইনশৃংখলাকে প্রধান সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। গত বছরের তুলনায় মাদকের বিষয়ে উদ্বেগের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা আগে ছিল ৬ শতাংশ। নতুন সরকারের করণীয় সম্পর্কে উত্তরদাতারা জানিয়েছেন, ৩৩ শতাংশ মানুষ দুর্নীতিবিরোধী ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে চান। এছাড়া ২২ শতাংশ আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং ২১ শতাংশ সুশাসন ও রাজনৈতিক সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।

জোহানা কাও আরও বলেন, নাগরিকরা তাদের অগ্রাধিকার স্পষ্ট করেছেন। রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত নাগরিকদের প্রয়োজনের প্রতি সাড়া দেয়া এবং গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে অর্থবহ সংস্কার বাস্তবায়নে একসঙ্গে কাজ করা। স্থানীয় একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আইআরআই এই জরিপ পরিচালনা করে। ২০২৬ সালের ১৬ মে থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত সারা দেশের ৬৪ জেলা ও আট বিভাগে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী ৫ হাজার মানুষের ওপর এই জরিপ চালানো হয়। কম্পিউটার-সহায়তায় ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে সংগৃহীত এই তথ্য নমুনা সমন্বয়ের ক্ষেত্রে ২০২২ সালের আদমশুমারির সহায়তা নেয়া হয়েছে।

এরপর মাদককে শতকরা ১৫ ভাগ মানুষ প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে মত দিয়েছেন। শতকরা ১২ ভাগ মানুষ মনে করেন প্রধান সমস্যা হলো আইনশৃংখলা। মাদক নিয়ে উদ্বেগ গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালের জরিপে মাত্র ৬ শতাংশ মানুষ মাদককে দেশের বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। এবার সেই হার বেড়ে ১৫ শতাংশ হয়েছে- অর্থাৎ প্রায় তিনগুণ। নতুন সরকারের কোন বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেয়া উচিতÑ এ প্রশ্নেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন উত্তরদাতারা। সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ৩৩ শতাংশ মানুষ দুর্নীতিবিরোধী ব্যবস্থা জোরদার করাকে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে চেয়েছেন। এরপর আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা দাবি করেছেন ২২ শতাংশ মানুষ। আর সুুশাসন ও রাজনৈতিক সংস্কার দাবি করেছেন ২১ শতাংশ মানুষ।